সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনায় আরও দুই মাস সময়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনায় আরও দুই মাস সময়

বি নিউজ : সংসদে উত্থাপিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনার জন্য আরও দুই মাস সময় নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বুধবার সংসদ অধিবেশনে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করলে সংসদ তা অনুমোদন দেয়। ফলে চলতি অধিবেশনে বিলটি পাস হচ্ছে না। গত ২৯ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বহুল আলোচিত এই আইনের খসড়া আইনসভার অনুমোদনের জন্য গত ৯ এপ্রিল সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। খসড়া আইনটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে এক মাসের জন্য পাঠানো হয়েছে। কমিটির এর মধ্যে দুটো বৈঠক করেছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের প্রতিনিধিদের বৈঠক করে আইনটি পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্যপ্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো আরও বিশদ আকারে যুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে। এ আইন পাস হলে হ্যাকিং; ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’; রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বা ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ডিজিটাল উপায়ে গুপ্তচরবৃত্তির মত অপরাধে ১৪ বছরের কারাদা-ের পাশাপাশি কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদ- বা উভয় দ- দেওয়া যাবে। আর ইন্টারনেটে কোনো প্রচার বা প্রকাশের মাধ্যমে ‘ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধে আঘাত’ করার শাস্তি হবে ১০ বছরের জেল, ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-। খসড়া আইনটির মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়ে। সাংবাদিকরাও প্রস্তাবিত আইনটির ৩২ ধারায় সমালোচনা করছেন। এই আইনের ফলে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন তাদের অনেকে। ওই ধারায় সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য উপাত্ত, যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদ- ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-র বিধান রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher