বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

অভিভাবকহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: স্থবির হয়ে পড়েছে সকল কার্যক্রম

অভিভাবকহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: স্থবির হয়ে পড়েছে সকল কার্যক্রম

বি নিউজ : দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ ছয়মাস ধরে অভিভাবকহীন হয়ে পরেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য, রেজিস্টার, ট্রেজারার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, লাইব্রেরীয়ানসহ প্রধান প্রশাসনিক পদগুলোতে নেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ। ফলে স্থগিত থাকা অনার্সের ভর্তি পরীক্ষা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে সেশনজটের আশঙ্কায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি উপাচার্য না থাকায় গত ছয়মাস ধরে সিন্ডিকেট মিটিং, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং, অর্থ কমিটির মিটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ মিটিংগুলো বন্ধ রয়েছে। সবমিলিয়ে বর্তমানে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠটিতে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সাইন অথোরিটি না থাকায় আর্থিকভাবেও অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলোর ডিনের দায়িত্ব পালন করেন উপাচার্য। যেকারণে ওইসব বিভাগের পরীক্ষা, ফলাফল প্রকাশসহ সব কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। অর্থছাড়ের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও বন্ধ রয়েছে। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর মিয়া বলেন, উপাচার্য না থাকায় গত ছয় মাস ধরে একাডেমিক, অর্থ ও সিন্ডিকেট সভা হচ্ছেনা। খন্ডকালীন শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এমনকি স্থগিত থাকা অনার্সের ভর্তি পরীক্ষা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাও ভেঙে পরেছে। এ অবস্থায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া খুবই জরুরি হয়ে পরেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কিন্তু সিলেবাস প্রনয়ন, ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া, স্থগিত থাকা পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আমরা নিতে পারছিনা। ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী বলেন, উচ্চপদস্থ সকল পদই শুন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য না থাকলে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার রুটিন করা সম্ভব হচ্ছেনা, ফলে পরীক্ষা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সেশনজট চরম পর্যায়ে পৌছেছে। পরীক্ষা ফলাফলও প্রকাশ করা যাচ্ছেনা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, উপাচার্য না থাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে আছে। সরকার দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অচলাবস্থা নিরসন করবেন বলেও তারা শতভাগ আশাবাদী।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher