রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:২০ অপরাহ্ন

এবার ট্রাকেও ধর্মঘটের ডাক, বাস বন্ধে দুর্ভোগ চরমে

এবার ট্রাকেও ধর্মঘটের ডাক, বাস বন্ধে দুর্ভোগ চরমে

বি নিউজ : নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধের পর এবার সারাদেশে ট্রাক ধর্মঘটের ডাক এসেছে। বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন আইন স্থগিত রাখাসহ নয় দফা দাবিতে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ডেকেছেন। শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের শুরু থেকে তার বিরোধিতা করে আসছিলেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। গত সোমবার থেকে আইনটি কার্যকর শুরু পর কোনো চাপে পিছু হটবেন না বলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দৃশ্যত চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী খান বলেন, সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত করে মালিক শ্রমিকদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিমানার বিধান ও দ- উল্লেখ করে একটি ‘যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক’ সঠিক আইন প্রণয়ন করতে হবে। ট্রাক ধর্মঘট শুরু হলে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা সড়ক পরিবহন আইন প্রত্যাখ্যান করছে কি না- এ প্রশ্নে রুস্তম বলেন, তারা পুরো আইন প্রত্যাখ্যান করছেন না। কিছু ধারার সংশোধন চান। আইনের সব ধারা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার আশ্বস্ত করলেও পরে সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণেই কর্মসূচি। সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো পড়ে শোনান রুস্তম আলী। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় চালককে এককভাবে দায়ী করা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কোনো মামলায় চালককে আসামি করলে তা অবশ্যই জামিনযোগ্য ধারায় হতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষী চিহ্নিত করার কাজে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করতে হবে। এ কমিটির মাধ্যমে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো গাড়ির মালিককে গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না। এছাড়া ‘সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা কমিটি’, ‘সড়ক পরিবহন আইন-শৃঙ্খলা কমিটি’ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় গঠিত পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট যে কোনো কমিটিতে বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানান নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল আহমদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. মনিরসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাস বন্ধে দুর্ভোগ: নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করে বাস চলাচল বন্ধের দ্বিতীয় দিনে আরও নতুন এলাকা যোগ হয়েছে। খুলনা, রাজশাহী ও শেরপুরের পর আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহ, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতেও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। ফলে সড়কে নেমে দুর্ভোগে পড়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। গাজীপুরে পরিবহন শ্রমিকরা আজ মঙ্গলবার সকালে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করলেও দুই ঘণ্টা পর উঠে যায়। গত সোমবার সকাল থেকে খুলনা অঞ্চল, রাজশাহী ও শেরপুরে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, আজ মঙ্গলবারও সেখানে বাস চলেনি। পরিবহন শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট ডাকেননি দাবি করে বলেছেন, নতুন কঠোর আইনে ‘ভীত হয়ে’ চালক-শ্রমিকরা বাস চালাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে পিরোজপুরের সঙ্গে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। পিরোজপুর জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। কোনো কারণে দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে নতুন আইনে চালকদের মৃত্যুদ- এবং আহত হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। আমাদের এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই এবং বাস চালিয়ে আমরা জেলখানায় যেতে চাই না। এ কারণেই নতুন পরিবহন আইন সংস্কারের দাবি করছে শ্রমিকরা। বাস যাত্রী মিথিলা আক্তার বলেন, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পরেছেন তার মতো অনেকেই। অন্যদিকে চলাচলের মাধ্যম হিসেবে যাত্রীরা বেছে নিচ্ছেন ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। দূরের যাত্রীরা ভিড় করছে বিআরটিসির কাউন্টারগুলোতে। সকালে ঝালকাঠি থেকে ১৭টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহাদুর চৌধুরী বলেন, বাসের ড্রাইভার ও তাদের সহযোগীরা এ ধর্মঘট ডেকেছে। তবে এটা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নয়। আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহণ আইন নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ডাকা হয়েছিল। আমরা সাংগঠনিকভাবে ওই সভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছিলাম। তবে চালক ও তাদের সহযোগীদের হঠাৎ ধর্মঘটের এ কর্মসূচি আপাতত আমরা সমর্থন করি না। বিএম কলেজে স্নাতকোত্তর (প্রিলিমিনারি) শ্রেণিতে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হতে বরিশাল যাওয়ার জন্য জেলা বাস স্ট্যান্ডে আসেন তন্নী আক্তার। তিনি বলেন, এসে দেখি ঝালকাঠি-বরিশাল বাস ছাড়ছে না। এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে যেতে হবে। বাড়তি টাকার সাথে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীই নন, ঝালকাঠি থেকে বরিশালগামী অসংখ্য যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিকে, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল কিংবা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্র, টেম্পু এবং দূরপাল্লার বাস স্বাভাবিকভাবে চলছে। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তেেব্যর দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি ইলিয়াস আহমেদ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher