রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২২ অপরাহ্ন

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও সঞ্চালন দুরবস্থায় বিতরণ সীমাবদ্ধতা কাটছে না

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও সঞ্চালন দুরবস্থায় বিতরণ সীমাবদ্ধতা কাটছে না

বি নিউজ : দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও সঞ্চালন দুরাবস্থায় বিতরণ সীমাবদ্ধতা কাটানো যাচ্ছে না। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সারাদেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সীমাবদ্ধতা দূর করা জরুরি। আর ওই সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারলেই দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নত হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগের ঢাকার বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যতো চিন্তা করা হচ্ছে, তার বাইরের বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে তেমন প্রচেষ্টা নেই। ফলে দেশের সাত জোনে রয়ে গেছে বিদ্যুৎ বিতরণে সীমাবদ্ধতা। ওই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে না পারায় বিদ্যুতে সরকারের সাফল্যর সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা একটু বাড়লেই লোডশেডিং করতে হয়। সঞ্চালন লাইন আর গ্রিড সাবস্টেশনগুলো ওভারলোডে চলাতে ফোর্স লোডশেডিং করতে হয়। তখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকার বাইরে দেশের পঞ্চগড়, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বরিশাল এবং সিলেট জোনে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোনো না কোনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) তা অতিক্রম করতে পারছে না। কোথাও কোথাও আবার বিতরণ কোম্পানির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাতে দু]ভাবে সঙ্কটে পড়ছে গ্রাহক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতরণ কোম্পানি চাইলেও পিজিসিবি বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিজিসিবি চাইলেও বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুৎ নিতে পারছে না।
সূত্র জানায়, পঞ্চগড় জোনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় ১৩২ কেভি লাইন ওভারলোডেড, সৈয়দপুর-পূর্ব সৈয়দপুর লাইন ওভারলোডেড, রংপুর-লালমনিরহাট সিঙ্গেল সার্কিট লাইন ওভারলোডেড, লালমনিরহাট-কালিগঞ্জ, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম লাইনের সোর্স লাইনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। আবার জলঢাকায় যে নতুন গ্রিড লাইন নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে নর্দার্ন ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) সীমাবদ্ধতার কারণে নীলফামারী সদর, জলঢাকা এবং ডোমার লো-ভেল্টেজে ভুগছে। খুলনা জোনে ভেড়ামারা-খুলনা ২৩০ কেভির ডবল সার্কিট লাইনের দূরত্ব অনেক বড়। ভেড়ামারা গ্রিডকেও বলা হচ্ছে ওভারলোডেড। কারণ ভেড়ামারার গ্রিড ক্যাপাসিটি ৭৪ মেগাওয়াট কিন্তু সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ৬৬ মেগাওয়াট লোডে চলছে। যা মোট ক্ষমতার ৮৯ ভাগ। কিন্তু যা ক্যাপাসিটি তার ৮০ ভাগ ক্ষমতায় চালাতে হয়। কিন্তু চালানো হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ক্ষমতায়। একইভাবে ফরিদপুর গ্রিডকেও বলা হচ্ছে ওভারলোডেড। ফরিদপুর গ্রিডের ক্যাপাসিটি ২১৬ মেগাওয়াট হলেও পিক ডিমান্ডের সময় ১৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখানে ৯২ ভাগ লোডে চালানো হচ্ছে। তাতে করে গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুর এলাকার বিদ্যুৎ পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। খুলনা জোনের মধ্যে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সিঙ্গেল সার্কিট ১৩২ কেভি লাইন, চুয়াডাঙ্গার ১০০ কেভি এবং মেহেরপুরের-১৩২ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন ওভারলোডে চলছে। ঝিনাইদহ-মাগুরা সিঙ্গেল ১৩২ কেভি সার্কিট লাইন চলছে ওভারলোডে। তাতে মাগুরা এবং নড়াইলে লো-ভেল্টেজের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ভেড়ামারা-ফরিদপুর ১৩২ কেভি ডবল সার্কিট লাইনটি দূরত্বের কারণে ফরিদপুরের গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী এলাকায় লো-ভোল্টেজের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সূত্র আরো জানায়, রাজশাহী জোনে নেসকোর সীমাবদ্ধতার কারণে মিয়াপাড়া নতুন গ্রিডে লোডশেডিং হচ্ছে। নওগাঁ-জয়পুরহাট এবং নওগাঁ-নীলফামারী সিঙ্গেল সার্কিট ১৩২ কেভি লাইন আপগ্রেড করার কথা বলা হচ্ছে। নিয়ামতপুর গ্রিডের ক্যাপাসিটি না বৃদ্ধি করাতে ওই জোনের কিছু এলাকাতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া ময়মনসিংহ-কালিয়াকৈর-টাঙ্গাইল ১৩২ কেভি লাইন ওভারলোডেড। একই অবস্থা কবিরপুর-কালিয়াকৈর লাইনের, কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ১৩২ কেভি লাইন এবং কিশোরগঞ্জ সাবস্টেশন দুটোই চলছে ওভারলোডে। বলা হচ্ছে কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি নেত্রকোনা এবং শেরপুরের গ্রিড সাবেস্টেশন দুটোও আপগ্রেড করতে হবে। প্রতিদিনই ভালুকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জে লো-ভোল্টেজের সমস্যা হচ্ছে। আর কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রিড সাবস্টেশন ওভারলোডেড, চাঁদপুর রামগঞ্জ এবং চৌমহনী ১৩২ কেভি লাইন এবং চৌমহনী ও রামগঞ্জ সাবস্টেশন আপগ্রেড করা প্রয়োজন। তাছাড়া বরিশাল জোনে বরিশাল, পটুয়াখালী ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন চলছে ওভারলোডে। এতে এই এলাকার কিছু এলাকায় ফোর্স লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বরিশালের গ্রিড ক্যাপাসিটি ১৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পিক ডিমান্ডের সময় ৮৯ ভাগ লোডে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। বরগুনা-বাকেরগঞ্জ গ্রিড নির্মাণের কাজ চলছে। তাছাড়া ভোলা ২৩০ কেভি লাইন এবং বরিশাল-ভান্ডারিয়া ১৩২ কেভি লাইন দ্রুত নির্মাণ শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে পিডিবি। সিলেট জোনে বিবিয়ানা-শাহাজিবাজার ১৩২ কেভি লাইন এবং শাহজিবাজার ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশন আপগ্রেড করা জরুরি। সিলেটে এছাড়াও কুমারগাঁও সাবস্টেশন ওভারলোডে চলছে। তাছাড়া সিলেটে উত্তর এবং দক্ষিণের সাবস্টেশন দ্রুত নির্মাণ করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ জানান, একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র যখন নির্মাণ করা হয় তখনই বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত। তা না করায় সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। পিক ডিমান্ডের (সান্ধ্যকালীন সর্বোচ্চ চাহিদা) সময় গ্রিড সাবস্টেশন সর্বোচ্চ ক্ষমতায় তিন-চার ঘণ্টা চালানো সম্ভব। কিন্তু এর বেশি সময় চালালে সমস্যা তৈরি হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher