বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

বিআরটিসির বাস বন্ধের দাবিবে ময়মনসিংহ-নেত্রকোণায় ধর্মধট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

বিআরটিসির বাস বন্ধের দাবিবে ময়মনসিংহ-নেত্রকোণায় ধর্মধট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনার সফল না হওয়ায় ময়মনসিংহ থেকে সব রুটে বাস চলাচল দ্বিতীয় দিনের মত বন্ধ রেখেছে বাস মালিকরা। অন্যদিকে বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাস চালু করার প্রতিবাদে নেত্রকোণায় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এতে দুই জেলার মানুষকে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। আজ মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ জেলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুব আলম বলেন, ‘বিআরটিসির বাস বন্ধ করা’ আমাদের প্রধান দাবি। যতক্ষণ না তা বন্ধ হচ্ছে আমরা বাস চালাব না। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য গত সোমবার রাতে জেলা প্রশাসকের পরিবহন মালিকরা বসে ছিলাম কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়ায় বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত অব্যাহত রয়েছে। আমাদের দাবি দাওয়া না মানা পর্যন্ত সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ থাকবে। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও পাটগুদাম বাস টার্মিনাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রেলস্টেশনে চাপ বেড়েছে। কয়েকগুণ ভাড়া দিয়ে অটোরিকশাতেও সড়ক পথে যাতায়াত করছে যাত্রীরা। ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাটগামী যাত্রী আরমান বলেন, ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাটের বাস ভাড়া ৫০টাকা। এখন হালুয়াঘাট যাওয়ার জন্য দুইজনে এক সিএনজিকে পাঁচশ টাকা বলেছি তাও যেতে রাজি হয়নি। যাওয়ার কোন উপায় না পেয়ে বাসায় চলে যাচ্ছি। এনা পরিবহনের চালক মো. ঝুমন মিয়া, শরাফত আলী ও শফিক জানান, তাদের বাসের মালিকরা বাস বন্ধ রাখতে বলেছেন। মালিকরা যদি বলে চালতে তাহলে আবার চালাব। মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও পাটগুদাম ব্রিজমোড়ে আবুল হোসেন ও নাহিদ নামে দুই শ্রমিক জানান, বিআরটিসি বাস চালুর পর থেকে তাদের যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই মালিকরা ক্ষতির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিআরটিসির বাসের কারণে বেসরকারি বাসমালিকদের যেমন খুশি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছে। আবুল ফজল নামে এক শ্রমিক বলেন, বিআরটিসি বাস চালুর পর থেকে বেসরকারি বাসের যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই মালিকরা লোকসানের আশঙ্কায় বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিআরটিসির বাসের ভাড়া কম। যাত্রীরা বিআরটিসির বাসের প্রতি বেশি আগ্রহী। আবার বিআরটিসির বাসগুলো বেশি বড় হওয়ায় তারা একবারে অনেক যাত্রী নিয়ে যায়। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে নেত্রকোণা শহরের পারলা বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লারসহ আন্তঃজেলা সব বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। নেত্রকোণা জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খান বলেন, বিআরটিসির বাস কোন জায়গায় কীভাবে চলাচল করবে এটার সরকারি নিয়মকানুন আছে। নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে হঠাৎ করে ১০টা গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তাদের ইচ্ছামাফিক চালাইলে সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে বিআরটিসি আইসা দাঁড়াইবে। তখন মালিকরা কোথায় যাইবে? এ নিয়ে প্রশাসনের সাথে আলোচনা চলছে এবং গতকাল মঙ্গলবারও বৈঠক রয়েছে জানিয়ে তিনি যোগন করেন, আশা করি গাড়ি চলাচলের একটা ব্যবস্থা হবে। গত সোমবার বিকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। বাস বন্ধ থাকায় অনেকেই সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে গন্তব্যে যেতে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। গত রোববার নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়কে চলাচলের জন্য বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাস উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান ও জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম। ওইদিনই দুপুরের দিকে বাসগুলো চলাচলে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার পারলা বাসস্ঠ্যান্ডে শ্রমিকেরা বাধা দেন। এতে করে গত সোমবার বিআরটিসির বাসগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান পারলা বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে। তিনি যাবেন ঢাকায় কিন্তু বাস ধর্মঘটের কারণে যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, সকাল থেকে অপেক্ষা করতাছি। ধর্মঘট করার কারণে আমরা ঢাকা যাইতে পারতাছি না। চরম দুর্ভোগে আছি। এখন কীভাবে যে ঢাকা যাব। আমি অফিস করি। কীভাবে যে অফিস ধরব বুঝতেছিনা। আরেক যাত্রী কলমাকান্দার পাগলা গ্রামের মো. মনির উদ্দিন বলেন, বাস ধর্মঘট যে আমরা তো জানি না। শহরে যাব। ঢাকা যামু। যাইতে পারতাছি না। একইভাবে অপেক্ষায় আছেন, মদন উপজেলার মনতোষ দাস। ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়ে বাস চলবে প্রত্যাশায় স্ট্যান্ডে বসে আছেন তিনি। দূরপাল্লার যাত্রীরাই বেশি বিপাকে পড়েছেন। পাশের ময়মনসিংহের যাত্রীরা বাস না পেয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চলে যাচ্ছেন। তবে নেত্রকোণা শহরের সাতপাই এলাকার দেবল চন্দ্র বলেন, ৮০ টাকা ভাড়া ছিল ময়মনসিংহের চায়নাসেতু নাগাদ। বাস না চলায় অটোরিকশা চার কিলোমিটার আগে শম্ভুগঞ্জ নাগাদ চলছে আবার ভাড়াও নিচ্ছে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher