বুধবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
টিমওয়ার্ক দুর্নীতি হয়, তবে ব্যক্তিগত দুর্নীতি বেশি: পরিকল্পনামন্ত্রী ভর্তি ও টিউশন ফি আদায়ে অনেক স্কুলই মাউশির নির্দেশনা মানছে না দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতির রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া-মোনাজাত মোবাইল প্রেম অতপর: কুয়াকাটায় বেড়াতে এনে প্রেমিকাকে ধর্ষণ! করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২২ মৃত্যু, শনাক্ত আরও ৮৪৯ জন বেসরকারি খাতে অনাদায়ী রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দেশের মহাসড়ক এবং এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলাচলে টোল দিতে হবে করোনায় আরও ২৫ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৭১ সহজে আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং
ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক -স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে

ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক -স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে

বেশ কিছুদিন ধরে দেশে ভাস্কর্য ও মূর্তি বিষয়ক বিতর্ক চলছে। মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করার পর দেশজুড়ে এর প্রতিবাদ শুরু হয়। এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ যখন একটি আন্দোলনের গতি পাবে তখন বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্থাপিত মধুদার ভাস্কর্য কে বা কারা ভাঙ্গার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে। তারা ভাস্কর্যের কান ভেঙ্গে ফেলে। রাতেই বিষয়টি জানতে পেরে ভাস্কর্যের ভেঙে ফেলা অংশটি পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। জানা যায়, মধুদার ভাস্কর্যের অংশবিশেষ ভাঙার বিষয়টি নজরে আসার পর প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীকে জানানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য এসে ভাস্কর্যের ভাঙা অংশটি পুনঃস্থাপন করেন। তবে প্রক্টরের ভাষ্যমতে, মধুর ক্যান্টিনের সামনে উপস্থিত ব্যক্তিরাই কানটি পুনঃস্থাপন করেছেন। মধুসূদন দে, যিনি ‘মধুদা’ নামেই পরিচিত, ছিলেন মধুর ক্যান্টিনের প্রতিষ্ঠাতা। মধুদা সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করে। মধুদার স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থিত রেস্টুরেন্টের নামকরণ করা হয় ‘মধুর ক্যান্টিন’। মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্যটি মধুর ক্যান্টিনের সামনে থাকা গোলঘরের জানালার ঠিক পাশেই অবস্থিত। তবে শুরুতে ভাস্কর্যটি ক্যান্টিনের একটি দরজার সামনে স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমদ ভাস্কর্যটির প্রথম উদ্বোধন করেন। বর্তমান অবস্থানে ভাস্কর্যটির পুনর্নির্মাণের পর ২০০১ সালে এটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী। ভাস্কর্যটির ভাস্কর তৌফিক হোসেন খান।
স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ধ্বংসের জন্য প্রথম থেকেই মুখিয়ে আছে। দেখা যায় প্রতি বছর সনাতন ধর্মালম্বীদের দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন অজুহাতে মূর্তি ভাঙ্গার উৎসব চলে। এগুলোর মধ্য দিয়ে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে ভীতি সঞ্চার করতে চায়। দেশকে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় একটি গোষ্ঠী। তারই ধারাবাহিকতায় তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধৃষ্টতা দেখাতে পেরেছে। মুধর ক্যান্টিনের ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি এইসব ধর্মীয় মৌলবাদীদের প্রকাশ্যে আস্ফালনের কারণে ঘটেছে। আমরা এই বিষয়ে সরকার ও তার সংশ্লিষ্ট মহলকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহবান করছি। মধুদার ভাস্কর্য ভাঙ্গা কাদের মদদে, কারা করেছে তদন্ত করে বের করতে হবে। এবং এই সংশ্লিষ্ট দোষীদের কঠিন সাজা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। নতুবা ভবিষ্যত বাংলাদেশের সেই চিত্র পাল্টে যেতে পারে যা মহান স্বাধীনতার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল। স্বাধীনতার মাসে আমাদের প্রত্যাশা, যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধীতা করেছিল, তাদের ও তাদের দোসরদের দেশপ্রেমী বাঙালিরা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher