সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

বর্ষা এলে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার বেড়ে যায়। কারণ এ সময়ে যেখানে-সেখানে পরিষ্কার পানি জমে থাকে বলে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বাড়ে সংক্রমণের হারও। এ বছর বর্ষা আসার অনেক আগে থেকেই ধারাবাহিক বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মশার উপদ্রবও অনেক বেড়ে গেছে। বেড়েছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। গত বছর পুরো ডেঙ্গু মৌসুমে আক্রান্ত হয়েছিল দুই হাজার ৭৬৯ জন। এ বছর জুলাই মাসের শুরুতেই রোগীর সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৯০৫-এ। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো মৌসুমে রোগীর সংখ্যা গত বছরের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। অথচ মশা নিধন ও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা খরচ হয়।
ঢাকা মহানগরীতে সর্বত্রই ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জরিপেও দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৭টিই ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ পাওয়া গেছে। এর জন্য দীর্ঘায়িত বর্ষা যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী মানুষের অসচেতনতা। যেখানে-সেখানে ডাবের খোসা, বোতল, ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার বা বিভিন্ন ধরনের পাত্র ফেলে রাখা এবং সেগুলোতে বৃষ্টির পানি জমা হওয়া, ফুলের টবে পানি জমিয়ে রাখা, ঘরের ভেতর কয়েক দিন ধরে ফুলদানি বা বিভিন্ন পাত্রে পানি ধারণ করাসহ আরো অনেকভাবেই আমরা এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়তা করছি। সিটি করপোরেশনগুলোর মশা নিধন কর্মসূচি নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। উচ্চ শব্দের ফগার মেশিন দিয়ে ছিটানো ধোঁয়ায় কোনো কাজ হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদুপরি বহু এলাকায় এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। আবার অনেক অভিজাত এলাকায় সিটি করপোরেশনের কর্মীকে বাড়ির মধ্যেই ঢুকতে দেওয়া হয় না। সেসব স্থানের মশা নিধন করাও সম্ভব হয় না। ফলে শুধু ডেঙ্গু নয়, মশাবাহিত অন্যান্য রোগেও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। চিকুনগুনিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতাও ভালো নয়। সেই সঙ্গে মশার উৎপাত ও যন্ত্রণাদায়ক কামড় তো আছেই। ডেঙ্গুর ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে গত দুই দশকে এর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০০০ সালে এই ডেঙ্গুতে ৯৩ জন মারা গিয়েছিল এবং আক্রান্ত হয়েছিল সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি। এরপর থেকে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কিছুটা কমলেও এখনো তা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা যদি আরো বেড়ে যায়, সেটি হবে নগরবাসীর জন্য আরেকটি বড় দুঃসংবাদ। পরিস্থিতির যাতে আরো অবনতি না হয় সে জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে মশা নিধন কর্মসূচিতে আরো বেশি জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি মনিটর করতে হবে এবং দেশে ডেঙ্গু রোগীর ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করতে হবে। সেই সঙ্গে নাগরিকদেরও সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher