শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুকসহ ৩ জনের জামিন হাইকোর্টে বাতিল

এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুকসহ ৩ জনের জামিন হাইকোর্টে বাতিল

বি নিউজ : নকশা জালিয়াতির মামলায় বনানীর এফআর টাওয়ারের অন্যতম মালিক এসএমএইচআই ফারুকসহ তিন আসামির জামিন বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট। অপর দুজন হলেন- রাজউকের সাবেক ইমারত পরিদর্শক আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী (নান্নু) ও শওকত আলী। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। খুরশীদ সাংবাদিকদের বলেন, বনানীর এফআর টাওয়ার সংক্রান্ত দুদকের মামলায় এই তিন আসামির সঙ্গে অপর মালিক বিএনপির নেতা তাসভীর উল ইসলামের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত তাসভীরের জামিন বাতিলের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। বাকিদের জামিন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির পাশাপাশি তাদের জামিন বাতিলে অন্তবর্তী আদেশ দেয়। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। মামলাটিতে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান। আসামিরা ১৯ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ভিন্ন দিনে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত থেকে জামিন নেন। গত ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ২৭ নিহত হওয়ার পর এই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ওই ভবনের জমির মূল মালিক ছিলেন প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুক। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড। সে কারণে সংক্ষেপে ভবনের নাম হয় এফআর টাওয়ার। নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ভবনটিতে কয়েকটি তলা বাড়ানোর অভিযোগে গত ২৫ জুন তাসভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন দুদক কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক। একটি মামলায় রাজউকের ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, উপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেওয়া ও বিক্রি করার অভিযোগে ২০ জনকে আসামি করা হয়। অপর মামলাটি করা হয় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর অভিযোগে। ফারুক ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল দুই মামলারই আসামি। ১৯৯০ সালে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউক থেকে অনুমতি নেয় এফআর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ। পরে ১৯৯৬ সালে অবৈধভাবে ওই ভবন ১৮ তলা করার অনুমোদন দেয় রাজউক। এফআর টাওয়ার পরে ২০০৩ সালে রূপায়ন হাউজিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে। সেই চুক্তি অনুযায়ী নির্মিত হয় ১৮ তলা ভবন। একই বছর রূপায়নের সঙ্গে সম্পূরক চুক্তি করে এফআর টাওয়ার। সেখানে ভবনটি ২৩ তলায় উন্নীত করতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। এজাহারে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য রাজউকের এস্টেট শাখা থেকে কোনো দরপত্র দেওয়া হয়নি। কোন ধরনের নকশা বা বিলও অনুমোদন করা হয়নি। এর আগে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকা-ের ঘটনায় পুলিশের করা মামলাতেও ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল। পরে তিনি ওই মামলায় জামিনে মুক্তি পান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher