বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

অস্ত্র ঠেকিয়ে রেকর্ড কক্ষে ঢুকে দলিল ঘষামাজার অভিযোগ

অস্ত্র ঠেকিয়ে রেকর্ড কক্ষে ঢুকে দলিল ঘষামাজার অভিযোগ

বি নিউজ : কুমিল্লার সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ঢুকে দিনের বেলায় কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলিল ঘষামাজা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তেরো দিন পর আবুল বাসার সাজ্জাদ (৪০) নামে এক দলিল লেখকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আবদুস সামাদ বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতয়ালি থানার (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর (শনিবার) ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। বেলা ২টার দিকে কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন অফিস সহকারী মো. আবদুস সামাদ। তার সঙ্গে ছিলেন মোহরাব মো. আজাদ ও পিয়ন আবদুল জলিল। এ সময় দলিল লেখক মো. আবুল বাসার সাজ্জাদ ও অজ্ঞাত আরও কয়েক ব্যক্তি তাদের দিকে অস্ত্র তাক করে। এরপর তারা আবদুস সামাদের কাছে থাকা রেকর্ড কক্ষের চাবি কেড়ে নেয়। এরপর দ্রুত রেকর্ড কক্ষের দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। সে সময় অফিস সহকারী ওই কক্ষের দিকে এগোতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং পিস্তল তাক করা হয়। এরই ফাঁকে দলিল লেখক সাজ্জাদ একটি দলিল নিয়ে রেকর্ড কক্ষ থেকে রেজিস্ট্রি অফিসের বাইরে যায়। কিছুক্ষণ বাইরে থাকার পর পুনরায় দলিলটি নিয়ে এসে পিয়ন জলিলের হাতে তুলে দেয় সে। একই সঙ্গে এই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হত্যা ও চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে যায়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দলিল খুলে দেখা যায়, দলিল লেখক সাজ্জাদ যে দলিল নিয়ে বাইরে গিয়েছিল সেটি একটি আমমোক্তারনামা দলিল, যা গত ১৩ অক্টোবর নিবন্ধন করা হয়। এতে দলিলের প্রকৃতি পরিবর্তনসহ ৯ নম্বর পাতার বিভিন্ন বিষয় সংযুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এই ঘটনা নিবন্ধনের মহাপরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শককে জানানো হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হয়। মামলার বাদী মো. আবদুস সামাদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে এই মামলার বাদী করা হয়েছে। এজাহারে তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে দলিল লেখক আবুল বাসার সাজ্জাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কোতয়ালি মডেল থানার ওসি জানান, অস্ত্র দিয়ে দলিল ছিনিয়ে নেওয়া এবং ঘষামাজার অভিযোগে একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা অজ্ঞাতনামা। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher