August 4, 2020, 2:28 pm

আইএস’র টুপির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইএস’র টুপির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বি নিউজ : গুলশানের হলি আর্টিজান মামলার আসামির মাথায় জঙ্গি সংগঠন আইএসের টুপি কোথা থেকে এসেছে তা জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ের দিন গত বুধবার দুইজন আসামির মাথায় আইএসের টুপি ছিল। আইএসের টুপি পরার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ দুই ধরনের তথ্য দিয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান জানিয়েছেন, ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন তাকে আইএসের টুপি দেন। কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় হামলা মামলার শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির বলেন, টুপি নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এ টুপি কোথায় পেয়েছিলেন রিগ্যানের কাছে তা জানতে চান বিচারক। জবাবে রিগ্যান আদালতকে জানান, ওইদিন আদালতের বাইরে ভিড়ের মধ্যে একজন তাকে টুপিটি দেন। তবে তাকে চিনতে পারেননি রিগ্যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেরাই এই তথ্য জানাতে চাচ্ছি। তদন্ত হচ্ছে কীভাবে এলো (টুপি), কীভাবে গেল, আমরা সেটাই জানতে চাচ্ছি। কেউ না কেউতো দিয়েছে। কে দিয়েছে আমরা একটু জেনে নেই। কারণ বন্দিটাকে নিয়ে গিয়েছে যখন, তখনও জনগণের ভেতর দিয়েইতো গিয়েছে, কীভাবে পেয়েছে সেটা আমাদের এখন একটু দেখার বিষয়। আমরা দেখে নেই, না দেখে এটার সম্পর্কে আমরা বলতে পারবো না। তবে আমরা যেটুকু দেখিছি এটা কারাগার থেকে আসেনি, কারাগার কর্তৃপক্ষ বলছে। পুলিশ বলছে তারা এটা সাপ্লাই হতে দেখেনি। কাজেই কীভাবে এলো তদন্তের বাইরে আমরা কিছু বলতে পারবো না। নিরপেক্ষ জায়গা থেকে আপনারা আরেকটি তদন্ত করবেন কিনা- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই হবে। বেরিয়ে আসবে, সবই আসবে। এটাকে (আইএসের টুপি) অ্যালার্মিং মনে করছেন কিনা- প্রশ্নে কামাল বলেন, কোনো অ্যালার্মিং নয়, একটা কাপড়…একটা টুপি মাথায় দিয়েছে। এটা অ্যালার্মিংয়ের কী বিষয় আছে। এরাতো সবসময়ই বলছে, এরা ওই মতাদর্শী, আমরা সবসময় বলেছি আমাদের দেশে এগুলো নেই। এগুলো সব হোমমেইড জঙ্গি। আর ওরা ওখানে কানেক্টেড হতে চেয়েছে, এটা সবসময় বলেছে। এরা ওই মতাদর্শের হতে চায়, এখানে আইএসের কোনো ঘাঁটিও নেই, কোনো কিছু নেই। কাজেই এই মতাদর্শে যারা বিশ্বাস করেন বা বলেন তাদের সবইতো ধরা পড়ে গেছে। তাদের মধ্যেইতো এরা। এরা নিজের পকেটে রেখে নিয়েছে নাকি কীভাবে নিয়েছে, সবগুলো না জেনে আমরা এই মুহূর্তে অফিসিয়ালি বলতে পারছি না। আমরা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেবো এটা কীভাবে পেয়েছিল। ভারতের আসামে বিজেপি সরকারের তৈরি করা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি’র পর বাংলাদেশে কিছু মানুষকে জোর করে (পুশ ইন) সীমান্ত দিয়ে পাঠানোর চেষ্টার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই বাংলাদেশি ছাড়া বাংলাদেশের মাটিতে কাউকে ঢুকতে দেবো না। সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ২০০ এর বেশি কিছু লোককে পুশইন করতে চেয়েছিল কিনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। হাজার হাজার মানুষের কথা বলা হলেও তারা সংখ্যায় খুব কম। শখানেক হতে পারে। তবে তারা বাংলাদেশি কিনা, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিনা, ভিসা শেষ হয়ে গেছে কিনা এরকম জটিলতায় পরে লোকজন বাংলাদেশে ফেরত আসতে চাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, অন্য কোনও দেশের নাগরিক হলে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না, প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শুক্রবার চৌকি স্থাপন করেছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠানোর চেষ্টা হলেও বিএসএফ তা গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সরেজমিনে পরিদর্শনে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে বিএসএফকে। এদিকে ভারত থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ করতে বিজিবির সঙ্গে রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার চরখানপুর গ্রামবাসী। সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে গ্রামের বাসিন্দারা টর্চলাইট ও লাঠি হাতে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পালা করে পাহারায় থাকছেন। পুশ ইনের বিষয়টি আতঙ্কের কিনা? প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা মোটেই আতঙ্কের বিষয় নয়। আমরা কোনোভাবেই বাংলাদেশি ছাড়া বাংলাদেশের মাটিতে কাউকে ঢুকতে দেবো না। ঢুকতে দেবো না মানে আমরাতো রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দিয়েছি, সেই বিষয়ে নয়। আমাদের সুনিশ্চিত হতে হবে যদি বাংলাদেশি নাগরিক হয় তাহলে এগুলো আমরা রিসিভ করতে পারি। আর যদি বাংলাদেশি নাগরিক না হয় তাহলে কোনোভাবেই গ্রহণ করবো না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা হয়তো দেখেছেন বিভিন্ন সীমান্তে কিছু বাঙালি, এরা বাংলাদেশি কিনা আমি সঠিকভাবে এখনও নিশ্চিত নই। বাঙালিদেরকে এরা ভেতরে ঢোকানোর জন্য চেষ্টা করেছে। আমাদের বিজিবি কয়েক জায়গায় এদের ঢুকতে দেয়নি, অ্যালাউ করেনি। এদের সংখ্যা হাজার হাজার নয়, কয়েকশ’। বিগত দিনে বিভিন্ন সময়েও আমরা দেখেছি পাঁচজন দশজন কিংবা পঁচিশজন পঞ্চাশজন করে তারা পুশ ইন করানোর জন্য প্রচেষ্টা নিয়েছে। তখন দেখেছি রোহিঙ্গাদেরকেও পুশ ইন করার একটা প্রচেষ্টা নিয়েছিল। রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে ভারতের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে ঢুকে গিয়েছিল। তারা বাংলাদেশে চলে আসতে চেয়েছিল, সেগুলো আমরা ঢুকতে দেইনি। আমরা সুনিশ্চিত না হয়ে কাউকে আমাদের মাটিতে ঢুকতে দেবো না, এটা হলো আমাদের কথা। আমাদের বিজিবিও সেজন্য সচেতন আছে। আমি এটুকু বলতে পারি, যদি সে আমাদের নাগরিক হয়, আমাদের দেশের সুনিশ্চিত হলে তখন আমরা তাদের কীভাবে রিসিভ করবো সেটা অন্য বিষয়। পুশ ইনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আছে কিনা- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাসপোর্ট নিয়ে অনেকেই গিয়ে থাকেন। যখন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তখন এদেরকে পাঠিয়ে দেয়। এরকম ঘটনা যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই রিসিভ করবো। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে এটা উস্কানিমূলক কিনা- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, না, কোনো উস্কানিমূলক নয়। যদি হাজার হাজার বা শত শত হতো তাহলে একটা আলোচনার ব্যবস্থা হতো। এগুলো অল্প কিছু সংখ্যক, এগুলোই গিয়েছিল এরাই ফিরে এসেছে কিনা, ভারত সরকারতো আমাদের কাছে কোনো চিঠি দেয়নি, কোনো আবেদনও করেনি। যারাই গিয়েছিল তারাই পালিয়ে আসছেন কিনা কিংবা অবৈধভাবে গিয়েছেন অবৈধভাবে ফেরত আসছেন কিনা, সবকিছু আমাদের জানতে হবে। না বলে এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আগের চেয়ে তো পুশ ইনের সংখ্যা বেড়েছে- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হয়তো কিছু বেড়েছে, আমি সেটা অস্বীকার করছি না। তাদের রাজ্যে একটু কড়াকড়ি করেছে সেজন্য হয়তো আমাদের যারা ইচ্ছে করে থেকে গেছেন কিংবা তারা ভিসার তোয়াক্কা করেননি বা তারা অনেকদিন ধরে থেকে গেছেন, এ বিষয়ে চিন্তা করেননি; তারা হয়তো আবারো এরকমভাবে আন-অফিসিয়ালি আসার জন্য প্রচেষ্টা নিতে পারেন। এগুলো আমাদের অ্যাজামশন, যেহেতু আমাদের সঙ্গে কোনোভাবে আলোচনায় আসেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষ অনেক বছর ধরে ওখানে যাওয়া আসা করেন। কেউ শ্রমজীবী হিসাবে, কেউ পেশাদার হিসাবে যায়, কেউ অন্য কোনো সেবা যেমন- চিকিৎসা বা পড়াশোনা করার জন্য। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে হয়তো তাদের এই জটিলতা দেখা দিয়েছে। এরকম হতে পারে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে পুশ ইনের বিষয়ে কোনো আলোচনা করবেন কিনা? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বলে দিয়েছিতো আমরা। আমাদের কাছে অফিসিয়ালি কোনো আবেদন নিবেদন নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 ThemesBazar.Com
Design & Developed BY Md Taher