শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে বস্তিতে অগ্নিকান্ড, পুড়েছে শতাধিক ঘর

চট্টগ্রামে বস্তিতে অগ্নিকান্ড, পুড়েছে শতাধিক ঘর

বি নিউজ : চট্টগ্রামের পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় বস্তিতে অগুন লেগে পুড়ে গেছে শতাধিক ঘর। আজ সোমবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে মাদারবাড়িতে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ওই বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের ১৫টি গাড়ি সেখানে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৮টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। অগ্নিকান্ডের এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ২৪ ও ৩১ জানুয়ারি শুলকবহর এলাকার ডেকোরেশন গলিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বস্তিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। কয়েকদিনের ব্যাবধানে আজ সোমবার ভোরে নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকার রেলওয়ে এসআরবি এলাকায় গড়ে উঠা বস্তির শতাধিক ঘর আগুনে পুড়ে যায়। রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা বস্তিটি ‘বেগম রাইচ মিল কলোনি’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, বস্তির ছোট ছোট কাঁচা ঘরগুলোতে নিম্ন আয়ের অন্তত ৫০০ পরিবারের বসবাস ছিল। সকালে বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, সহায়-সম্বল হারানো মানুষগুলো আবার লড়াইয়ে নেমেছে পোড়া মালামাল সরাতে। সেখানেই নিজের পোঢ়া ঘরের সামনে দেখা গেল বিলাপ করছেন জাকিয়া বেগম। দুই ছেলে, এক মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে তার পরিবার। বড় ছেলে অবশ্য বিয়ে করে বস্তিতেই আলাদা ঘর নিয়ে থাকেন আর ছোট ছেলে কাজ করে গ্যারেজে। মেয়ে আমেনা আক্তার একটি পোশাক কাজ করেন। পুড়ে যাওয়া ঘরে স্বামী, স্ত্রী আর মেয়ে থাকতেন। জাকিয়া জানান, কর্ণফুলী ঘাটে কিংবা গোডাউনে আনার পথে মাঝিরঘাট, পশ্চিম মাদারবাড়ি, বাংলা বাজার এলাকার রাস্তায় যেসব গম পড়ে থাকে, সেসব কুড়িয়ে বিক্রি করেন তিনি। অসুস্থ স্বামী বেশিরভাগ সময় ঘরে থাকলেও মাঝে মাঝে দিনমজুরি করেন। মেয়ের বেতন সমিতিতে জমা রেখে গম বিক্রির টাকায় চলে তার সংসার। মেয়ের বিয়ের জন্য সমিতিতে জমানো সেই তিন লাখ ১০ হাজার টাকাই তুলে এনে ঘরে রেখেছিলেন। ভালো ঘরে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য প্রতিবেশীদের পরামর্শে বস্তির বাইরে ঘর ভাড়া নেওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। এ মাসের শেষে নতুন বাসায় যাওয়ার কথা ছিল জানিয়ে জাকিয়া বেগম বলেন, মেয়ের বিয়ের জন্য ছেলে দেখা হচ্ছিল। বস্তি ছেড়ে যাওয়ার আগে টাকা সমিতি থেকে তুলে রাখছিলাম। কিন্তু আগুন থেকে নিজেদের প্রাণ বাঁচলেও টাকা আর ঘরের মালামাল রক্ষা করতে পারেননি, বলেই বিলাপ করে ওঠেন তিনি। জাকিয়ার মতো আগুনে সব হারিয়েছেন ভ্যানচালক লোকমান হোসেন। ছোট থেকেই বেড়ে ওঠা এই বস্তিতে। স্ত্রী, সন্তানসহ আটজনের সংসার তার। ভোরে বস্তির পশ্চিম দিক থেকে আগুন লাগে। চোখের পলকে ছড়ায়া পড়ে আগুন। নিজেরা জীবন নিয়ে বাইর হইতে পারলেও কিছুই বাইর করতে পারি নাই, বলেন লোকমান। বস্তির আরেক বাসিন্দা ট্রাকচালক আলাউদ্দিন আগুন লাগার পরপরই পরিবারের ১২ জন সদস্যকে নিয়ে ঘর থেকে বের হন এক কাপড়ে। আর কিছুই বাঁচাতে পারেননি। বস্তিটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ড এলাকায়। এখানকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মো. জোবায়ের বলেন, যে জায়গায় বস্তিটি গড়ে উঠেছে সেটি রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। তার জানা মতে জলিল চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির নামে জায়গাটি বন্দোবস্ত থাকলেও এখন আর নেই। এই বস্তিতে প্রায় ৫০০ পরিবারের বাস। যাদের সবকিছু পুড়ে গেছে আগুনে। ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কাপড় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কাউন্সিল জোবায়ের অগ্নিকান্ডের কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম জানান, ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে বস্তিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের চারটি ইউনিটের ১৫টি গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল আটটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানান তিনি। তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে বলে আজিজুল জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher