বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
করোনায় মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়াল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ-সার দেয়ার উদ্যোগ অবৈধভাবে বসবাসকারী শত শত বিদেশীর তালিকা করে আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ ত্রাণ তহবিলের জন্য ১৬৫ কোটি টাকা অনুদান গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির আন্দোলনের গর্জনই শুধু শোনা যায়, বর্ষণ দেখা যায় না : ওবায়দুল কাদের দেশে করোনায় আরো ২৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৪৪ ওয়াসার এমডিকে পুনরায় নিয়োগ না দেয়ার আহ্বান ক্যাবের শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী মসজিদে বিস্ফোরণ : বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি টানা লোকসান এড়াতে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে দেশের চিনিকলগুলো
নিজেদের স্বাধীনতা সরকারের কাছে সমর্পণ করেছে ইসি : রুহুল কবীর রিজভী

নিজেদের স্বাধীনতা সরকারের কাছে সমর্পণ করেছে ইসি : রুহুল কবীর রিজভী

বি নিউজ : সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যে স্বাধীনতা রয়েছে বর্তমান কমিশন সরকারের কাছে সেই স্বাধীনতা সমর্পণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।

আজ শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাবেক ছাত্রদলনেত্রী দিলরুবা শওকতের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, কেউ নিজের স্বাধীনতা খর্ব করে? কিন্তু নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছে স্বেচ্ছায় নিজেদের স্বাধীনতা সমর্পণ করেছে। কারণ গণতন্ত্র থাকলে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র সত্তা। আপনারা আত্মসমর্পণ করে নিজেদেরকে হিজড়ায় পরিণত করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধান তাদেরকে নিজস্ব স্বাধীনতা দিয়েছে আর ১৯৭২ গণপ্রতিনিধি অধ্যাদেশ তাদের সেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে আইন করে সরকার নিজের হাতে রাখবেন। শেখ হাসিনা হবেন একক ক্ষমতার অধিকারী। রিজভী বলেন, বাকশাল মানে একদলীয় শাসন, বাকশাল মানে অন্য কারো কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে না, গণতন্ত্র থাকবে না, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে না। কেউ সরকারের সমালোচনা করলে তাকে জননিরাপত্তা আইনে আটকে রাখা হবে। বিএনপির এ মুখপাত্র আরও বলেন, সুস্থ গণতন্ত্র নেই বলে আমাদের নানাভাবে নানা কৌশলে কথাগুলো বলতে হচ্ছে। কথার মধ্যে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে তবে নিস্তার নেই। ডিজিটাল আইন আছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার একটি অস্ত্র, নানা ধরনের গালাগালি একটি অস্ত্র, ডিজিটাল আইন একটি অস্ত্র। এরপর আরও বড় অস্ত্র আছে বিচারবহির্ভূত হত্যা। এগুলো সব সরকারের হাতে বিরোধী কণ্ঠকে রোধ করার জন্য, মিছিল বন্ধ করার জন্য, রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করার জন্য। সরকারের যখন যে অস্ত্র ব্যবহার করা দরকার সেই অস্ত্র তারা নির্বিঘেœ ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বোধোদয় হয়েছে যে কখন কী ঘটে যায় বলা মুশকিল। তাদের নেতাকর্মীদের বলছেন, ‘সাবধান বেশি বাড়াবাড়ি কইরেন না। কখন কী হয় বলা যায় না।’ ওবায়দুল কাদের সাহেব ১২ বছর পার হয়ে গেল এর মধ্যে বরকতের টাকা পাচার হলো, ফরিদপুরের ছাত্রলীগের সভাপতির টাকা পাচার হলো, করোনা পরীক্ষার নকল সনদপত্র দেয়া হলো, রিজেন্ট, জিকেজির মত ভুয়া হাসপাতালে ভুয়া সনদপত্র দেয়া হলো- এ কথাগুলো আগে বলেননি কেন? আজকে আপনাদের দলের যে সিন্দুক সেই সিন্দুক খুলে কেন আমরা স¤্রাটকে দেখছি? খালেদকে দেখছি, শামীমকে দেখছি। তো এই কথাগুলো যদি আগে বলতেন এবং তা সত্যি সত্যি প্রয়োগ করতেন তাহলে আজকের এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আপনার পুলিশ বাহিনী আছে অস্ত্র আছে কিন্তু জনগণ আপনার নেই। আপনারা ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন থেকে এসব কথা বললেই নেতাকর্মীরা অনেকটা সতর্ক থাকতো। তিনি বলেন, এত অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন, এত অপরাধ এত লুণ্ঠন, এটাতো ভয়ে থাকার কথাই। হয়তো মুখ ফসকে বলেছেন। কত কি যে বললেন, ২১ আগস্ট ও ১৫ আগস্ট নিয়ে। একে দায় চাপানো ওকে দায় চাপানো। অথচ এরা আয়নার সামনে দাঁড়ায় না। নিজেদের চেহারার দিকে কখনই তাকায় না। ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই, মানুষ এখন কি বলে জানেন? আপনাদের প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলো বলবে, যে অভিযোগগুলো করবে, তার উল্টোটা বিশ্বাস করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এত কিছুর পর এখন চাচ্ছেন বিরোধীদল অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন নিজের হাতে রাখতে। সেজন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দায়িত্ব দিয়েছেন আরপিও ১৯৭২ এর যে অধিকারটুকু আছে নির্বাচন কমিশনের যে স্বাধীনতাটুকু আছে.., কেউ কখনও নিজের স্বাধীনতা খর্ব করে? আর নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছায় সমর্পণ করেছেন নিজেদের স্বাধীনতা। রুনেসার সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রুনেসার উপদেষ্টা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ চন্দ্র দত্ত, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, রুনেসার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম ফরহাদ, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান হানিফ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রুনেসার সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীর। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দল নেতা কারী রফিকুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher