রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

বস্ত্র শিল্পের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানই নিবন্ধন ছাড়া অবাধে ব্যবসা করছে

বস্ত্র শিল্পের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানই নিবন্ধন ছাড়া অবাধে ব্যবসা করছে

বি নিউজ : দেশে হাজার হাজার বস্ত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠান সরকারি নিবন্ধন না নিয়েই অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসেবে বর্তমানে দেশে ৮ হাজারেরও বেশি বস্ত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিগত ২০১৮ সালে আইনের আলোকে বস্ত্র অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার বাধ্যবাধকতা তৈরি। কিন্তু স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানই নিবন্ধন নিয়েছে। বরং অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। বস্ত্র অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে মোট ৮ হাজার ৪১৫টি বস্ত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে সুতা উৎপাদনকারী স্পিনিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪২৫টি, কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে ৭৯৬টি, বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও পাওয়ার লুম প্রতিষ্ঠান আছে ৪৪৯টি, টেরিটাওয়েল প্রতিষ্ঠান আছে ১০৪টি, ডায়িং-প্রিন্টিং এবং ফিনিশিং প্রতিষ্ঠান আছে ২৪০টি, গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ শিল্প আছে ৯৫৫টি এবং রফতানিমুখী নিট ও ওভেন প্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ৩২৭টি। তাছাড়া বস্ত্র শিল্পসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আছে ১১৯টি। সব মিলিয়ে বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় মোট প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮ হাজার ৪১৫টি। কিন্তু ২০১৮ সালে আইন প্রণয়নের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৬৩২টি প্রতিষ্ঠান বস্ত্র অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়েছে। তার মধ্যে বস্ত্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ৪৯২টি। তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান আছে ৭৪৩টি। তাছাড়া ৩৯৭টি বায়িং হাউজ নিবন্ধন নিয়েছে। ওই হিসেবে বস্ত্র অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়েছে মোট ১ হাজার ৬৩২টি প্রতিষ্ঠান। আর নিবন্ধন ছাড়া বস্ত্র শিল্পে ব্যবসা পরিচালনা করছে ৬ হাজার ৭৮৩টি প্রতিষ্ঠান।
সূত্র জানায়, তৈরি পোশাক খাতের সংযোগ শিল্প হিসেবে ৮০র দশকে দেশে গড়ে উঠতে থাকে রফতানিমুখী বস্ত্র কারখানা। তারই ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছে হোমটেক্সটাইল ও টেরিটাওয়েল পণ্য উৎপাদনকারী শিল্পও। সরকারি কোনো আইন ছাড়াই গত ৩০ বছরে ওসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটেছে। ২০১৮ সালে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বস্ত্র অধিদপ্তরে বস্ত্র শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। অনুমোদিত বস্ত্র আইনে বস্ত্র শিল্প বলতে বস্ত্র বা তৈরি পোশাক, বস্ত্র খাতের মূলধনি যন্ত্রপাতি, অ্যালাইড টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং উপাদান উৎপাদন, বস্ত্র পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ, আমদানি ও রফতানি, বিক্রয় ও বাজারজাত, বায়িং হাউজসহ সব কার্যক্রম বোঝায়। তাছাড়া এ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও এর আওতাভুক্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, বস্ত্র শিল্পকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্দেশ্যই হলো এ শিল্পের আরো বিকাশ ঘটানো। বেসরকারি খাত নিজ থেকেই বর্তমান পর্যায়ে বিকশিত হয়েছে। এখন এ বিকাশ আরো সুষম ও সুষ্ঠুভাবে যেন হয় সে বিষয়ে ভূমিকা পালন করবে পোশাক কর্তৃপক্ষ। অনুমোদিত আইন অনুযায়ী পোশাক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ব্যতীত বস্ত্র শিল্প-কারখানা পরিচালনা করা যাবে না। মিথ্যা তথ্য প্রদান বা প্রতারণার মাধ্যমে নিবন্ধন গ্রহণ করলে তা বাতিল হবে। তাছাড়া শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলম্ব ফি ব্যতীত নিবন্ধন না করলে এবং কোম্পানি-সংস্থা-অংশীদার কারবার বা আইনগত সত্তার ক্ষেত্রে অবসায়ন হলেও নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল হবে। নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিতের কারণে কোনো লোকসান বা ক্ষতির জন্য ওই প্রতিষ্ঠান কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না। বস্ত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান পোশাক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বস্ত্র শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী কারখানা পরিদর্শন করবেন। সেক্ষেত্রে শিল্প মালিক কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে। সহযোগিতা না করলে তা হবে অপরাধ। পরিদর্শনে সুতা ও বস্ত্রের মজুদ কার্যক্রম, বাজারজাত এবং মূল্য স্থিতীকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন মনে করলে নির্দেশনা জারি করবে। পরিদর্শনের জন্য পোশাক কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলগত সক্ষমতা অর্জনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও গ্রহণ করবে সরকার।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব দিলীপ কুমার সাহা জানান, বস্ত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সংখ্যা ৮ হাজারেরও অনেক বেশি হবে। কারণ নানা রকমের বস্ত্র ও বস্ত্র সহযোগী অ্যাকসেসরিজ, ছোটখাটো মিলিয়ে অনেক শিল্প রয়েছে। সবাই নিবন্ধন নেয়নি। তাদের কেউ কেউ হয়তো নিবন্ধন নেয়ার বিষয়টি জানে না অথবা অন্যরা নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তার মুখোমুখি হয়নি। আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে। এখন ব্যাংকে কোনো সহযোগিতা বা ঋণের জন্য বস্ত্র শিল্পের কেউ গেলে যদি বলা হয় যে আপনার প্রতিষ্ঠান বস্ত্র অধিদপ্তরের নিবন্ধিত কিনা তখন ওই প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের তাগিদ পাবে। আইন হওয়ার পরই নিবন্ধন নেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। ফলে এখন প্রতিদিনই নিবন্ধন পেতে আবেদন জমা হচ্ছে। এমনকি কভিডের মধ্যেও নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। অনেক বস্ত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে যারা নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে পারছে, কোথাও আটকাচ্ছে না। কোনো প্রতিষ্ঠান না এলে আইনগতভাবেই ওই প্রতিষ্ঠানকে বাধা দেয়া আছে। নিবন্ধন না করে ব্যবসা করলে কী হবে এবং এ বিষয়ে আইনে কী বলা আছে তা দেখতে হবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher