বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০১ অপরাহ্ন

বৈশ্বিক অর্থনীতি

বৈশ্বিক অর্থনীতি

করোনাভাইরাস কোভিড-১৯-এর অনিবার্য প্রভাবে পুরো অচল ও গতিহীন হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। উন্নত বিশ্বসহ করোনা আক্রান্ত ২১০টি দেশের প্রায় সর্বত্র চলছে লকডাউন। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কিছুই প্রায় বন্ধ। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে বরং সঙ্কুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সব মিলিয়ে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ভার্চুয়াল সভা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা অনলাইনে অংশগ্রহণ করছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে এও বলেছে যে, করোনা মোকাবেলায় বিশ্ব একযোগে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে এই মন্দার প্রভাব অব্যাহত থাকবে ২০২১ সালেও। উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর বিশ্ব এতটা খারাপ অবস্থায় আগে কখনও পড়েনি।

বিশ্ব মন্দা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোপূর্বে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিলেন আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। তার আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যে পরিণত হতে চলেছে। বিশ্ব মন্দার কফিনে সর্বশেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে করোনাভাইরাস, যা বর্তমানে চিহ্নিত কোভিড-১৯ অভিধায়। চীনের উহানে উদ্ভূত এই মারাত্মক ভাইরাসটি এর মধ্যে আক্রমণ করেছে প্রায় সমগ্র বিশ্বকে, যা থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি বাংলাদেশও। সর্বশেষ খবর হলো, বিশ্বের কমপক্ষে ২১০টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে করোনাভাইরাসে। আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লক্ষাধিক এবং মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দেড় লাখ। সমূহ বিপদের দিকটি হলো, ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে। এর বিরুদ্ধে প্রচলিত কোন এ্যান্টিবায়োটিক বা প্রতিষেধক কাজ করে না এবং টিকাও আবিষ্কার হয়নি। ফলে মানুষকে একরকম অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে ভাইরাসটির কাছে। করোনার প্রভাবে দূষণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধে ইতোমধ্যে অনেক শহর-নগর-বন্দর-শিল্পকারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে পারস্পরিক নির্ভরশীল অর্থনৈতিক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য। তেলের বাজারে নেমেছে ধস। মাত্র ২৫-৩০ ডলার প্রতি ব্যারেলে বিক্রি হচ্ছে তেল। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য অন্যান্য শিল্পপণ্যেও। বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক, চামড়া, সুতাসহ নানা পণ্যের সরাসরি বাণিজ্য থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিও। এ থেকে মুক্তি মিলবে কোন্ পথে তা বলতে পারে না কেউ। আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমতে পারে ২ শতাংশ।
আইএমএফ প্রধান সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতে অস্থিতিশীলতা এবং চরম আয়সম্পদ বৈষম্যের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রীতিমতো দুর্ভিক্ষ ও মঙ্গা দৃশ্যমান- যেমন সুদান, সোমালিয়া, ইয়েমেন। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থা আদৌ ভাল নয়। ফলে জনরোষ ও গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে সর্বত্র। এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ ও পদ্ধতি বের করতে হবে বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দসহ অর্থনীতিবিদদের। এর পাশাপাশি ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে করোনার প্রতিষেধক ও টিকা আবিষ্কারে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher