মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১২:৪০ অপরাহ্ন

দু’ডজনেরও বেশি বিশ্ববিদ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ

দু’ডজনেরও বেশি বিশ্ববিদ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ

বি নিউজ : বেসরকারি দু’ডজনেরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এক যুগেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই আইনের তোয়াক্কা না করেই অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বার বার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও ওসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা আমলে নিচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, আইন মানার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদার নীতির কারণেই এমনটি হচ্ছে। তাছাড়া অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেই প্রভাবশালীরা জড়িত। ফলে আইন অমান্যকারী ওসব বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন মানতে বাধ্য করতে গিয়ে ইউজিসির কর্মকর্তারাও নানা সময়ে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি এমন ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইউজিসি কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিগুলোতে প্রভাবশালী কে কে জড়িত আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১০ সালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়নের পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকার একাধিকবার সময় দিয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে। বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০৭টি। তার মধ্যে ৯৮টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চলছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭ বছরের মধ্যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে। সে অনুযায়ী ৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ৭ বছর অতিক্রম করছে। কিন্তু ওই ৭৮টির মধ্যে মাত্র ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ওই হিসাবে এখনো ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তাছাড়া আইন অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ৭ বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে স্থায়ী সনদ নিতে ব্যর্থ হলে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হয়। সরকার ৫ বছর নবায়ন বৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তুবিশ্ববিদ্যালয়গুলো নবায়নেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সব মিলিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় পাওয়া যায় ১২ বছর। এমন সুযোগ পেয়েও ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি। সেজন্যই এবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলো।
সূত্র জানায়, বিগত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটি বিরুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস করেছে। কিন্তু এখনো সোবহানবাগে বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে যেতে গড়িমসি করছে। মূলত ছাত্র সংখ্যা কমে যাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাচ্ছে না। তবে ইউজিসি ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে। তাছাড়া ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পরেও প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি। এতোদিন পরও স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠানটির আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। একই অবস্থা নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইউজিসির কাছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে অননুমোদিত ক্যাম্পাস থাকার প্রমাণ রয়েছে। আর আশা ইউনিভার্সিটির ১০টি প্রোগ্রামের মধ্যে ৮টি প্রোগ্রামের শিক্ষা কার্যক্রম ২০১৭ সালের মধ্যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তুবিশ্ববিদ্যালয়টি ওই নির্দেশনা পালন করেনি। এত বছরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ঢাকার তুরাগে মাত্র ১টি টিনসেড ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বনানীতে অবস্থিত সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে অননুমোদিত ক্যাম্পাস/ভবন থাকার প্রমাণ রয়েছে। আর ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের ধানমন্ডিজুড়ে ক্যাম্পাস। ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাস চলছে।
সূত্র আরো জানায়, ইউজিসির তথ্যানুযায়ী ১২ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি. ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সস, প্রাইম এশিয়া, রয়েল ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ইউসিজির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ জানান, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক সনদ ও নবায়ন এই দুটি মিলিয়ে ১২ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ওই লক্ষ্যে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি সংশ্লিষ্ট আইন না মানা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাবও খতিয়ে দেখবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher