সোমবার, ১১ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
করোনায় আরও ২৫ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৭১ সহজে আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং নতুন করে বেসরকারি কলেজে আর অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের অনুমোদন দেয়া হবে না দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিচ্ছে তুরস্ক এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জনের মৃত্যু : যাত্রী কল্যাণ সমিতি দাম কমেছে চাল-পেঁয়াজের, বেড়েছে ভোজ্যতেলের : টিসিবি করোনায় ২৪ ঘন্টায় ২২ মৃত্যু, শনাক্ত ৬৯২ এবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিদ্যুৎ রফতানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার রাজধানীতেই ঘটছে অধিকাংশ অগ্নিকান্ডের ঘটনা, মানা হচ্ছে না নির্দেশনা বরিশাল রেঞ্জের সেরা অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত কলাপাড়ার ওসি মোস্তাাফিজুর রহমান
স্বর্ণ চোরাচালানের অপরাধীরা বর্তমানে সীমান্তের স্থলপথ বেশি ব্যবহার করছে

স্বর্ণ চোরাচালানের অপরাধীরা বর্তমানে সীমান্তের স্থলপথ বেশি ব্যবহার করছে

বি নিউজ : স্বর্ণ চোরাচালানে প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন রুট ব্যবহার করে হচ্ছে । কখনো আকাশপথে, কখনো হচ্ছে নৌপথে স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে। তবে করোনা মহামারীর মধ্যে স্থলপথ স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে সীমান্ত এলাকা থেকেই পাচারের সময় ৮৭ কেজি ৭৬৬ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। করোনা মহামারীতে বিমানের ফ্লাইট নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসার পাশাপাশি তল্লাশি জোরদার হওয়াতে স্বর্ণ চোরাচালানের ক্ষেত্রে অপরাধীরা এখন স্থলপথ বেশি ব্যবহার করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত বছর দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে পাচারের সময় ৮৭ কেজি ৭৬৬ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। তার মধ্যে অক্টোবরে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ উদ্ধার হয়। ওই মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৬ কেজি ৫৫৬ কেজি স্বর্ণ। তবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২৫টিরও বেশি মামলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত বছরজুড়ে করোনা মহামারীর কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। যেসব ফ্লাইট চলেছে, তাতেও ছিল জোর তল্লাশি। ওসব কারণে ওই সময় চোরাকারবারিরা রুট পরিবর্তন করে স্থলপথ ব্যবহার শুরু করে। কৌশলে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা করতে থাকে। যদিও স্বর্ণ চোরাচালান রোধে নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক দিয়ে বৈধ পথে মূল্যবান ধাতুটি আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাতে কাক্সিক্ষত সাড়া মিলছে না। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে বৈধভাবে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের বার আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ওই বিমানবন্দর দিয়ে সব মিলিয়ে ১৪০ কেজি স্বর্ণের বার ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা হয়েছে। তার মধ্যে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ মাস করোনার কারণে আকাশপথে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ওই সময় বিদেশ থেকে আকাশপথে কোনো স্বর্ণ আমদানি হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, নিয়মানুযায়ী ব্যাগেজ রুলের আওতায় একজন যাত্রী বিদেশ থেকে ফেরার সময় ঘোষণা দিয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের বার নিয়ে আসতে পারে। তাতে সর্বোচ্চ দুটি বার আনা যায়। বৈধভাবে স্বর্ণের বার আমদানির জন্য প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক-কর ২ হাজার টাকা। তবে বিদেশ থেকে ফেরার সময় একজন যাত্রী ১০০ গ্রাম ওজনের (প্রায় সাড়ে আট ভরি) স্বর্ণালঙ্কার বিনা শুল্কে আনতে পারে। তবে একই রকমের অলঙ্কার ১২টির বেশি আনা যায় না।
এদিকে সীমান্তে স্থলপথে স্বর্ণ চোরাচালান বিষয়ে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৭৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। আর চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই সময় ৩ হাজার ৫৯৪ জনকে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher