সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

তিনদিনের ছুটিতে পর্যটন এলাকাগুলোতে মানুষের ঢল

তিনদিনের ছুটিতে পর্যটন এলাকাগুলোতে মানুষের ঢল

????????????????????????????????????

বি নিউজ : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে তিনদিনের ছুটিতে দেশের পর্যটনস্থান গুলো মানুষের সমাগমে পরিপূর্ণ হয়েছে। সম্পূর্ণ বুকিং হয়ে আছে ১৫০টি আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট। আশপাশের বাসাবাড়িতেও উঠছেন পর্যটকরা। শুক্রবার বিভিন্ন পর্যটন এলাকা থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
কক্সবাজার: ২০২১ বরণ ও ২০২০-এর বিদায়কে ঘিরে কক্সবাজারে এসেছিলেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। তারপর থেকে সৈকতে তেমন একটা লোকসমাগম ছিল না। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা তিনদিনের ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছেন কয়েক লাখ পর্যটক। এতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই আগাম বুকিং হয়ে আছে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্টের সবগুলোই। এসব হোটেল-রিসোর্টে দেড় লাখ মানুষের রাত যাপনের সুযোগ থাকলেও বাকি পর্যটকরা রাতে কোথায় থাকবেন তা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশের টিম। মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটন স্পটগুলো। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সৈকতে। ঢাকার উত্তরা থেকে আসা পর্যটক আমিন উদ্দিন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন কোথাও যাওয়া হয়নি। তাই টানা বন্ধ পেয়ে বাড়ির সবাইকে নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। এত লোকসমাগম হবে, কল্পনাও করতে পারিনি। হোটেল হোয়াইট অর্কিডের মহাব্যবস্থাপক রিয়াদ ইফতেকার বলেন, শীত মৌসুম শেষ হয়েছে। ফাগুনের শুরুতে টানা তিনদিনের ছুটি পেয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে এসেছে। সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের সবই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। কলাতলীর মোহাম্মদীয়া গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, হোটেল-মোটেলে যে পরিমাণ ধারণ ক্ষমতা, তার চেয়ে লোকসমাগম অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে। রুম বুকিং করে যারা এসেছেন, তারা ছাড়া বাকিরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। কারণ দেড় লক্ষাধিক মানুষের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও কক্সবাজারে ৪-৫ লাখ পর্যটকের আগমন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে প্রচুর লোকজন এসেছে। আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রোধে চেষ্টা চালাচ্ছি। যে কোনো ধরনের হয়রানি রোধে জেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত হোটেল-মোটেল জোনে টহলে রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটক নিরাপত্তায় সৈকত ও আশপাশে পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বীচ বাইক নিয়েও রয়েছে টহল। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ পুরো সৈকত পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের সেবা দিতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে। সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্যকেন্দ্র। পর্যটকদের করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বদা সচেতনতামূলক মাইকিং ও প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবসময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকদের হয়রানি রোধে, পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে এবং পর্যটক বেশেও পুলিশের নারী সদস্যরা সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
বান্দরবান: টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কার মধ্যেও বান্দরবানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার থেকে রোববার তিন দিনের ছুটির কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও হোটেল-মোটেলে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। বান্দরবানের মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, নীলগীরিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে সকাল থেকে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন এবং বান্দরবানের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িরচালক মো. জামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে করোনার কারণে বান্দরবানে আমরা গাড়ি চালাতে পারি নাই, কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও হোটেল-মোটেলে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তাই আমরা পর্যটকদের বিভিন্ন র্পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণের জন্য নিয়ে যেতে পারছি। বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়ির চালক বাপ্পী বড়ুয়া বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটক এসেছে। আমাদের মালিক সমিতির ট্যুরিস্টবাহী বেশিরভাগ জিপ গাড়িগুলো বুকিং রয়েছে তিন দিনের জন্য। বান্দরবানের আবাসিক হোটেল গ্রীনল্যান্ডের স্বত্তাধিকারী মো. মহিউদ্দিন বলেন, তিন দিনের ছুটি থাকায় বান্দরবানে পর্যাপ্ত পর্যটকের আগমন ঘটেছে। আমাদের বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে, পর্যটকদের সেবা দিতে আমরাও প্রস্তুত রয়েছি। বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, তিন দিনের ছুটিতে বান্দরবানে বেশ পর্যটকের সমাগম হয়েছে, বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। জেলা সদরের হোটেল-মোটেলের রুম বুকিং হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরতে চলে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বান্দরবান জেলায় ৬০টি হোটেল-মোটেল রয়েছে আর পর্যটকবাহী যান রয়েছে প্রায় চার শতাধিক এবং এই পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত জেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এদিকে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, বান্দরবান একটি পর্যটন জেলা আর এই জেলাতে সবসময় দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম হয়। ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটি ঘিরে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ইতোমধ্যে প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে এবং বান্দরবান জেলা পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।
পটুয়াখালী: কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এখন লোকে লোকারণ্য। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টাতেও দীর্ঘ লাইন দেখা যায় লেবুখালী ফেরিঘাটে। শত শত পরিবহন বাস ও প্রাইভেট কার অপেক্ষায় আছে কুয়াকাটায় আসার জন্য। ট্যুরিস্ট পুলিশের পুরো দল অক্লান্ত পরিশ্রম করছে পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য। পর্যটন হলিডে হোমস ব্যবস্থাপক সুভাস নন্দি বলেন, টানা তিনদিন আমাদের বুকিং রয়েছে। প্রচুর ট্যুরিস্ট এসেছে। ইলিশ পার্ক ইকো রিসোর্টের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ওয়াদুদ সজিব বলেন, এক সপ্তাহ আগেই আমাদের সবগুলো কটেজ বুক হয়ে আছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি গার্ডেনে তাবুতে কিছু অতিথিকে রাখার জন্য। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) এর সেক্রেটারি জেনারেল আনোয়ার হোসেন আনু জানান, এই সপ্তাহে কুয়াকাটায় আবাসিক ধারন ক্ষমতার বেশি পর্যটক আসায় অনেকটা হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য। ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সোহরাব হোসাইন জানান, নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher