বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

হওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি, শঙ্কায় কৃষক

হওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি, শঙ্কায় কৃষক

বি নিউজ : সুনামগঞ্জে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ চলছে ঢিমেতালে। আগামী তিন মাসেও কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। খরচার হাওরের রক্তি নদীর তীরবর্তী এলাকায় কোনও কোনও বাঁধের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। এগুলো কবে শুরু আর কবে শেষ হবে জানি না। সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের কৃষক সৈয়ফুল ইসলাম। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের খলাচানপুর গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, গেলবার থাকি এবার কাজের গতি খুব কম। যথাসময়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করতে না পারলে আগাম বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আগাম বন্যার কবল থেকে হাওর এলাকার বোরো ফসল রক্ষার জন্য ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে শুরু হয়েছে বাঁধ নির্মাণের কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে জেলার ১১ উপজেলায় ৬৩৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৭২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করা হয়। এর অনুকূলে ১৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠায় পাউবো। প্রস্তাবনার পর ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এখন পর্যন্ত ছোটবড়ো মিলিয়ে ৩৭টি হাওরে কাজ শুরু হয়েছে ৫৫৬টি প্রকল্পের। বাকি ১৬৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি কাজ শুরু করতে পারেনি। সদর উপজেলার খরচার হাওরের ৬নং প্রকল্প কমিটির সদস্যসচিব রথীন্দ্র কুমার রায় বলেন, হাওরের পানি দেরিতে নামা, মাটি ও খনন যন্ত্র (এসকেভেটর মেশিন) সংকটের কারণে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি যথাসময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের জিরাগ তাহিরপুর গ্রামের সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর হাওরে মাটির বাঁধ নির্মাণের কারণে বাঁধের আশপাশের এলাকায় মাটি পাওয়া যায় না। দূর থেকে ড্রাম ট্রাক করে মাটি এনে বাঁধে ফেলতে হয়। তাই বাঁধ নির্মাণের কাজ অনেক ক্ষেত্রে গতি পায় না। কাবিটা স্কিম ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে বাঁধ নির্মাণে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলা। ইচ্ছারচর গ্রামের কৃষক আবু খালিদ বলেন, খরচার হাওরের অনেক বাঁধের গোঁড়া থেকে মাটি তুলে উত্তোলন করে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এভাবে বাঁধ নির্মাণ করলে আগাম বন্যার পানি ঠেকানো যাবে না। কমিটির সদস্য আবু সুফিয়ান জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর অনেক বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারেনি। তাহিরপুর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, শনির হাওর, হালির হাওর ও গুরমার হাওরে এখনও পানি আটকে থাকায় বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হবে। হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, গত বছরে সাড়ে ৫০০ প্রকল্পের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা হলেও এবার প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারগুলোর কাজ শেষ করা হয়নি। বাঁধ নির্মাণের কাজে গতি আনার জন্য মনিটরিং কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক কারণে হাওরে বাঁধ নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার বাঁধ নির্মাণের গতি বেশ ভালো। যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এখনও বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে নি হাওরের পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা কাজ শুরু করবে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher