সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঋণের হাজার হাজার কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না

বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঋণের হাজার হাজার কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না

বি নিউজ : সরকারি মালিকানাধীন ৫টি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ ফেরত দিচ্ছে না বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলো অনেক চেষ্টা করেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া ঋণ আদায় করতে পারছে না। ওই ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপুল অংকের ঋণ দিয়ে বিপাকে থাকা সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী এবং বেসিক ব্যাংক। ওসব ব্যাংকের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে ২০০২ জুলাই মাসের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৩৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৬৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা মোট বকেয়া ঋণের শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। তার মধ্যে সোনালী ব্যাংকের পাওনা ১২ হাজার ৬০ কোটি ৮২ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৩৪০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা. অগ্রণী ব্যাংকের ৫৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৩৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ৪০ কোটি ৯ লাখ টাকা। তার মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া এতো বিশাল পরিমাণ ঋণের মধ্যে ফান্ডেড বা নগদ ঋণ বকেয়া রয়েছে ১৬ হাজার ৩৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আর নন-ফান্ডেড বা এলসি, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে নেয়া ঋণ বকেয়া রয়েছে আরো ১৩ হাজার ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর কাছে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শ্রেণি বিন্যাসিত ঋণ-এর জুলাই ২০২০ ভিত্তিক বিবরণীতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ওই প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী শিল্প খাতের ৬ প্রতিষ্ঠানের কাছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং বেসিক ব্যাংকের পাওনা ৯ হাজার ৭৮৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ওই ৬টি প্রতিষ্ঠান হলোÑ বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি), বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি), বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফআইডিসি)। ওই ৬টি প্রতিষ্ঠান সরকারি ৫টি ব্যাংকের কাছ থেকে ফান্ডেড ঋণ বা নগদ ঋণ নিয়েছে ৮ হাজার ৬৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর নন-ফান্ডেড ঋণ বা এলসি, ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে নিয়েছে ১ হাজার ১৬২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) কাছে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি টাকা পায়। রাষ্ট্রায়ত্ত ওই প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৫ ব্যাংকের ফান্ডেড ঋণের ৬ হাজার ৬১০ কোটি ২৮ লাখ এবং নন-ফান্ডেড ঋণের ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পায়।
সূত্র জানায়, বাণিজ্যিক খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ জুট করপোরেশন এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কাছে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৬৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনের কাছে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৫৪ কোটি ৫ লাখ টাকা পায়। তাছাড়া কৃষি এবং মৎস্য খাতের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের কাছে সরকারি ৩টি ব্যাংক ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা পাওনা। তার মধ্যে সোনালী ব্যাংক ১ হাজার ৪৯৪ কোটি, জনতা ৭৫৯ কোটি ৪৬ লাখ এবং রূপালী ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা পায়। গ্যাস, পানি এবং বিদ্যুৎ খাতের ৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারি ৫টি ব্যাংকের পাওনা ৭ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপাই অ্যান্ড সুয়ারেজ অথরিটি, ঢাকা ওয়াসা এবং বাংলাদেশ অয়েল গ্যাস অ্যান্ড মিনারেল করপোরেশন। তার মধ্যে শুধু বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে পাওনা ৭ হাজার ৫৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তাছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের ৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫টি ব্যাংকের বকেয়া ৫ হাজার ৬৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ওই ৬টি প্রতিষ্ঠান হলো- বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিমান এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন। তার মধ্যে বিমানের কাছেই পাওনা ৫ হাজার ৪৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাকি ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ৫টি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ বিমানের কাছে পুরো টাকাটা পায় রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বৃহত্তম ব্যাংক সোনালী।
এদিকে ঋণের টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ওই টাকা উদ্ধারের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়েও তেমন কোনো ফল পাওয়া যায়নি। কারণ রাষ্ট্রায়ত্ত ওসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় সবগুলোই আর্থিকভাবে অসচ্ছল।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher