সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

খালেদার অসুস্থতাকে রাজনৈতিক ইস্যু করতে চাচ্ছে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী

খালেদার অসুস্থতাকে রাজনৈতিক ইস্যু করতে চাচ্ছে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী

বি নিউজ : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজ শনিবার বলেন, আমাদের কাছে কেন জানি মনে হয় যে, তাঁরা (বিএনপি) খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যতটা না উদ্বিগ্ন তার চেয়ে বেশি তাঁরা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে পুঁজি করে আন্দোলনের ইস্যু খুঁজে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার একটা দূরভিসন্ধি তাদের রয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য এমন একটি সময়ে এলো যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার ও দল। গত শুক্রবার খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা করে এসে জানিয়েছেন, সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এদিন পরিবারের সদস্যরা এক ঘণ্টারও বেশি সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে বেরিয়ে এসে সেলিমা ইসলাম আরও বলেন, খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। উনি উঠতে পারছেন না, বসতে পারছেন না, নিজ হাতে কিছু খেতে পারছেন না। চলতে পারছেন না। শুয়ে থাকতেও ওঁর কষ্ট হচ্ছে। দুই সপ্তাহ ধরে তাঁকে কোনো ডাক্তার দেখছেন না। ওঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া দরকার। আমরা উনাকে বিদেশে পাঠাতে চাই। গতকাল শনিবার দুপুরে ফেনী সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদেরের সামনে সাংবাদিকরা বিষয়টির অবতরণা করেন। এ সময় সেতুমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বলেন, দুর্বার আন্দোলন করে তাঁরা তাঁকে মুক্ত করে আনবেন। দুই বছর হয়ে গেল তিনি কারাগারে। তাঁরা চোখে পড়ার মতো একটা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। দৃশ্যমান কোনো উত্তাপ রাজপথে সঞ্চারিত হয়নি। তাঁরা আন্দোলন করে বের করতে পারলে করুক। আমাদের তো কোনো আপত্তি নেই। তাঁরা যদি তাঁতে আন্দোলন করে বের করতে চান করুক। বিএনপি আন্দোলনের হাঁক-ডাক করছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বাস্তবে তাদের কার্যকলাপে মনে হয় যে, তাদের এই হাঁকডাক আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনের মতোই। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন, তাঁরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তাঁরা অপকর্মের কোনো শাস্তি দেননি। শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযান করে সৎ সাহস দেখিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, দুনিয়ার ইতিহাসে কোনো দেশে দলীয় সরকার তাদের দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করেছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনা নিজের দলের লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা বিরল হয়ে রইবে। তিনি (শেখ হাসিনা) প্রমাণ করেছেন অপরাধ করলে নিজের দলেরও কোনো ছাড় নেই। শেখ হাসিনা সৎ সাহস দেখিয়েছেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত যেই দুর্নীতি করুক, এটা সরকারের নজরে আছে, সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। দুদক আওয়ামী লীগের অনেক সংসদ সদস্যের দুর্নীতি তদন্ত করছে, বলেন মন্ত্রী। আদালত রায় দিয়েছে যে বিএনপি একটা সন্ত্রাসী দল, তাদের নেতা বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে পারে না। বিএনপি নিজেদের দলের কোনো লোকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। আর বিএনপির আমলে দেশে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার রায় প্রমাণ করে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার হস্তক্ষেপ করে না। আওয়ামী লীগের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন জানিয়ে কাদের বলেন, এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১৬ জনের সবার ফাঁসি হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক সভাপতিও ছিলেন, তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। সেও ফাঁসির রায় পেয়েছে। এ থেকে প্রমাণ হয় অপরাধী যেই হোক তার নিস্তার নেই। জয়নাল হাজারীর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়ার আলোচনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুনিদির্ষ্টভাবে কিছু বলতে পারছি না, সভাপতি নির্দেশ দিলে সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি যাওয়ার কথা। কিন্তু আমি কোনো চিঠি দেইনি। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের চলে যেতে হবে, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, ক্রমাগত বাড়ছে। চীন, ভারত থেকে চাপ আসছে। সব দিক থেকে মিয়ানমার সরকার চাপে রয়েছে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরন্নবী, অতিরিক্ত জেলা প্রাশাসক (সার্বিক) সুমনী আক্তার, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, ফেনী পৌর সভার মেয়র হাজি আলাউদ্দিন, প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান, নোয়াখালী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রহিম।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher