মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

কর্মস্থল কক্সবাজার, থাকেন বরিশালে, গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়

কর্মস্থল কক্সবাজার, থাকেন বরিশালে, গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়

বি নিউজ : কর্মস্থল তার কক্সবাজারে কিন্তু অফিসের বড়কর্তাকে ম্যানেজ করে তিনি থাকেন বরিশাল শহরে। দীর্ঘ ২৮ বছরের কর্মজীবনের বেফশরভাগ সময়ই কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যসহকারী মো. হুমায়ুন কবির কাটিয়েছেন একই কর্মস্থলে। তবে বেশিরভাগ সময়ই তিনি কর্মস্থলে ছিলেন অনুপস্থিত। তার পরেও বরিশাল শহর এবং নিজ উপজেলা বাকেরগঞ্জে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। তৈরী করেছেন ছয়তলা ভবনের আলিশান বাড়ি। এছাড়াও তিনি বরিশাল শহরে ২০ শতকসহ বাকেরগঞ্জে ১০১ শতক জমি ক্রয় করেছেন। তার এই সম্পদ গড়ার উৎস নিয়ে পৈত্রিক বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গোলাম সরোয়ার নামে এক ব্যাক্তি স্বপ্রনোদিত হয়ে অতিসম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মাঠে নেমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী পদে কর্মরত একজন ব্যক্তির এত সম্পদের তথ্য পেয়ে অবাক হন দুদক কর্মকর্তারা। দুদকে দেয়া অভিযোগের তদন্তের কথা স্বীকার করে বরিশাল অফিসের সহকারী উপ-পরিচালক আল-আমিন জানান, অভিযোগের অনেকটা সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষপর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অপরদিকে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। দুদকে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, হুমায়ুন কবিরের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে। হতদরিদ্র মৃত আতাহার আলী মল্লিকের চার পুত্রের মধ্যে তৃতীয় ছেলে হুমায়ুন কবির ছাড়া বাকী তিনজন দিনমজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে হুমায়ুন এইচএসসি পাশ করেছেন। বাকীদের অর্থাভাবে পড়াশুনা করাতে পারেননি তার বাবা। সূত্রমতে, এইচএসসি পাশ হুমায়ুন কবির ১৯৯১ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী পদে চাকরি নেন। তার দীর্ঘ ২৮ বছরের চাকরি জীবনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত ছিলেন। কাগজে-কলমে কর্মরত থাকলেও তিনি বেশীরভাগ সময় অবস্থান করেন বরিশাল শহর ও বাকেরগঞ্জের পৈত্রিক বাড়িতে। তবে হুমায়ুন কবির কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও এত সম্পদ কিভাবে গড়েছেন তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন-পানি উন্নয়র বোর্ডের কার্যসহকারী পদে স্বল্প বেতনে চাকরি করে একজন ব্যক্তি কিভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়তে পারেন তা প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ এবং সরেজমিনে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির তার ২৮ বছরের চাকরিকালীন বরিশাল মহানগরীর তিন এলাকায় ২০ শতক জমি ক্রয় করেছেন। সেগুলো হলো-বরিশাল সদর জেএল নং-৫৬, রুপাতলী মৌজা, এসএ ৪৭৯৮ খতিয়ানে ১০ শতক (যার দলিল নং-৬৭৬৯), বরিশাল সদর জেএল নং-৬৮, দক্ষিণ চর আইচা মৌজা, ৩১৭নং খতিয়ানে ৫ শতক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জেএল নং-১২৯ পূর্ব চর দপদপিয়া মৌজা, ১৭.২৫ খতিয়ানে ৫ শতক জমি (যার দলিল নং-১৬৬৭)। যার প্রতিটি তার নিজ নামে সাব কবলা করেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য কমপক্ষে দুই কোটি টাকা। এছাড়াও তার নিজ গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জের পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ২০নং রঘুনাথপুর মৌজায় এসএ ৮০৬, ২৮৫ খতিয়ানে ৪৬ শতক (যার দলিল নং-৪৮৮৩), একই মৌজায় এসএ ৪৩০নং খতিয়ানে ১০ শতক (যার দলিল নং- ১১৫৭), এসএ ২৯০নং খতিয়ানে ২০ শতক (যার দলিল নং- ২৮৩৭), এসএ ৪৯২নং খতিয়ানে দাতা আজাহার মৃধার কাছ থেকে ১০ শতক জমিসহ নিজ নামে সর্বমোট ১০১ শতক জমি সাব কবলা করেন। যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা। হুমায়ুন কবির তার ক্রয়কৃত বরিশাল মহানগরীর ধান গবেষণা রোডের ১০ শতক জমির মধ্যে ৫ শতকের উপর তৈরি করেছেন আলিশান ছয়তলা ভবনের বাড়ি। যার নির্মান কাজ বর্তমানেও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ওই বাড়ি নির্মান করতে গিয়ে হুমায়ুন কবির তিন কোটি টাকার অধিক খরচ করেছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। অভিযোগকারী গোলাম সরোয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশালের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। জানা গেছে, হুমায়ুন কবির তার নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে বরিশাল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করলেও রহস্যজনক কারণে তার বর্তমান অফিস প্রধান এ বিষয়ে অফিসিয়াল কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। সূত্রগুলোর দাবি, সু-চতুর হুমায়ুন কবির তার কর্তাবাবুকে ম্যানেজ করেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন বছরের পর বছর। গত কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য নেয়ার জন্য সাংবাদিকরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় তার কাছে কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বরিশাল শহরের ধান গবেষণা রোডের নির্মানাধীন মৌসুমী ভবনে রয়েছেন বলে জানান। অফিস চলাকালীন কিভাবে বরিশালে রয়েছেন-জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, দুইদিনের ছুটি নিয়ে বরিশালে এসেছি। অভিযোগের ব্যাপারে হুমায়ুন কবির বলেন, আমাকে হয়রানি করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দুদকে অভিযোগ দায়ের করেছে। একপর্যায়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাংবাদিকদের তার বাসায় চা খাওয়ার আমন্ত্রণ করেন। পরবর্তীতে একই সময়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, কার্যসহকারী হুমায়ুন কবির অফিসেই রয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher