শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
ভ্যাটের হিসাবপত্র ছাড়া ব্যবসা, ‘মি. বেকার’র ব্যাংক হিসাব তলব করোনায় আরও ২৪ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৬৯৬ সাংবাদিক রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিন্দা মিল মালিকদের চাহিদা অনুসারে ভোগ্যপণ্য সরবরাহে ব্যর্থতায় পাইকারী বাজার অস্থির অর্ধেক কমিয়ে আনা হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগসীমা উৎসব মুখর পরিবেশে মহিপুর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর জয় রানার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি করোনায় আরও ২৪ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৪৫ নভেম্বরেই পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ: পাটমন্ত্রী সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে দলীয় দখলবাজদের তালিকা তৈরি করছে
দেশজুড়ে বেহাল অবস্থায় এলজিইডির হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক

দেশজুড়ে বেহাল অবস্থায় এলজিইডির হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক

বি নিউজ : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় সড়ক নেটওয়ার্ক। সংস্থাটির পাকা সড়কের পরিমাণ এক লাখ ১৭ হাজার কিলোমিটার। তার মধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক- এ তিন ক্যাটাগরি সড়কের ৫৩ শতাংশই অবস্থাই বেহাল। এ পরিস্থিতির জন্য এলজিইডি সংশ্লিষ্টরা সড়কে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারকে দায়ি করছেন। তবে সংসদ সদস্যদের মতে, শুধু নিম্নমানের বিটুমিনই নয়, রাস্তা তৈরির সময় যথাযথভাবে ঠিকাদারের কাজের তদারকি করা হচ্ছে না। তাছাড়া গ্রামীণ রাস্তা কংক্রিটের করা হলেই ভালো হবে। আর বিশেষজ্ঞদের মতে এলজিইডির সড়কের বেহাল দশার হওয়ার মধ্যে রয়েছে- বন্যা, নিম্নমানের কাজ ও নির্মাণ উপকরণ, অনিয়ম-দুর্নীতি, অদক্ষ ঠিকাদার, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নকশার ত্রুটি ও অপ্রতুল বরাদ্দ। স্থানীয় সরকার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন সর্বমোট যানবাহন চলাচল উপযোগী সড়ক এক লাখ ১৬ হাজার ৪১৯ কিলোমিটার। এলজিইডির আওতাধীন হালকা যান চলাচলের উপযোগী গ্রাম সড়ক (টাইপ ‘বি’, দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটারের নিচে) ৬৩ হাজার ২৪৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার এক্সেস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এলজিইডির নেটওয়ার্কের মধ্যে ভালো ও চলনসই অবস্থায় ছিল ৪৯ শতাংশ সড়ক। এক বছরের ব্যবধানে দুই শতাংশ কমে ওই সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ শতাংশে। বাকি ৫৩ শতাংশ সড়কই খারাপ। অর্থাৎ সংস্থাটির প্রায় ৬২ হাজার কিলোমিটার সড়ক খারাপ বা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। তার মধ্যে গত এক বছরে নতুন করে বেহাল দশায় গেছে ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার সড়ক।
সূত্র জানায়, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে এলজিইডির নিজস্ব ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ২০০৫ সালে এলজিইডির এ ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে দেয়। ওই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এলজিইডির নির্মিত সড়কের আয়ুস্কাল ১০ বছর। সড়কের ভার বহনের ক্ষমতা গাড়িপ্রতি এক্সেলে ৮ দশমিক ২ টন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরও একই ভার বহনে সক্ষম করে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করে। এলজিইডির সড়কের মান নিয়ে ইতিপূর্বে সংসদীয় কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এলজিইডির রাস্তা মেরামত বা তৈরিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাস্তার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত বিটুমিন আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে; মানসম্মত রাস্তা তৈরির জন্য কোনটি এক্সেস সড়ক এবং কোনটি যানবাহন চলাচলের সড়ক তা নিরূপণ করে বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী রাস্তার বর্তমান ডিজাইন পরিবর্তন করে নতুন ডিজাইনে রাস্তা তৈরিসহ কাজের তত্ত্বাবধান আরো বাড়াতে হবে।
সূত্র আরো জানায়, এলজিইডির রাস্তা মেরামত বা তৈরিতে সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু শুধু বিটুমিনের কারণেই রাস্তা খারাপ হচ্ছে তা নয়, বরং নির্মাণ ও সংস্কার কাজের মানই ভালো না। সংস্থার কার্যক্রম তদারকির জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের লোকবল বাড়ানো দরকার। আর রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করা হলেই ভালো হয়। তাছাড়া গ্রামীণ রাস্তা কংক্রিটের করা হলেই ভালো হয়। একই সাথে কাজ নিয়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখাও বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি রাস্তা তৈরি ও মেরামতের সময় পাথর পরিস্কার না করায় কাজের মান ভালো হচ্ছে না বলে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া এলজিইডি নির্মিত সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে নিচু। যেজন্য বন্যায় সংস্থাটির সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছরের বন্যায় এলজিইডির প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়কের ক্ষতি হয়েছে। ওসব সড়কের বেশিরভাগই এখনো মেরামত হয়নি। মূলত এলজিইডির লোকবলের অভাবে এবং যানবাহনের অভাবে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা যাচ্ছে না। অচিরেই লোকবল নিয়োগ করে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আর কাজের ক্ষেত্রে যে রাস্তাটির কাজ ধরা হবে তা শেষ না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ করা যাবে না। তাহলে কাজের মান ভালো হবে। এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটি চলতি বছরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে- এলজিইডির রাস্তার গুণগতমান নিশ্চিত করতে তদারকির পরিমাণ বৃদ্ধি, রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্তের কাজ শুরুর আগে মৌলিক কাঠামো ঠিক করা এবং রাস্তার মান নিয়ন্ত্রণে ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
এদিকে সড়কের বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, নির্মাণ ত্রুটির কারণে রাস্তা অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোড বেশি এমন সব রাস্তায় ৬০ থেকে ৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য রাস্তায় ৮০ থেকে ১০০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তায় ৬০ থেকে ৭০ গ্রেডের এবং গ্রামের রাস্তায় ৮০ থেকে ১০০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। উপজেলা পর্যায়েও ৬০ থেকে ৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। উভয় গ্রেডের বিটুমিনে প্রতি টনের দামের ব্যবধান প্রায় দুই হাজার টাকা।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, কোনটা এক্সেস সড়ক, কোনটা যানবাহন চলাচলের সড়ক- এ দুটিকে শ্রেণিবিন্যাস করতে বুয়েটের মাধ্যমে ডিজাইন ও প্রাক্কলন তৈরি করে তা ম্যানুয়েল আকারে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলে সবার কাছে পাঠানো হবে। রুরাল কানেকটিভিটি ডেভেলপ করতে প্রত্যেক বিভাগের রাস্তাগুলো প্রশস্ত করাসহ আরো বেশি শক্তিশালী করে নির্মাণ বা মেরামত করার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন লেভেলে ৮ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা হবে। প্রয়োজনে জমির ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানান, রাস্তার জন্য কোন বিটুমিন প্রযোজ্য তা বুয়েটের প্রকৌশলী এবং সংশ্নিষ্ট সবাইকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গুণগত মানসম্মত বিটুমিন আমদানি নিশ্চিত করতে এনবিআরকে পত্র দিতে হবে। নিম্নমানের বিটুমিন যেন দেশে না আসে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও পরিপত্র জারির ব্যবস্থা করতে হবে। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা ইঞ্জিনিয়ারদের তদারকি করতে হবে। রাস্তার পুরুত্ব ঠিক হচ্ছে কিনা, সঠিক পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার হচ্ছে কিনা, ডিজাইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা- এসবের তদারকি জোরদার করতে হবে।
একই প্রসঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, এলজিইডির রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তার কোয়ালিটি শুধু বিটুমিনের ওপর নির্ভর করে না। মূলত তা মাটির পরিস্থিতির ওপর নিভর্রশীল। বর্তমানে রাস্তার লোডিং বেশি হচ্ছে। লোডিং ক্যাপাসিটি অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে না। এলজিইডিকে মালপত্র পরিবহন ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য দুই ধরনের রাস্তা করতে হবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher