মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
তার অপসারণ: সারাদেশে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার হুমকি বুধবার থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা-বিক্রি নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহুমাত্রিক: ওবায়দুল কাদের নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ পাপিয়া দম্পতির ২০ বছরের কারাদন্ড পরকীয়া দেখে ফেলায় সন্তানকে হত্যা, মাসহ তিনজনের যাবজ্জীবন গলাচিপায় মামলার আসামী না হয়েও সাত দিন জেল খেটে মুক্তি পেলো বৃদ্ধ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ রাতের আঁধারে গর্ত করে ঘর চুরি, লক্ষাধিক টাকার মালামাল হাতিয়ে নিল চোর গলাচিপায় ট্রিপল মার্ডারের প্রধান আসামি গ্রেফতার মহিপুর এসআরওএসবি সমিতির সাথে ইসলামি ব্যাংকের এটিএম বুথের চুক্তি সম্পন্ন
ঢাকার নাামি-দামি স্কুলগুলো ফি আদায়ের অব্যাহত চাপে দিশেহারা অভিভাবকরা

ঢাকার নাামি-দামি স্কুলগুলো ফি আদায়ের অব্যাহত চাপে দিশেহারা অভিভাবকরা

বি নিউজ : রাজধানীর নামি-দামি এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো বছরের শেষ সময়ে টিউশন ফি আদায়ে অভিভাবকদের ওপর অব্যাহতভাবে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। আর করোনা মহামারীর সঙ্কটকালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে উচ্চ টিউশন ফি পরিশোধে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক অভিভাবক। স্কুল কর্তৃপক্ষ এসএমএস ও নোটিশের পাশাপাশি শ্রেণি শিক্ষকরা অভিভাবকদের বারবার ফোন দিচ্ছে। এমনকি টিউশন ফি পরিশোধ না করলে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না বলেও জানানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ড বাহবা কুড়াতে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের বেতন অর্ধেক মওকুফ করলেও এখন আবার টিউশন ফি পরিশোধে অভিভাবকদের প্রচ- চাপ দিচ্ছে। এমনকি বকেয়া পরিশোধ করা না হলে স্কুল থেকে নাম কেটে দেয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ অভিভাবকই আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে আছেন। পাশাপাশি স্কুল বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানের অনেক ধরনের ব্যয়ই হচ্ছে না। তারপরও টিউশন ফি পরিশোধে প্রবল চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে একপ্রকার অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর মনিপুর উচ্চমাধ্যমিকবিদ্যালয় থেকেও বারবার অভিভাবকদের টিউশন ফি পরিশোধে চাপ দেয়া হচ্ছে। তারা এখন অনলাইনে মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিচ্ছে। এর আগে তারা গত আগস্ট মাস পর্যন্ত টিউশন ফি পরিশোধে অভিভাবকদের একাধিকবার তাগাদা দিয়েছে। মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট চলতি মাসে অনলাইনে পরীক্ষা নিলেও প্রশ্ন দেয়া হয়েছে সরাসরি। যারা আগস্ট মাস পর্যন্ত টিউশন ফি পরিশোধ করেনি তাদের প্রশ্ন দেয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বেশির ভাগ অভিভাবক টিউশন ফি পরিশোধ করেছেন। বর্তমানে রাজধানীর নামি-দামি স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। চলতি বছর স্কুল না খুললেও আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে তারা অনলাইনেই ছোট পরিসরে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন যেহেতু বছর শেষের দিকে চলে এসেছে, তাই এর আগেই সব টিউশন ফি আদায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ অনেকটা মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে যেসব অভিভাবক করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে টিউশন ফি পরিশোধ করেননি, তারা এখন মহাবিপদে পড়েছে। তাদের প্রায় পুরো বছরের টিউশন ফির জন্যই চাপ দেয়া হচ্ছে। অনেক অভিভাবক যারা সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি থেকে রাজধানীতে ফিরে স্কুলে যোগাযোগ করছে, তাদেরও টিউশন ফি পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে। আবার যারা একবারে গ্রামে চলে গেছে তারা স্কুলে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) চাইতে গেলেও পুরো টিউশন ফি পরিশোধ ছাড়া তা দেয়া হচ্ছে না।
সূত্র আরো জানায়, করোনাকালে বেশির ভাগ স্কুলই মে-জুন মাস থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। প্রতিদিন দুটি ক্লাসের বেশি নেয়া হয় না। আবার অনেক স্কুল সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ক্লাস নেয়। এই সময়ে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের বাইরে স্কুলগুলোর কোনো খরচ নেই। বিদ্যুৎ, পানির বিলসহ অস্থায়ী যেসব খরচ ছিল সেগুলো হচ্ছে না। তারপর স্কুলগুলো টিউশন ফিতে কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না।
এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এক আদেশে টিউশন ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ না করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিলে বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন আদায় করতে বলা হয়। কিন্তু স্কুলগুলো ওই নির্দেশনা আমলেই নিচ্ছে না। অনেক স্কুলের ফান্ডে কোটি কোটি টাকা থাকার পরও তারা কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। তাছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও করোনাকালে টিউশন ফি নিয়ে একটি নির্দেশনা তৈরির কাজ শুরু করেছিল। প্রকৃত অসচ্ছল অভিভাবকদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায়ে যাতে সর্বোচ্চ ছাড় দেয়া হয়, সে ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি টিউশন ফি নিয়ে একটি রিট আবেদন হওয়ায় সেটা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ওই নির্দেশনা জারি করতে পারছে না। তবে শিক্ষামন্ত্রী একাধিক বক্তৃতায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবক উভয়কেই টিউশন ফির ব্যাপারে মানবিক হতে অনুরোধ করেছেন।
এদিকে এ প্রসঙ্গে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু জানান, করোনাকালে অনেক অভিভাবকই অসহায় জীবন যাপন করছেন। অনেকে পরিবার চালানোর সক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছেন। তারা স্কুলের বেতন কিভাবে দেবেন? সেজন্যই অভিভাবকদের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ছয় মাসের বেতন মওকুফ বা পুরো বছরের ৫০ শতাংশ বেতন কমানোর জন্য বেশ আগেই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি দেয়া হয়ছিল। কিন্তু এখনো তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসরিন নাহার জানান, সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি পাওয়া যাচ্ছে না। যারা একবারে দিতে পারছে না, তাদের কিস্তিতে দেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বেতন মওকুফের জন্য আবেদন করছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার গভর্নিং বডির। টিউশন ফি না নিলে স্কুল চালানো যাবে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেয়াও সম্ভব হবে না।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher