August 4, 2020, 4:54 am

বাড়তি ভাড়া দিয়েও গাদাগাদি করে বাড়ি ফেরা

বাড়তি ভাড়া দিয়েও গাদাগাদি করে বাড়ি ফেরা

বি নিউজ : প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে হাজারো মানুষ। যাত্রী, শ্রমিক ও পথচারী কারও মধ্যেই নেই সামাজিক দূরত্ব। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ দেখা যায়। সময় যত গড়াবে যাত্রীদের চাপ ততই বাড়বে বলে জানায় ঘাট কর্তৃপক্ষ। এদিকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সরকার যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিলেও সেটি মানছিলেন না যানবাহনের চালকরা। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে গাদাগাদি করে বহন করেছেন যাত্রী। এ ছাড়া লঞ্চ, ফেরি ও টার্মিনালেও ছিল না সামাজিক দূরত্ব। অন্যদিকে পদ্মার তীব্র স্রোতে ব্যাহত হয় ফেরি চলাচল। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে নদী পারাপারে বেশি সময় লাগে ফেরিগুলোর। এতে দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রায় আড়াই শতাধিক যানবাহনের সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। আটকা পড়া যানবাহনগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই যাত্রীবাহী বাস। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে থাকতে হয় তাদের। তবে পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হয়। ঘরমুখো যাত্রীরা জানান, ঈদ করতে তারা বাড়িতে যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে আসতে বাসে ভাড়া বেশি নিলেও গাদাগাদি করে আসতে হয়েছে। এখন দৌলতদিয়া প্রান্তে এসেও একই অবস্থা। ভাড়া দিগুণ কিন্তু গাদাগাদি করে যেতে হবে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আছে জেনেও কেন বাড়িতে আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, বছরে মাত্র দুইটা ঈদ। সেই ঈদেও যদি আপনজনের সঙ্গে না থাকতে পারি, তাহলে কষ্ট বাড়বেই। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় বেশি লাগছে। এজন্য ঘাটে যানবাহনের কিছুটা সিরিয়াল হয়। এ ছাড়া সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে বর্তমানে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে।
এদিকে, অন্যবারের তুলনায় যাত্রী কিছুটা কম হলেও ঈদে গাবতলী হয়ে ঘরমুখো যাত্রীরা তীব্র যানজট আর টিকিট সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী টার্মিনালে পৌঁছাতে তীব্র যানজটে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়। আবার বহু সময় অপেক্ষার পর টিকিট পাচ্ছিলেন না যাত্রীরা। মূলত যারা অগ্রিম টিকিট কাটতে পারেননি কিন্তু পরে টার্মিনালে গিয়েছেন বাড়ি যাওয়ার জন্য তারাই বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। সকাল ৯টায় গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন বগুড়ার শিহাব উদ্দিন। সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি কোনো বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। শিহাব উদ্দিন জানান, সবাই বলছে টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। আরও কিছুক্ষণ তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করবেন। শেষ পর্যন্ত টিকিট না পেলে তিনি বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন। তিনি আরও জানান, পরিবারের অন্য সদস্যরা মহামারির কারণে মে মাসের দিকে একেবারে বাড়ি চলে গেছে। তিনি ঢাকায় একা থাকেন। রাজশাহী যাবেন আরেক যাত্রী মোহাম্মদ সোহেল। তিনি জানান, তিনি সকাল ১০টায় এসে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনো বাসের টিকিট পাননি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেরিঘাটে জ্যামে আটকা পড়ায় বাসগুলো সময়মতো গাবতলীতে ফিরে আসতে পারছে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসের অর্ধেক সিট ফাঁকা রাখার কারণে বাসের সংকটটা আরেকটু বেড়েছে। তবে কিছু বাস করোনা সংক্রমণ রোধে অর্ধেক সিট ফাঁকা রাখার নিয়মটি যথাযথ ভাবে মানছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার মঈনউদ্দীন বলেন, বাসের ক্যাপাসিটিও কম। সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে এখন যারা আসছেন তারা টিকিট পাচ্ছেন না। তাদের অনেকে লোকাল বাসে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছেন তাদের বাস পেতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু যারা এখন টিকিট কেটে বাড়ি যেতে চাইছেন মূলত তারাই বাস পাচ্ছেন না। এদিকে কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড়, গাবতলী, আমিন বাজার ব্রিজ এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে। আবদুল আজিজ নামে একজন যাত্রী বলেন, আজিমপুর থেকে এসেছি। কল্যাণপুর থেকে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসতে তার দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। জ্যামের কারণে অনেক যাত্রী আগে থেকে নেমে হেঁটে আসেন। কিন্তু সঙ্গে ভারী ব্যাগ থাকায় এই সামান্য রাস্তা পার হতে দেড় ঘণ্টার মতো গাড়িতে বসেছিলাম। অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রী কিছুটা কম। যাত্রী কম হওয়া প্রসঙ্গে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের ভয়ে অনেকে বাড়ি না গিয়ে ঢাকায় ঈদ করবেন। মহামারির শুরুতে বাড়ি যাওয়ার পর অনেকে আর ঢাকায় ফেরেননি, অনেকে চাকরি হারিয়ে বেকার বসে আছেন। অনেকে আবার এই সময়ে খরচ বাঁচাতে বাড়ি যাচ্ছেন না। অনেকে এই মহামারির মধ্যে একেবারে বাড়ি চলে গেছেন ফলে ঢাকায় তুলনামূলক কম লোক আছে বলেও মনে করেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 ThemesBazar.Com
Design & Developed BY Md Taher