শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০২:০১ অপরাহ্ন

২০২০ সালকে সামনে রেখে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

২০২০ সালকে সামনে রেখে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

আনোয়ার হোসেন আনু,কুয়াকাটা॥ ২০২০ সালকে সামনে রেখে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। আসছে নববর্ষকে উৎযাপন করতে প্রতিদিন নানা বয়সের হাজার হাজার পর্যটকরা ভীড় করছে সৈকতে। অনেক পর্যটকরাই থার্টি ফাষ্ট নাইট উৎযাপন করতে আবাসিক হোটেল মোটেল গুলোতে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। বছরের শেষ সূর্যাস্ত এবং নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখার সূযোগ হাত ছাড়া না হয়ে যায় এজন্য আগে থেকেই প্রস্ততি নিয়ে রেখেছেন। বড়দিনের ছুটিতে হাজারো পর্যটকদের ভীড়ে সৈকত এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সমুদ্রে গোসল,সমুদ্র ভ্রমণ.দর্শনীয় স্থান,কুয়াকাটার কুয়া,বৌদ্ধ মন্দির,রাখাইন তাঁতপল্লী গুলোতেও ভীড় দেখা গেছে লক্ষনীয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ নানা বয়সের পর্যটকদের উম্মাদণায় মুখর এখন সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি কুয়াকাটা। বেশিরভাগ পর্যটকরাই কুয়াকাটার সৌন্দর্যমন্ডিত এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে সৈকতে থাকা ফটোগ্রাফারদের ফ্রেমে নিজেদের বন্দি করে রাখছেন। যাতে এই স্মৃতি মুছে না যায়। স্কুল গুলোর পরিক্ষা শেষে মা বাবার সাথে অথবা প্রতিষ্ঠানিক ভাবে দলে দলে ছেলে মেয়েরা অবকাস যাপনে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসছেন।
আবাসিক হোটেল গুলোও নতুন বছরে পর্যটকদের বরণ করতে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়ে রেখেছেন। প্রথম শ্রেনীর আবাসিক হোটেল গুলোতে নেয়া হয়েছে আলোক সজ্জার প্রস্তুতি। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে পর্যটনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতেও বেচাকেনা হচ্ছে প্রত্যাশার চেয়ে অধিক। অধিক সংখ্যক পর্যটকদের আগমনকে মাথায় রেখে নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আগত পর্যটক দম্পতি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলে মেয়েদের পরিক্ষা শেষ এখন স্কুল বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে পরিবারের সকলে মিলে কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছেন। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখে ছেলে মেয়েরা খুবই খুশি। এখানকার মানুষ ও পরিবেশ খুবই ভালো লেগেছে তাদের। তবে সংযোগ সড়ক গুলো সংস্কার করা দরকার।
রাজশাহীর নওগাঁ বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হুমায়ূন কবির ও গৌতম কুমার মন্ডল জানান, তারা ২২ জন শিক্ষক পরিবার কুয়াকাটা ভ্রমনে এসেছেন। এখানকার দর্শনীয় স্পট ও রাখাইন পল্লী ঘুরে দেখেছেন। তাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। বিশাল সৈকত ও সমুদ্র এবং নদীর মোহনা দেখে খুবই উপভোগ করেছেন। তবে তারা অভিযোগ করেন, খাবার হোটেল গুলোতে খাবারের মানের চেয়ে দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। খাবার ও মাছ ঢেকে রাখা হয় না। ধুলাবালু উড়ে পরে খাবারের উপর, সেই খাবারই খাওয়ানো হচ্ছে সকলকে।
থ্রী-স্টার হোটেল কুয়াকাটা গ্রান্ড এর ব্যবস্থাপক মো.সাওজীদ ইসলাম জানান, নতুন বছরে দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য বিশেষ প্রনোদণা প্যাকেজ রয়েছে। পর্যটকদের বরণে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। অনেকেই নতুন বছরে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, তাদের হোটেলে বেশির ভাগই বিদেশী পর্যটকরা ওঠেন। তাদের জন্যও রয়েছে বার-বি কিউ প্রনোদণা প্যাকেজ।
কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্ট এর স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, নতুন বছরে নতুন করে পর্যটকদের বরণ করতে সাজসজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। থার্টি ফাষ্ট নাইট ও ২০২০ বছরের শুভেচ্ছা হিসেবে রিসোর্টে ৪০ পারসেন্ট ডিসকাউন্ট থাকছে। এছাড়া ইলিশের পেটে বসে ইলিশ খাবারের উপর থাকছে বিশেষ প্যাকেজ প্রনোদণা।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার মো.জহিরুল ইসলাম বলেন,থার্টি ফাষ্ট ও নতুন বছর উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক এই পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া বিশেষ হেল্প ডেক্স খোলা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher