রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পদ্মার পানি, প্লাবিত হচ্ছে উত্তরের জনপদ

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পদ্মার পানি, প্লাবিত হচ্ছে উত্তরের জনপদ

বি নিউজ : পদ্মা নদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পানি। ফলে প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। এরইমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের অসংখ্য মানুষ। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল-কলেজ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি। ভারি বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট বন্যা থেকে ভারতের রাজ্য বিহারের রাজধানী পাটনাসহ আরো ১২ জেলাকে রক্ষার জন্য ফারাক্কা বাঁধের ১১৯টি গেটের সব খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একাংশ ও বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মালদা জেলার ফুলহর, মহানন্দা ও কালিন্দী নদীতে পানি বাড়ছে। সেখানে একাধিক জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। চরম বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা ও ফুলহর। এরপরই রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেছিলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক দিনে ১১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া টানা বর্ষণের কারণেও পদ্মার পানি বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
পাবনা: পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পানি পরিমাপ করার পর এ তথ্য জানা গেছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড হাইড্রোলজি বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহিরুল হক বলেন, ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। আর সকাল ১০টায় বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। এর আগে সকাল ৯টার দিকে পরিমাপ অনুযায়ী বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। এদিকে পানি বাড়ার ফলে নিচু এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ।
নাটোর: ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়ায় নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পদ্মার পানি হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা বরাবর ও চারঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এরইমধ্যে লালপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৮টি চরের ফসল ও বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব চরে বসবাসকারী প্রায় তিন হাজার পরিবার।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে পদ্মার পানি। বিপৎসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এদিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে ভারত সীমান্তবর্তী দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর ছাড়াও ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের গ্রামগুলো বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এই চার ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামে পানি ঢুকে গেছে। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিজ বাড়িতে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। পানি ঢুকে যাওয়ায় ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কু-ু বলেন, বৃষ্টির কারণে গত ১৫ দিন ধরেই কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে পানি বাড়ছে। ভারতের ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত দুদিন অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে পানি। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১৪ দশমিক ২৪, যা বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশঙ্কা, যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। এতে চরম ক্ষতির আশঙ্কায় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহম্মেদ জানান, গেল রাতে সামান্য কিছু ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে মোট এক হাজার ৫০০ পরিবারের জন্য শুকনো খাবার, চাল, ডাল পেয়েছেন, যা আজ তাঁরা বিতরণ করবেন। এটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য, বানভাসি মানুষকে বাঁচাতে তাঁরা দ্রুত আরো ত্রাণ সহায়তা প্রার্থনা করছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: দেশে স্বল্পকালীন বন্যার আশঙ্কার মাঝে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মানদীতে ১২ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে তিন সেন্টিমিটার। তবে ফারাক্কা বাঁধের লকগেট খুলে দেওয়ার পর পদ্মায় যে হারে পানি বৃদ্ধি হচ্ছিল, সেই হার আজ মঙ্গলবার কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম। পদ্মা নদীতে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাংখা পয়েন্টে এই তিন সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পায় বলে জানান তিনি। এর আগে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি এবং উজানে পানি বাড়ায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর অঞ্চলে স্বল্পকালীন বন্যা হতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানিয়েছেন। মৌসুমি বায়ু বিদায়বেলায় প্রায় প্রতিদিনই সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দেশের উজানে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিকিম, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশেও বৃষ্টি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আরিফুজ্জামান। গত রোববার তিনি বলেন, দেশের ভেতরেও বৃষ্টি বেড়েছে। এর প্রভাবে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি বাড়ছে। আগামি ৭২ ঘণ্টা এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এ পরিস্থিতিতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। বুধ-বৃহস্পতিবারের দিকে এ বন্যা দেখা দিতে পারে। মৌসুমি বায়ু দেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগারে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আতিকুল জানান, বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্টে পানির স্তর রয়েছে ২২ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ফারাক্কার সব লকগেট খুলে দেওয়ার পর সোমবার দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাতেই পাঁচ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু সেই হার কমে গেছে। সেখানে পরের ১২ ঘণ্টায় বেড়েছে মাত্র তিন সেন্টিমিটার বলে জানান তিনি। এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার অতি-নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
রাজশাহী: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ডুবতে শুরু করায় গবাদিপশুসহ চরের মানুষদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। রাজশাহীর চারটি উপজেলা গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘার চররাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬০০ পরিবারকে চরাঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরিয়ে নেওয়া লোকজনকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এদের অধিকাংশের উঁচু এলাকায় নিজের বাড়ি বা আত্মীয়সজন রয়েছেন। সেখানে গিয়ে তারা উঠছেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার চরাঞ্চলের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্নাঞ্চল থেকে মানুষজন সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে জেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে চার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে চরাঞ্চলের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়াও হয়েছে বলে জানান তিনি। ত্রাণ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং উজানে পানি বাড়ায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর অঞ্চলে স্বল্পকালীন বন্যা হতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানিয়েছেন। মৌসুমি বায়ু বিদায়বেলায় প্রায় প্রতিদিনই সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দেশের উজানে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিকিম, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশেও বৃষ্টি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আরিফুজ্জামান। রোববার তিনি বলেন, দেশের ভেতরেও বৃষ্টি বেড়েছে। এর প্রভাবে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। বুধ-বৃহস্পতিবারের দিকে এ বন্যা দেখা দিতে পারে। এদিকে, মৌসুমি বায়ু দেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগারে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপাত্ত সংগ্রহকারী এনামুল হক বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মায় পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ০৪ মিটার। সকাল ৯টায় আরো এক সেন্টিমিটার বেড়ে দাড়ায় ১৮ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। শহরের সাথে সংযুক্ত স্লুইসগেইটগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, পদ্মার পানি বাড়লেও রাজশাহী শহরে পানি প্রবেশের কোন সম্ভাবনা নাই। তবে গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে বন্যায় ক্ষতি হবার আশঙ্কা করছেন তিনি। গত জুলাই মাসে বর্ষায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জসহ ২৮টি জেলা প্লাবিত হয়। বন্যায় শতাধিকের মৃত্যুর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩০ লাখের বেশি মানুষ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher