সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকান্ড

দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকান্ড

গত রবিবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মিরপুরের দিক থেকে আসা জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ফ্লাইওভার দিয়ে নামার সময় একই পরিবহনের দুটি গাড়ি পাল্লা দিচ্ছিল। তারই একটি শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। খবর পেয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা বেশ কিছু গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সোমবারও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই বাসচালক ও দুই সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। নিহত ছাত্রী দিয়ার বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় জাবালে নূর পরিবহনের বিরুদ্ধে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু যেন দেশের মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো প্রতিকার নেই। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে, একটি পরিবার হয়তো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, প্রিয়জনের অকালমৃত্যুতে একটি পরিবারে চিরদিনের জন্য শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু বাস মালিক-শ্রমিকদের কোনো বিকার নেই। কুর্মিটোলায় বাসচাপায় নিহত আবদুল করিম ও দিয়া খানমের পরিবারের স্বপ্ন ছিল তাদের নিয়ে। দুটি পরিবারের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পিষে দিল ঘাতক বাস। দিয়ার বাসচালক বাবা জাহাঙ্গীর আলম তাঁর মেয়েকে যথার্থ শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, ভর্তি করিয়েছিলেন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। তাঁর স্বপ্নও পিষে ফেলেছে তাঁরই সহকর্মীরা।
রাজধানীর গণপরিবহনে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সড়ক-মহাসড়ক, এমনকি রাজধানীতেও অবাধে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। দেখার কেউ নেই, আইন প্রয়োগের কোনো বালাই নেই। রাজধানী ঢাকায় যানবাহন, বিশেষ করে পাবলিক বাস চলাচলে কোনো নিয়মনীতি আছে বলে মনে হয় না। আগে বাসের টিকিটের ব্যবস্থা ছিল। এখন হাতে গোনা কয়েকটি বাদে অন্য সব বাসে টিকিট তুলে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো স্টপেজে বাস থামবেÑএই নিয়ম মানা হয় না। স্টপেজে যেভাবে বাসে যাত্রী তোলা হয়, তাকে অনেকটা যাত্রী ছিনতাই বলা যেতে পারে। ঢাকার পাবলিক ট্রান্সপোর্টে শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, যে পরিবহন কম্পানির বাস শিক্ষার্থীদের চাপা দিয়েছে, সেই পরিবহনের একটি বাসও কি ফিটনেস পাওয়ার যোগ্য? কে দেখবে এসব? ফিটনেসবিহীন বাস রাজপথে চালানোর অভিযোগে বাস মালিকের বিরুদ্ধেও তো মামলা হওয়া উচিত। রবিবারের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকা-। এ হত্যাকা-ের দ্রুত বিচার করতে হবে। অভিযুক্ত বাসের মালিক-শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কাম্য।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher