মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

মাথায় মল ঢেলে সুপারকে লাঞ্ছিতের ঘটনার প্রধান আসামি গ্রেফতার। জামাই সোহরাব বাহিনীর দাপটে অতিষ্ট এলাকাবাসি

মাথায় মল ঢেলে সুপারকে লাঞ্ছিতের ঘটনার প্রধান আসামি গ্রেফতার। জামাই সোহরাব বাহিনীর দাপটে অতিষ্ট এলাকাবাসি

বি নিউজ : মাদ্রাসা সুপারের মাথায় মল ঢেলে লাঞ্ছিতের ঘটনার মূলহোতা ও মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা জেলার বেড়া থানা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর খন্দকারকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার বিকেলে তাকে জেলার বাকেরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর খন্দকার বাকেরগঞ্জের লোচনাবাদ গ্রামের মৃত ইসতেহার খন্দকারের পুত্র। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মাসুদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর খন্দকারকে আদালতে সোপর্দ করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
সূত্রমতে, ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ ও মাদ্রাসার সম্পত্তি দখলে ব্যর্থ হয়ে গত ১১ মে সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার মাওলানা আবু হানিফার মাথায় মল ঢেলে লাঞ্ছিত করে জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় মাওলানা আবু হানিফা বাদি হয়ে জাহাঙ্গীর খন্দকারকে প্রধান করে আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর গ্রেফতার এড়াতে জাহাঙ্গীর খন্দকার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকেরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল হক অভিযান চালিয়ে পাবনার বেড়া থানা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর খন্দকারকে গ্রেফতার করেন।
এ ঘটনার পর থেকে জাহাঙ্গীর খন্দকার এর মেয়ে জামাই সোহরাব হোসেন মৃধা পলাতক রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক নেতা জানান, সোহরাব হোসেন কে অনৈতিক কাজের জন্য জাতীয় পার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়। আওয়ামীলীগ সরকারের নাম ভাংগিয়ে শশুরের দাপটে। এলাকার তিন টি স্কুলের মেনেজিং কমিটির সভাপতির পদ দখল করে রেখেছে। সোহরাবের ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে এলাকাবাসি তাদেও বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন না। তার এ বাহিনি এলাকায় মাদক চাদাবাজি সহ বিভিন্ন কাজে লিপ্ত। থানায় তাদের নামে বিভিন্ন সময় মৌখিক অভিযোগ করলেও লিখিত অভিযোগ করতে ভয় পান এলাকাবাসি। পুলিশ লিখিত কোন অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এতদিন কোন ব্যাবস্থানিতে পারেননি বলে জানান পুলিশ। মাদ্রাসা সুপারের মাথায় মল ঢেলে লাঞ্ছিতর ঘটনার পরে সোহরাবের বাড়ী তল্লাশি করে বেস কিছু দেশিও অস্ত্র উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এর পর থেকে সোহরাব পলাতক থাকলেও তার ক্যাডারেরা এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন ভাবে এলাকাবাসিকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher