বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
করোনায় মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়াল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ-সার দেয়ার উদ্যোগ অবৈধভাবে বসবাসকারী শত শত বিদেশীর তালিকা করে আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ ত্রাণ তহবিলের জন্য ১৬৫ কোটি টাকা অনুদান গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির আন্দোলনের গর্জনই শুধু শোনা যায়, বর্ষণ দেখা যায় না : ওবায়দুল কাদের দেশে করোনায় আরো ২৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৪৪ ওয়াসার এমডিকে পুনরায় নিয়োগ না দেয়ার আহ্বান ক্যাবের শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী মসজিদে বিস্ফোরণ : বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি টানা লোকসান এড়াতে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে দেশের চিনিকলগুলো
বিএনপির নেতৃত্বকে কবর দিতেই ২১ আগস্টের ঘটনা: গয়েশ্বর

বিএনপির নেতৃত্বকে কবর দিতেই ২১ আগস্টের ঘটনা: গয়েশ্বর

বি নিউজ : ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি সরকারের ভুল-ভ্রান্তি ছিল -উল্লেখ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, যার খেসারত দেশের জনগণসহ বেগম খালেদা জিয়াকে দিতে হচ্ছে। আজ শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ঢাকা জেলা বিএনপির আয়োজনে দলটির সদ্য প্রয়াত ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গয়েশ্বর বলেন, মনের ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সরকারে থাকতে ভুল-ভ্রান্তি আমাদের কিছু ছিল। যার খেসারত আজকে জনগণ দিচ্ছে, আমরা দিচ্ছি, খেসারত তারেক রহমান দিচ্ছেন, খেসারত খালেদা জিয়া দিচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা অপকর্ম করেছে তারা খেসারত দেয়নি, তারা কিন্তু আমাদের আশপাশে আরও বলীয়ান হওয়ার চেষ্টা করছে। এটা (২১ আগস্টের ঘটনা) বাংলাদেশের ভাবনা থেকে হয়নি, এই ভাবনার পরিকল্পনা অন্য কোথাও বাস করে। বিএনপির নেতৃত্বকে কবর দিতেই ২০০৪ সালের সংঘটিত ২১ আগস্টের ঘটনা এক-এগারোর রি-অ্যারেজমেন্ট উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনাটা হাসিনাকে মারার বড় চক্রান্ত- এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যদি থাকে, এই চক্রান্ত ছিল সেদিন জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্বের কবর দেয়া। এটা একটা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বিএনপির ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনার প্রকৃত দোষীরা এখনও বেঁচে আছে, নিরাপদে বেঁচে আছে এবং ভালো আছে। তারা দেশে আছে, দেশের বাইরেও আছে। সেটা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কারও অজানা থাকার কোনো কারণ নেই। সেটা দেশি-বিদেশি গোয়েন্দারা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করে তাহলে এটা তাদের নখদর্পণের থাকার কথা। যেহেতু এটা একটি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ব্যাপার সেই কারণে আসল ঘটনা কখনও আলোর মুখ দেখবে না, আপনারা-আমরা জানব না। বিএনপির এ নেতা বলেন, এই যে ভুল অ্যাপ্লিকেশন পলিটিক্সে- মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দেয়া, দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে সামগ্রিক রাজনীতিকে দুর্ঘটনায় ফেলা। ২১ আগস্ট এইরকম ঘটনা- যা ১/১১-র কোনো রি-অ্যারেজমেন্ট হতে পারে। এই যে ১/১১ টা আসছে সরকারে। তিনি বলেন, ১/১১-তে কে ভিকটিম হয়েছে? বিএনপি হয়েছে, খালেদা জিয়া হয়েছে। ১/১১-তে লাভবান হয়েছে কে? হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ। তাহলে ডাউট অব দ্যা বেনিফিসারি যদি বলা হয় ১/১১ এর মাধ্যমে বেনিফিট হয়েছে বিএনপির অতি মুখোমুখি প্রতিপক্ষ। ২১ আগস্টের ঘটনার দিনটি ‘ভালো দিন নয়’ অভিহিত করে ওই সময়ে ভারতীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাতকারের বক্তব্য উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, এইদিনটি কোনো ভালো দিন আমি বলি না। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই কারও জন্য কাম্য নয়। ২০০-এর বেশি আসন নিয়ে তখন বিএনপি ক্ষমতাসীন। একটা স্ট্যাবল গভর্নমেন্ট ক্ষমতাসীন সরকার কখনওই চাইবে না সেই সরকারকে আনস্ট্যাবল করতে। ২১ আগস্টের ঘটনাটা রাষ্ট্রকে আনস্ট্যাবল করা, উস্কানি দেয়া, সুড়সুড়ি দেয়া অর্থাৎ সরকারকে বিব্রত করা দেশে-বিদেশে সকল ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, এটা যদি প্রতিষ্ঠিত হতো, এটা যদি জনগণ বিশ্বাস করতে পারত যে, এটা সরকার করেছে অথবা খালেদা জিয়া করেছে বা তারেক রহমান করেছে। তাহলে সেদিন সরকার থাকার কথা না। যখন একটা পাতা নড়েনি, একটা আওয়াজ হয়নি। বিশ্ব শক্তি বুঝত যে, পিপলস হ্যাজ এক্সসেপটেড দিস ওকারেন্স। অর্থাৎ এটা জনগণ বুঝে গেছে যে, এই অপকর্ম সরকার করতে পারে না, একটা গণতান্ত্রিক সরকার করতে পারে না, এটা একটা রেন্সপনসেবল গভর্নমেন্ট কোনো মতেই করতে পারে না-এটাই আমি ভারতীয় টেলিভিশনে সেদিন বলছিলাম। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তবে এটাও ঠিক, এই গ্রেনেড হামলায় যারা সম্পৃক্ত তারা ভিকটিম হয়নি, আসামি হয়নি। এখানে আমাদেরও ব্যর্থতা আছে। আর সরকার সেই পারপাসটা ভালো করে আমাদের ওপরে চাপিয়ে দিতে পারছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে যদি চিন্তা করত, চেষ্টা করত- উনি খুব ভালো করে জানেন, যেই ঘটনাটা কেন ঘটছিল এবং কারা ঘটিয়েছিল। এতদিনে ওনার অজানা থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে/আরও জোরে- এসব আপনাদের স্লোগানের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শগত কী তথ্য জনগণের কাছে আপনারা দেন। আপনাদের স্লোগানে তো জনগণের ভাষা নেই। কেন নেই? যেদিন কোরাজান একিনো পাস করলেন ফিলিপাইনের নির্বাচনে, সেদিন ম্যাডাম বগুড়াতে। রাত একটায় ফলাফল প্রকাশ হলো। পরেরদিন আমরা বগুড়া থেকে জয়পুরহাট যাই। পেছনে আমরা দুইটি গাড়ির মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আমি যুবদলের সেক্রেটারি হিসেবে আরও অনেকের সঙ্গে আমরা আওয়াজ তুললাম- ‘বাংলাদেশের কোরাজান, খালেদা জিয়া লও সালাম’। তার মানে কী? এটা একটা ম্যাসেজ জনগণের কাছে। আমরা কিন্তু এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে জনগণের ভাষাগুলো ফুটিয়ে তুলেছি। আজকে কী আছে সেটা? আমাদের মধ্যে সেটা নেই। গয়েশ্বর বলেন, সেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার জন্য রাজনৈতিক আদর্শ যদি লালন না করতে পারেন, তাহলে আপনার মধ্যে প্রতিশ্রুতি আসবে না, লক্ষ্য অর্জনের চিন্তাটা যদি আপনি তীব্র করতে না পারেন তাহলে আপনার মনের মধ্যে সাহসও আসবে না। লক্ষ্য অর্জনের আকাক্সক্ষাকে আপনি নিরঙ্কুশ করতে হলে আদর্শিক ভিত্তির মধ্যে আসতে হবে। স্লোগান হবে দলের জন্য, দেশের জন্য। আলোচনা সভা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেসারুল হক। জেলা সভাপতি দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজউদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত নেতার একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার মেজনাজ মান্নান বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher