সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

ইসি নিয়ে আস্থার সংকট, গ্রহণযোগ্য নিবার্চনই কাম্য

ইসি নিয়ে আস্থার সংকট, গ্রহণযোগ্য নিবার্চনই কাম্য

আসন্ন সিটি করপোরেশন নিবার্চন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিবার্চনী প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থার সংকট বাড়ছে কি-নাÑ এমন প্রশ্ন আলোচিত হচ্ছে। সম্প্রতি বিবিসি বাংলার জরিপে এমনই এক উদ্বেগের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নিবার্চনে রাজনৈতিক দলগুলো লড়াইয়ে নেমেছে। খুলনা ও গাজীপুরÑ এ দুটি সিটির নিবার্চন ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটির। স্থানীয় সরকার নিবার্চন স্বাভাবিকভাবেই উৎসবমুখর হয়। খুলনা ও গাজীপুরে সেটা লক্ষ করা গেছে। আবার আসন্ন তিন সিটির নিবার্চন বিদেশি কূটনীতিকরা গভীরভাবে পযের্বক্ষণ করছেন এমন তথ্যও জানা গেছে। এ অবস্থায় খুলনা ও গাজীপুর সিটির নিবার্চন নিয়ে ইসির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও বিএনপি সংশ্লিষ্টরা ইসিকে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ আখ্যা দেয়ায়, আস্থার সংকটের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। অথচ যে কোনো অবস্থায় সবর্জনগ্রহণযোগ্য নিবার্চনই দেশবাসী প্রত্যাশা করে।
গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেছেন, প্রত্যেকটি জায়গায় একই ঘটনা ঘটলেও, বিশেষ করে গাজীপুরের ঘটনায় অভিযোগ করার পরও ইসি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, স্বাধীনতা-পরবতীর্ সময়ে দেশে যত রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বা যত আন্দোলন হয়েছে তার সবই হয়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও নিবার্চন নিরপেক্ষ করার বিষয়কে কেন্দ্র করে। এমনকি এজন্য দেশবাসীকে অনেক চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে অজির্ত সাফল্য, আমাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই আমরা তা ধরে রাখতে পারিনি। দেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিবার্চনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি রূঢ় বাস্তবতা হলেও রাজনৈতিক অদূরদশির্তার কারণে আমরা তা উপেক্ষা করতে চেয়েছিলাম। সঙ্গত কারণেই ১৯৯৬ সালে একটি একতরফা নিবার্চনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আমাদের। আর এর ফলটা মোটেই শুভ হয়নি, আমরা বিষয়টির বুঝেছি কিন্তু বেশ বিলম্বে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুতেই পরিবতর্ন আসে, আর সে ব্যবস্থার সঙ্গেই খাপ খাইয়ে চলার শিক্ষাটাও আমাদের জন্য জরুরি হতে পারে। নিবার্চন কমিশন মূলত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কমিশনের মযার্দা, দায়িত্ব ও গুরুত্ব অন্য সব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি। তাই কমিশনের কতর্ব্য নিবার্চন ও নিবার্চন সংশ্লিষ্ট সব কাজ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সম্পূণর্ নিরপেক্ষভাবে সম্পাদন করা। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় যে, অতীতে দেশের প্রায় প্রতিটি নিবার্চনেই কমিশনগুলো সে পরীক্ষায় উত্তীণর্ হতে পারেনি এবং সমালোচনার মুখে পড়েছে। ফলে অতীতে অনুষ্ঠিত নিবার্চনগুলো সবর্মহলে গ্রহণযোগ্য হয়নি বরং তা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে গেছে- এমন অভিযোগ রাজনৈতিক দলগুলোর। এতে দেশ ও জাঁতি নিবার্চনকেন্দ্রিক সংকটে পড়ার বিষয়টিও অমূলক নয়। বতর্মান ইসি নিয়ে আবার যখন আস্থার সংকটের বিষয়টি আসনে আসছে, তখন তা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা সঙ্গত বলেই আমরা মনে করি। বতর্মান সরকার দলীয় সরকারের অধীনে নিবার্চন করার জন্য সংবিধান সংশোধন করেছে। এ বাস্তবতায় দলীয় সরকারের অধীনই আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যে কারণে দলীয় সরকারের অধীন নিবার্চন কেমন হবেÑ এমন কৌতূহলও আছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বতর্মান রাজনৈতিক দলগুলো সিটি করপোরেশনের নিবার্চনে যেভাবে ব্যাপক লড়াইয়ে নেমেছে, তাতে দলীয় সরকারের অধীন নিবার্চনও যে সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে, তা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকার অস্বীকার করতে পারে না। নিবার্চন কমিশন নিয়ে মানুষের আস্থার সংকট মাঝে মধ্যেই তৈরি হয়। সিটির নিবার্চন সবর্জন গ্রহণযোগ্য না হলে সে দায় ইসি এড়াতে পারবে না বলেই মনে করা যায়। সবোর্পরি বলতে চাই, নিবার্চন সম্পূণর্ ত্রুটিমুক্ত করতে ইসির যে ক্ষমতা তার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোরও কতর্ব্য হওয়া দরকার ইসিকে সবোর্তভাবে সহযোগিতা দিয়ে গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের নজির স্থাপন করা। নিবার্চন নিয়ে দেশ নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে পড়-ক তা কেউ প্রত্যাশা করে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher