বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

কর্ণফুলীর তলদেশে ২১ ফুট পুরু পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে থমকে গেছে ড্রেজিং প্রকল্প

কর্ণফুলীর তলদেশে ২১ ফুট পুরু পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে থমকে গেছে ড্রেজিং প্রকল্প

বি নিউজ : দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী কর্ণফুলীর তলদেশে জমেছে ২১ ফুট পুরু পলিথিন বর্জ্যেরে স্তর। যা শক্তিশালী ড্রেজার দিয়েও তুলে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং কার্যক্রম বারবার থেমে যাচ্ছে। সর্বনাশা পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ¯্রােত থামানো না গেলে ড্রেজিংয়ের সফলতা নিয়েও শঙ্কিত বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে ড্রেজিং পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। তাতে বাড়তে পারে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ব্যয়ও। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২৫৮ কোটি টাকায় কর্ণফুলী ড্রেজিং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের প্রায় ২৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু নদীর তলদেশে যে পরিমাণ পলিথিন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য জমছে তা উত্তোলন করা অনেকটা দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যে যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ চলছে তা এর জন্য উপযোগী নয়। এমনকি চীন থেকে বড় ড্রেজার এনেও কাজ হয়নি। তাতে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও কাক্সিক্ষত গতি নেই। ফলে পুরো পরিকল্পনাটাই নতুন করে বিবেচনা করতে হচ্ছে। ওই লক্ষ্যে ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশোধিত পরিকল্পনায় কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কর্ণফুলী চ্যানেলেই চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের। অবস্থান যার মাধ্যমে দেশজ আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯০ ভাগই সম্পন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় থমকে যাচ্ছে কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং কার্যক্রম। এর আগেও কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল । ২০১১ সালে ওই ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২৯ কোটি টাকা। কিন্তু অর্ধেক কাজ শেষ করার পরই প্রতিষ্ঠানটি বাকি কাজ ফেলে রেখেই পালিয়ে যায়। নিম্নমানের কাজ ছাড়াও শ্রমিকদের বেতন না দেয়ায় অসন্তোষসহ নানা কারণে মালয়েশিয়ার কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় এজেন্ট দিয়ে কাজ করাচ্ছিল। কিন্তু স্থানীয় এজেন্টের এতো বড় প্রকল্পের কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে বাদ দেয়া হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়। আর মামলাজনিত কারণেই চলে যায় প্রায় সাত বছর। প্রকল্পটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে হয়। কারণ বন্দর সচল রাখতে কর্ণফুলী নদীর নাব্য রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশনের মাধ্যমে যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল তার নাম ছিল কর্ণফুলী ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প। কিন্তু ওই প্রকল্প থেমে যাওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবতে হয়। আইনী সমস্যা হতে পারে সেজন্য দ্বিতীয় দফায় গৃহীত প্রকল্পের নামকরণ হয় ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ারচর ড্রেজিং প্রকল্প’। ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এর কাজ শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২২ সাল পর্যন্ত। তবে পলিথিন বর্জ্যের কারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
সূত্র আরো জানায়, খুব শিগগিরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব চট্টগ্রামে এসে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চউকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে মূলত সমন্বিত পরিকল্পনায় কর্ণফুলীকে কিভাবে সুস্থ রাখা যায় সে বিষয়েই আলোচনা হবে। কারণ ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী ঠিক করা হলেও পুনরায় যেন পলিথিন বর্জ্যের ভাগাড় না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেজন্যও প্রয়োজন বাড়তি পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাফার ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার এম আরিফুর রহমান জানান, কর্ণফুলীর তলদেশে অস্তত ৭ মিটার বা ২১ ফুট পলিথিন ও প্লাস্টিক বজ্যের স্তর সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই প্রকল্পের আওতাধীন অন্যান্য কাজ চলমান থাকলেও মূল খনন কাজ থমকে আছে। ড্রেজিংয়ে যে ইক্যুইপমেন্ট বা খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এই বর্জ্য উত্তোলন করা সেগুলোর ক্ষমতার বাইরে। পলিথিনে যন্ত্রের শলাকা আটকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আরো শক্তিশালী ইক্যুইপমেন্টের প্রয়োজন। সে কারণে প্রকল্পের কাজেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আর কাজের কলেবর বৃদ্ধি পেলে ব্যয়ও বেড়ে যাবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher