মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

হাঁসের খামার করে সুদিন পেলেন যশোরের সামাদ

হাঁসের খামার করে সুদিন পেলেন যশোরের সামাদ

বি নিউজ : অভাবের সংসারে হাঁসের খামার করে সুদিন এনেছেন যশোরের দিন আনা দিন খাওয়া আব্দুস সামাদ। কিভাবে খামার শুরু করলেন, কেমন চলছে এখন, সেই গল্প শোনালেন শার্শা উপজেলার বাগাডাঙ্গা গ্রামের ৪৮ বছর বয়সী সামাদ। তিনি বলেন, আগে দিনমজুরি করতেন। অভাব লেগেই থাকত। তাই ভাবলেন হাঁসের খামার করবেন। ম্যালা দিনির চিষ্টায় ম্যালা কষ্ট কইরে ১০টা হাঁসের বাচ্ছা কিনলাম। তাই দিয়ে শুরু অরি। সামাদ বলেন, সেটা বছর তিনেক আগের কথা। হাঁস কেনার টাকা সঞ্চয় করা যেমন কঠিন ছিল, তার চেয়ে কঠিন ছিল তার খাবার কেনা, লালন-পালন, রক্ষণাবেক্ষণ। তবু আমি নিজি না খায়ে হাঁসগুলো পুষতি লাগলাম। সাড়ে তিন মাস পরে হাঁস ডিম পাড়তি শুরু করে। তাই দিয়ে হাঁসের সংখ্যা বাড়াতি লাগলাম। াস্তে আস্তে হাঁসের সংখ্যা শতাধিক হয়ে গেলে সামাদ আশাবাদী হয়ে ওঠেন। হাঁসের পেছনে বেশি করে সময় দেন। সামাদ বলেন, হাঁস প্রায় তিন মাস প্রতিদিন ডিম দেয়। প্রতিটি হাঁস বছরে আড়াই শতাধিক ডিম দেয়। প্রতিটি বিক্রি হয় ১০টাকায়। তাছাড়া তিন থেকে চার মাসে হাঁস প্রাপ্তবয়স্ক হয়। তখন প্রতিটি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। র্তমানে তার খামারে ৫২৮টি হাঁস রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর জন্য প্রতিদিন খাদ্য ও ওষুধ বাবদ প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। সামাদের বাড়ির পাশে মাখলার বিল। সারাদিন সেখানে হাঁসের ঝাঁক নিয়ে থাকেন সামাদের বাবা আমিন উদ্দিন (৭০)। সকালে ও বিকেলে হাঁস যখন বাড়ি থাকে তখন তাদের পরিচর্যা করেন সামাদের মা ছফুরা বেগম (৬৫)। সামাদ বলেন, আর আমি হাঁসের ওষুধ কিনা, খাবার কিনা, ডিম বেচা—এসব করতি করতিই আমার দিন চইলে যায়। অতীত স্মরণ করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সামাদ বলেন, “নিজি তো পড়াশুনা করতি পারি নেই। তাই ছাওয়ালদের লেখাপড়া করাচ্ছি। সংসার চালাচ্ছি। অভাব কাটিছে। অহনও বাড়িঘর করতি পারি নেই। তার দুই ছেলে উচ্চমাধ্যমিক ও দশম শ্রেণিতে পড়ছে বলে তিনি জানান। প্রতিদিন আশপাশের এলাকা থেকে অনেকে সামাদের খামার দেখতে আসেন। সামাদ তাদের খামার করার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। সামাদ বলেন, শুরুটা সহজ ছিল না। ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের ফল আজকের এই খামার। তবে স্বল্প পুঁজি নিয়েও হাঁসের খামার করা যায়। বিশেষ করে পুকুর, ডোবা অথবা খাল-বিলের পাশে খামার গড়ে তোলা উচিত। সঠিক সময় চিকিৎসা দিলে রোগ দূর করা যায় বলে জানান তিনি। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, সামাদের হাঁসের খামার সত্যিই অনুকরণীয়। অতীতের অভাবের সংসারে হাঁস পালন করে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন সামাদ। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন সুখেই আছেন। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অনেকে হাঁসের খামার তৈরি করছে। এতে এলাকার বেকারত্ব দূর হচ্ছে। খাল-বিল ভরা শার্শা উপজেলা হাঁস পালনের জন্য বিশেষ উপযোগী বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, উপযুক্ত পরিবেশের কারণে উপজেলার অনেকেই নিজ উদ্যোগে খামার গড়ে তুলছেন। তারা নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি এলাকার ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা। আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে হাঁস পালনকারীদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকি। হাঁস ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং বিপণন ব্যবস্থা ভাল থাকায় লাভবান হচ্ছেন খামারিরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher