শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
পাবনায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে দুই খালাতো বোনের মৃত্যু করোনা সংকটের মধ্যেও বিনিয়োগ আনতে হবে: প্রধানমন্ত্রী যমুনায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫ যুবকের সন্ধান মেলেনি মামলা-আবেদন দায়েরে তামাদি মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যার প্রায় আড়াই লাখ -আরও ২৯৭৭ জনের করোনা শনাক্ত, ৩৯ জনের মৃত্যু শিশুদের সৃজনশীল বই সরবরাহে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসার বদলে দুর্নাম কুড়াচ্ছে পাট ও চামড়াশিল্প পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ : মোমিন মেহেদী কলাপাড়ায় গনপরিবহনে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, দুই চালককে জরিমানা তাপসীকে ফের কটাক্ষ করলেন কঙ্গনা পায়রা বন্দরের কয়লাবাহী জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরা ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ-১
যুবলীগের সভাপতি সম্রাট ও সহ-সভাপতি আরমানের ছয় মাসের কারাদন্ড

যুবলীগের সভাপতি সম্রাট ও সহ-সভাপতি আরমানের ছয় মাসের কারাদন্ড

বি নিউজ : কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে ছয় মাস করে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটক হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে নিয়ে তাঁর কাকরাইলের কার্যালয় ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা, বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ক্যাঙারুর চামড়া উদ্ধার করে র‌্যাব। দুপুর সোয়া একটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ওই কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। একই সময় সম্রাটের ভাইয়ের শান্তিনগরের বাসা ও সম্রাটের মহাখালীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। তবে সেখান কী পাওয়া গেছে তা জানায়নি র‌্যাব। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর এই ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অবস্থান করেছিলেন সম্রাট। পরে তিনি অন্য জায়গায় চলে যান। র‌্যাবের ডিজি বেনজীব আহমেদ বলেছেন, অভিযান শুরুর ২ দিনের মাথায় সম্রাট ঢাকা ত্যাগ করেন। আজ কুমিল্লা থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে সম্রাটের কার্যালয় থেকে ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, একটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ক্যাঙারুর চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
ক্যাঙারুর চামড়া পাওয়ায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট’কে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর কুমিল্লায় গ্রেপ্তারের সময় আরমান ‘মদ্যপ’ থাকায় তাকে সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম জানিয়েছেন।
গত শনিবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও যুবলীগের আরেক নেতা এনামুল হক আরমানকে আটক করে র‌্যাব। সেখান থেকে তাঁদের দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের নিয়ে অভিযানে বের হয় র‌্যাব। বেলা সোয়া একটার দিকে সম্রাটকে তাঁর কাকরাইলের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। গত মাসের মাঝামাঝি ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের কারণে যুবলীগ নেতা সম্রাটের নাম আলোচনায় আসে। অভিযানে যুবলীগ, কৃষক লীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা র‌্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। কিন্তু সম্রাট ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন সম্রাট দৃশ্যমান ছিলেন। তিনি ফোনও ধরতেন। সে সময় ছয় দিন তিনি কাকরাইলে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করেন। ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সম্রাটের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাঁকে পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। সেখানেই সবার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পর অন্য স্থানে চলে যান সম্রাট। এরপর তাঁর অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। সম্রাটের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, গত ২ বছর ধরে ঢাকার মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় যেতেন না সম্রাট। তিনি কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে নিজ কার্যালয়ে থাকতেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতারাই মূলত এই ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম দিন ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। এরপরই গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ক্লাবটির সভাপতি খালেদ হোসেন ভূঁইয়াকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের লোকেরা মনে করেন, ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক সম্রাট।

যুবলীগ থেকে সম্রাট ও সহযোগী আরমানও বহিষ্কার
যুবলীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি সম্রাট আজ রোববার ভোরে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবলীগের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজুবিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকা ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে সম্রাটকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
সম্রাটের পাশাপাশি তার সহযোগী ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে মিজু নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আজ রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সম্রাটকে তার সহযোগী ক্যাসিনো আরমানসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্লাবপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর ও ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

সম্রাটের উত্থান যেভাবে
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। রাজধানীর ক্লাবপাড়ায় রমরমা জুয়ার আসর পরিচালনা করে ব্যাপক আলোচিত তিনি। ক্লাবগুলোতে জুয়ার আধুনিক সংস্কার ‘ক্যাসিনো’ ব্যবসাও যুক্ত করেছেন সম্রাট। এ কারণে জুয়াড়িদের কাছে তিনি ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ নামেও পরিচিতি পেয়েছেন। জুয়া ক্যাসিনো ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণের গোটা অঞ্চলে ছিল তার দাপট। গত ১০ বছর ধরে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বাড়ি ও জমিদখল সবই নিয়ন্ত্রণ করেছেন সম্রাট। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার অধিবাসী সম্রাটের পিতা রাজউকের ছোট পদে চাকরি করতেন। বাড়ি পরশুরামে হলেও সেখানে তাদের পরিবারের কেউ থাকেন না। বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় বড় হন সম্রাট। পরিবারের সঙ্গে প্রথমে বসবাস করতেন কাকরাইলে সার্কিট হাউস সড়কের সরকারি কোয়ার্টারে। রাজনীতিতে সম্রাটের আগমন ঘটে ১৯৯০ দশকের শুরুর দিকে। এ সময় কিছুদিন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবশ্য তার আগে এরশাদের জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রসমাজের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে তার পরিচিতজনেরা জানিয়েছেন। বিএনপির ১৯৯১-৯৬ আমলে ছাত্রলীগ ছেড়ে দিয়ে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৩ সালে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে সময় দক্ষিণের সভাপতি ছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। মূলত শাওনই সম্রাটকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সম্রাট ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি হন। এরপর আর তার পেছনে তাকাতে হয়নি। এদিকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নিজস্ব কোনও কার্যালয় না থাকলেও সম্রাট দায়িত্ব নেওয়ার পর কাকরাইলে রাজমণি সিনেমা হলের উল্টো দিকে বিশাল এক ভবনের পুরোটাজুড়ে অফিস শুরু করেন। সাংগঠনিক কাজের কথা বলা হলেও এখানে বসেই সম্রাট ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে থাকতো তার কর্মী বাহিনী ও অপকর্মের সঙ্গীদের আনাগোনা। যে রাতে খালিদ মাহমুদ গ্রেফতার হন, ওই রাতে সম্রাট তার অফিসেই ছিলেন বলে জানা যায়। অবশ্য পরিবার নিয়ে তার বসবাস মহাখালী ডিওএইচএসের একটি বাড়িতে। নানা অপকর্মের বিপরীতে সম্রাট যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি কাড়েন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ‘লোকবল’ সাপ্লাই আর অর্থ দিয়ে। তার রয়েছে বিশাল ‘কর্মীবাহিনী’। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের শোডাউন দেখাতেন তিনি। কর্মীবাহিনীকে একেক কর্মসূচিতে একেক ধরনের পোশাক পরিয়ে দৃষ্টি কাড়তেন সবার। এজন্য যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্রাটকে শ্রেষ্ঠ সংগঠক বলে আখ্যায়িত করেন। এমনকি ক্যাসিনো ব্যবসার খবর প্রকাশের পরও তার পক্ষে অবস্থান নেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশের সঙ্গেও রয়েছে তার সখ্য। যে কারণে সম্রাটের যেকোনও কর্মসূচির মিডিয়া কাভারেজও ছিল চোখে পড়ার মতো। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্রাটের এই কর্মীবাহিনীর তথ্য জানতেন। এজন্য তার প্রতি সফটকর্নার ছিল সবসময়। গত বছর সম্রাটের বিরুদ্ধে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। এটা জানতে পেরে শেখ হাসিনা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। আঞ্জুমানকে প্রধানমন্ত্রী নিজে ও তার বোন শেখ রেহানা বিভিন্ন সময়ে অনুদান দিয়ে আসছেন। সম্রাট তাদের কাছে চাঁদা চাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুব্ধ হয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সম্মেলনে যাওয়ার আগে তিনি যুবলীগ দক্ষিণের কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে যান। তবে সেই নির্দেশনা তখন বাস্তবায়ন পর্যন্ত গড়ায়নি। এরইমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সম্রাটের জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনার রিপোর্ট পান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে কানাডা সফরে গেলে মতিঝিল এলাকার সাবেক একজন ছাত্রনেতা সম্রাটের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। সম্রাটের কারণেই তিনি রাজনীতি ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন বলে জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে গিয়ে আবারও সম্রাটের নাম আসে। তখন প্রধানমন্ত্রী সম্রাটের জুয়া ক্যাসিনো ব্যবসার নাম উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এরপরই গ্রেফতার হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভুঁইয়া। এ সময় আলোচনায় আসে সম্রাটের নামও।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট গত দিন দশেক ধরে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে ছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে থেকেও তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে সেই চেষ্টায় সফল হননি। গতকাল রোববার ভোরের দিকে সম্রাটকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আত্মীয় মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সম্রাটের বড় ভাই বাদল চৌধুরী ঢাকায় তার ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ছোট ভাই রাশেদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। মা বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর সম্রাটের পরিবারের সবাই গা ঢাকা দেন। সম্রাটের ঘনিষ্ঠ দুই সহচর হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। যুবলীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা জি কে শামীমও সম্রাটকে অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন। ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ রাজধানীর জুয়াড়িদের কাছে বেশ পরিচিত নাম তিনি ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। সম্রাটের নেশা ও ‘পেশা’ জুয়া খেলা। তিনি একজন পেশাদার জুয়াড়ি। প্রতিমাসে অন্তত ১০ দিন সিঙ্গাপুরে যান জুয়া খেলতে। সেখানে টাকার বস্তা নিয়ে যান তিনি। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন জুয়াড়িরা। কিন্তু সেখানেও স¤্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। প্রথমসারির জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’যোগে। সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও জুয়াড়ি খোরশেদ আলম।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher