বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

ভয়ঙ্কর রোটা ভাইরাস -আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যা করতে হবে

ভয়ঙ্কর রোটা ভাইরাস -আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যা করতে হবে

দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে রোটা ভাইরাস। আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধরণের রোগের জীবাণু বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই এরা আমাদের সংক্রমিত করে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে শিশুদের ডায়রিয়ার জন্য দায়ী প্রধান চারটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রোটা ভাইরাস। এই ভাইরাস মারাত্মক এক ডায়রিয়া সৃষ্টি করে যা ‘রোটাভাইরাল ডায়রিয়া’ নামে পরিচিত। আর এই রোটাভাইরাল ডায়রিয়া আক্রান্তে শিশুদের বিশেষ করে নবজাতকের মধ্যে অনেকেই অকালে প্রাণ হারাচ্ছে শুধু অসতর্কতা বা অজ্ঞতার কারণে।
শীত ও গরমকালে এই ভাইরাসের প্রকোপ বেশি হয় বলে জানায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে সারা দেশে আক্রান্ত রয়েছে ১৬ লাখের বেশি। শীত যত বেশি পড়ে, রোটা ভাইরাসে শিশুর আক্রান্তের হারও তত বেড়ে যায়। এ ছাড়া সারা বছর যত ডায়রিয়া রোগী থাকে গড়ে তার ৬০ শতাংশই থাকে রোটা ভাইরাসের শিকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে রোটা ভাইরাস থেকে রক্ষায় যেসব নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে তাহলোÑ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন। শিশু যে সমস্ত জিনিসপত্র ও খেলনা নিয়ে খেলা করে তা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মায়ের হাত, এমনকি খাবার তৈরি করার স্থান সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। শিশুদের ৬ মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো। এছাড়া খোলা জায়গায় শৌচকর্ম না করা। খাবার ঢেকে রাখা। শৌচের পরে এবং শিশুকে খাওয়ানোর আগে ঠিক পদ্ধতি মেনে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ইত্যাদি।
আমাদের জানা মতে, কয়েক বছর আগে থেকেই সরকারিভাবে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রোটা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই অসন্তোষ ও বিতর্ক রয়েছে। আশঙ্কাজনক খবর হলো, দেশের সাতটি বিশেষায়িত হাসপাতালে শিশু রোগীদের ওপর বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে দেখা যায়, ৮২ শতাংশই রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত; যাদের মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর আক্রান্তের হার ছিল ৮৫ শতাংশ।
এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারলে তাদের মৃত্যু হতে পারে। ডায়রিয়াজনিত অন্যান্য রোগের চেয়ে রোটা ভাইরাসের চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা। আবার রোটা ভাইরাস টিকার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। ভাইরাসগুলোর প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। রোটা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য এখনো পরিপূর্ণ কোনো চিকিৎসা নেই। এ রোগ প্রতিরোধে দুটি নতুন টিকা থাকলেও সরকারিভাবে এখনো টিকাদান কর্মসূচিতে রোটা ভাইরাসের টিকা চালু করা সম্ভব হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অভাবে।
শীতজনিত অন্যান্য রোগের ব্যাপারেও সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা, গরম কাপড়, গরম খাবার, গরম পানি ব্যবহার করলে ঝুঁকিমুক্ত থাকা সহজ হয়। আমরা জানি, যেকোনো রোগ প্রতিকারের চেয়েছে প্রতিরোধই উত্তম। কাজেই আমাদের সচেতন হতে হবে। রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিভাবকরা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যা করলে রোটা ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher