মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
করোনায় আরও ২০ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৩৩৫ সমীক্ষা ও করোনায় রাজধানীর আউটার ও ইনার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পে স্থবিরতা করোনা ও গ্রাহকের অনাস্থায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত কমে গেছে আজ সেই ভয়াল ২৮ অক্টোবর.. কলাপাড়াবাসী ভোলেনি সেই গুলি বর্ষণের দিন গলাচিপায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মানে বাধা দেয়ায় আহত দুই গলাচিপায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কলাপাড়ায় ফ্রান্সে বিশ্ব নবী হযরত মুহম্মাদ (সাঃ) কে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শাড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে মার্জিত পোশাক: অক্ষয় গায়ক রোহানপ্রীত সিংয়ের সঙ্গে নেহার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন চুল কেটে সিনেমা থেকে বাদ পরলেন বাপ্পি
ব্যাংকে আমানতের মুনাফার হার ঋণাত্মক হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা

ব্যাংকে আমানতের মুনাফার হার ঋণাত্মক হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা

বি নিউজ : বিনিয়োগকারীরা আবারো সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে। কারণ ব্যাংকে আমানতের হার ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ যেখানে ৭১ শতাংশ কমে গিয়েছিল, সেখানে জুলাই মাসে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৬৭ শতাংশ। গত বছরের জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়েছিল ২ হাজার ২১২ কোটি টাকা। গত জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে যে হারে বিনিয়োগ বাড়ছে, তাতে ব্যাংকগুলোতে আমানতের প্রবৃদ্ধি আরো কমে যাবে। আর ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি আরো কমে গেলে বেসরকারি খাতে কাক্সিক্ষত হারে বিনিয়োগ হবে না। ফলে বাধাগ্রস্ত হবে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। তাতে বর্ধিত হারে কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান না হলে বেকারত্বের হার বেড়ে যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে ঋণে সুদহারের সর্বোচ্চসীমা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত জুলাই মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর ব্যাংকে আমানতের গড় মুনাফার হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির হিসাবে ব্যাংকে আমানতের মুনাফার হার ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা তাই আবারো সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকে পড়ছে। বিদায়ী বছরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ছিল যেখানে ঋণাত্মক ৭১ শতাংশ, সেখান থেকে জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৬৭ শতাংশ। মূলত ব্যাংকে আমানতের মুনাফা তলানিতে নেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে অস্বাভাবিক বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
সূত্র জানায়, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে গ্রাহককে নিরুৎসাহিত করতে বিদায়ী বছরে সরকার কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা। অর্থাৎ কেউ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে চাইলে তাকে আয়কর সনদ প্রদর্শন করতে হবে। সরকারের ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায় এবং প্রতি মাসেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমতে থাকে। এভাবে বছর শেষে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নেমে আসে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ গেল বছরে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ হয় ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। ওই হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্মক ৭১ দশমিক ১১ শতাংশ।
সূত্র আরো জানায়, বিগত এপ্রিল থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করা হয়। তারপর থেকেই ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার ধারাবাহিক হারে কমতে থাকে। ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করতে গিয়ে আমানতের সুদহার কমাতে থাকে। সবশেষ গত জুলাইয়ে ব্যাংক আমানতের গড় সুদহার কমে নেমে আসে ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে। অথচ গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে কমে নামে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে। যদিও গত এপ্রিল থেকে সব ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা এখনো বিদ্যমান। পণ্যমূল্য বেড়ে গেলেও ব্যাংকের মুনাফার হার অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় আমানতকারীরা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এক দিকে করোনার প্রাদুর্ভাবে মানুষের আয় কমে গেছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। অনেকের বেতন কমে গেছে। কারোর বা চাকরি থাকলেও বেতন বকেয়া পড়েছে। এভাবে এক দিকে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, অপর দিকে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের আমানতের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় মানুষ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনেকেই রাজধানীতে টিকতে না পেরে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। কেউবা জমানো শেষ সঞ্চয়টুকু ভেঙে খাচ্ছে। এরই প্রভাবে ব্যাংকে আমানত কমতে থাকে। তার ওপর আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় গ্রাহক এখন ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই সরকারের আয়করের জালে আটকে পড়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। কেননা পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার এখন ১১ শতাংশের কাছাকাছি। আর তারই প্রভাবে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher