মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
করোনায় আরো ২৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮১২ করোনা দুর্যোগেও নানা কৌশলে দেশে ঢুকছে মাদকের চালান দেশে এই প্রথম আমদানি ব্যয় ও রফতানি আয় সমান সমান দেশে করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৪৭৬ ঢাকার বাইরে সাইবার ট্রাইব্যুনাল চালু না হওয়ায় বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে বিপুল লোকসানে বিজেএমসির পাটের বস্তা বিক্রির উদ্যোগ সরকার কারোনা আক্রান্ত রোগীর ভুল পরিসংখ্যান তৈরি করছে: রুহুল কবির রিজভী করোনায় আরও ৩৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১২৮২ দেশজুড়ে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে দীর্ঘদিন পর নতুন করে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার ভ্যাট ফাঁকি রোধে তথ্য যাচাইয়ে ব্যবহৃত হবে বিজনেস ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার
কাশ্মীর : ভূস্বর্গে নরকাগ্নি

কাশ্মীর : ভূস্বর্গে নরকাগ্নি

জিবরীল আমীন
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যে ভরা পর্যটনের অন্যন্য ভূমি কাশ্মীর যাকে ভূস্বর্গ বলে অভিহিত করা হয়, আজ সেখানে নরকের যাতনা বিদ্যমান। দীর্ঘ ৭০ বছর ধরেই সেখানে আগুন প্রজ্বলিত রয়েছে। কাশ্মীরীগণ নিজ ভূমে পরবাসী। কাশ্মীর উপত্যকা খন্ডিত ছিল, এখন বিখন্ডিত। দক্ষিণ এশিয়ার এবং বৃহত্তর ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কাশ্মীর অঞ্চল। ১৯৪৭ সাল থেকেই এটি তিন ভাগে বিভক্ত ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর যা জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখ সমন্বয়ে গঠিত, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর যা আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট বালতিস্তান নিয়ে গঠিত এবং চীন নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর যা আকসাই চীন ও ট্রান্স কারাকোরাম ট্রাক্ট্ অঞ্চলদ্বয় নিয়ে গঠিত। জম্মু ও কাশ্মীর এতোদিন ভারতের অন্তর্ভুক্ত একটি রাজ্য ছিল যাকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছিল ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫ (ক) উপধারার মাধ্যমে । ৩৭০ ধারা মতে কাশ্মীর ছিল স্বায়ত্বশাসিত এবং তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও পতাকা ছিল। তাদের রাজ্যসভা ও বিধান সভা ছিল। আর ৩৫ (ক) অনুযায়ী কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের কোন বাসিন্দাদের জমি সম্পত্তি ক্রয় এবং শিল্প ব্যবসা করার অধিকার ছিল না। গত ৪ আগস্ট ২০১৯ ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ উপরোক্ত দুটি ধারাকে অকার্যকর করে জম্মু ও কাশ্মীরকে দুই ভাগ করে দুইটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে। এই আদেশবলে ৫ আগস্ট “জম্মু ও কাশ্মীর পুর্নগঠন বিল, ২০১৯” রাজ্য সভায় উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং এই দিনে তা ১২৫৬১ ভোটে পাশ হয় এবং পরদিন ৬ আগস্ট লোকসভায় তা ৩৭০-৭০ ভোটে পাশ হয়। উভয় কক্ষেই বিরোধী দল সমূহ প্রতিরোধের চেষ্টা করে এবং কোন কোন দল বিলটি বয়কট করে ও ভোটদানে বিরত থাকে। খুব দ্রুত কোন আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাশ হয় এবং ৯ই আগস্ট প্রেসিডেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ফলে জম্মু ও কাশ্মীর এখন দুইটি কেন্দ্র বা রাষ্ট্রপতি শাসিত অঞ্চল হিসেবে শাসিত হবে দুজন লে. গভর্নরের অধীনে। একটি জম্মু ও কাশ্মীর এবং অপরটি লাদাখ। এদুটি অঞ্চল শুধু বিশেষ রাজ্যের নয়, অন্যান্য রাজ্যের সম মর্যাদাও হারাল। এর অব্যবাহিত আগে থেকেই অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানো হয় এবং ঘোষণার পর তা বর্ধিত করা হয়, ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারি করা হয়, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়। বিক্ষোভ ও হতাহতের খবর বিবিসি এবং অন্যান্য বহি:র্দেশীয় সূত্র থেকে পাওয়া গিয়েছে যদিও ভারত পরিস্থিতির ব্যাপারে মুখ বন্ধ এবং খবর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই নূতন করে সেখানে প্রজ্জলিত হয়েছে বিক্ষোভের আগুন। টুইটার ও ফেসবুকে এ নিয়ে সমলোচনার পোষ্ট আসছে প্রচুর।
কাশ্মীর নিয়ে বর্তমান হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি) দীর্ঘদিন থেকে সুযোগ খুঁজছিল একে পূর্ণ কব্জায় আনার। কাশ্মীরকে ভারতের অংগীভুত করে অন্যান্য রাজ্যের সমতায় আনা বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। হিন্দু মৌলবাদী দল আর এস এস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) ২০০২ সালেই জম্মু ও কাশ্মীরকে তিনভাগে বিভক্ত করে রাজ্যের মর্যাদায় আনার প্রস্তাব ও আন্দোলন শুরু করে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী হিন্দু প্রধান জম্মু, মুসলিম প্রধান কাশ্মীর উপত্যকা এবং বৌদ্ধ মুসলিম অধ্যষিত লাদাখকে তিনটি পৃথক রাজ্যে বিভক্ত হওয়ার কথা। হিন্দুত্ববাদী আর এস এস-এর দীক্ষামুগ্ধ বিজেপি সেই কাজটি সম্পাদন করেছে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌবনে আর এসএস দীক্ষা শিষ্য এবং একনিষ্ঠ প্রচার কর্মী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কট্টর হিন্দুত্ববাদী হিসেবে খ্যাত। ক্ষমতার অপব্যবহার করেই তাঁরা এই অনাকাংখিত কার্যটি করে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছেন। এতে দুই পরমানু শক্তিধর ভারত পাকিস্তান সম্পর্কে টানা পোড়েন আরো বেড়ে গেল। এমনিতেই কাশ্মীর ইস্যুতে দুবার যুদ্ধ হয়ে গেছে এবং মাঝে মাঝেই সীমান্ত সংঘর্ষ হয়ে থাকে। গত কয়েকমাস আগেই কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সামরিক সংঘর্ষ হয়ে যায়। কাশ্মীরীরা যেমন ক্ষোভে ফুঁসছে, তেমনি পাকিস্তানও তীব্রভাবে এর নিন্দা এবং কুটনৈতিক যোগাযোগ করছে। কাশ্মীর এখন “খাঁচাবন্দী” বলে বিবিসি এবং ভারতীয় কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীরা কাশ্মীর ঘুরে এসে জানিয়েছে। ভারতীয় বাহিনী এখন কাশ্মীরকে নিয়ে দখলদারীর মত আচরণ করছে। সেখানে নেতা কর্মীসহ শত শত লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জীবনযাত্রা অচল হয়ে গেছে। বিক্ষোভের ভয়ে বড় বড় মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাত করতে এবং জুম্মার নামাজ পড়তে দেয়া হয়নি। মূলত: কাশ্মীর পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এতে মোদি সরকার চাপে থাকলেও সামনের নির্বাচন গুলিতে লাভবান হবে, কারণ কট্টর হিন্দু ছাড়াও সাধারণ হিন্দুদের অধিকাংশই ভারতকে শুধু হিন্দুদের দেশ বলে মনে করে এবং বিজেপি তাদেরকে সেই লক্ষ্য অর্জনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়া ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার দিকে জনগণের দৃষ্টিকে সরিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে এই অভিনব পদক্ষেপ কাজে দিবে। তাইতো ভারতের ৭৩ তম স্বাধীনতা দিবসে গত ১৫ আগস্ট ২০১৯ লাল কেল্লায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দম্ভভরে বলেন “৭০ বছরে যা হয়নি ৭০ দিনে তা করে দেখিয়েছি”।
কাশ্মীর সমস্যার ঐতিহাসিক পটভূমি প্রণিধানযোগ্য। এয়োদশ শতাব্দী থেকে কাশ্মীরে ইসলামের বিস্তার ঘটে। এর আগে পঞ্চম শতাব্দীর পূর্বে প্রথমে হিন্দুধর্ম, পরে বৌদ্ধ ধর্ম এবং নবম শতাব্দীতে শৈব মতবাদের উত্থান ঘটে। ১৩৩৯ সালে কাশ্মীরে প্রথম মুসলিম শাসক হন শাহ মীর এবং পরবর্তী পাঁচ শতাব্দী কাশ্মীরে মুসলিম শাসন ছিল। ১৮৪৬ সালে বৃটিশদের সাথে অমৃতসর ছুক্তি অনুযায়ী জম্মুর ডোগরা রাজা গুলাব শিং অঞ্চলটি বৃটিশদের কাছ থেকে ক্রয় করে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বৃটিশ সা¤্রাজ্যের অনুগত শাসক হিসেবে কাশ্মীর শাসন করে। কাশ্মীরে সর্বশেষ রাজা হরি শিং ১৯২৫ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরের রাজা ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের শর্ত অনুযায়ী দেশীয় রাজ্যগুলি ভারত বা পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে পারবে অথবা স্বাধীনভাবে শাসিত হতে পারবে।১৯৪৭ সালের ২৬শে অক্টোবর রাজা হরি শিং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের মতের বিরুদ্ধে ভারত ভুক্তির চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির পক্ষে ভারত এবং কাশ্মীরি জনগণের পক্ষে পাকিস্তান যুদ্ধে লিপ্ত হয়। কাশ্মীরের একাংশ আজাদ কাশ্মীর নামে পাকিস্তানের দখলে এবং জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের দখলে থেকে যায়। রাজা হরি শিং নির্বাসনে চলে যান। কাশ্মীর নিয়ে ভারত পাকিস্তান সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। দ্বিতীয়বারের মত ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ এবং ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধ হয়। কিন্তু কাশ্মীর এই ভাবেই বিভক্ত হয়ে থাকে। আজাদ কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী পাকিস্তানের সংগে থাকতেই সচ্ছন্দবোধ করে। জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ ভারতীয় অধীনতা ও শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে এবং স্বাধীনতার জন্য গেরিলা যুদ্ধ করছে। ভারত একে বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং সন্ত্রাসকে দমন করার জন্য এবং ভারতের অংগরাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই সাম্প্রতিক এই সংস্কার যা পূরনো সংকটকে আরো জটিল করে তুলল। বিশ্লেষকদের মতে কাশ্মীর সংকট উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের ফসল। ১৫ই আগস্ট ২০১৯ ভারতের স্বাধীনতা দিবসে দীল্লির লাল কেল্লা ময়দানে ভাষণ দানকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গঠিত উচ্চারণ “৭০ বছরে যা হয়নি ৭০ দিনে তাই করে দেখিয়েছি” তারই প্রতিফলন।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কাশ্মীর যেমন জ্বলছিল যে আগুন জ্বলা শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সাল থেকে, যার ধারাবাহিকতায় ২/৩টি যুদ্ধ হয়ে গেল সেই আগুনে নূতন করে জ্বালানী দেয়া হল ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে। কাশ্মীরে এখন থমথমে ভুতুড়ে অবস্থা। রাস্তায় গলিতে সেনা নিরাপত্তা বাহিনী, ধর পাকড় অগ্নিসংযোগ, দমন নীপিড়ন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গোলাগুলি দুই কাশ্মীর সীমান্তে সংঘর্ষ সব মিলিয়ে এক নারকীয় অবস্থা। পাকিস্তান তীব্রভাবে এর নিন্দা, প্রতিবাদ এবং কুটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কাশ্মীর ইস্যুতে উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে চীন ও পাকিস্তানের অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৫ আগস্ট কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে রূদ্ধদ্বারে বৈঠক হয়। পাকিস্তান দিল্লী থেকে তাঁদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে এবং ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিয়মিত দুইটি বার্তায় কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে ব্রীফ দিচ্ছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কুটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। পাকিস্তান ভারতের সংগে বানিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং ট্রেন “মমতা এক্সপ্রেস” বন্ধ করে দেয়। ওআইসি (অরগানাইজেশন অব ইসলামকি কনফারেন্স বা ইসলামিক সন্মেলন সংস্থা) কাশ্মীর বিষয়ে সন্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হলে তাতেও কোন ফল আসবেনা হয়তো। কারণ, রাশিয়া বা কোন একটি বন্ধু দেশ ভেটো দিলে বৈঠকের যে কোন প্রস্তাব অকার্যকর হয়ে যাবে। অতীতেও এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। পক্ষপাতদুষ্টতা ভাল মন্দ, ন্যায় অন্যায় সব কিছুতেই ছাপিয়ে যায়। ১৯৪৭ পরবর্তীকালে অনেকবারই মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরিরা কি চায় তার উপর নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গৃহিত হয়, কিন্তু তা কোনদিন কার্যকর হয়নি। মূলত: এটিই হতে পারে অন্যতম সমাধান। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত বা কুটনৈতিক প্রচেষ্টা বা যুদ্ধ যাই হোক না কেন সমাধানতো একটাই, আর তা হল ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরের যে অবস্থান ছিলো বৃটিশ ভারতের বাইরে দেশীয় রাজ্য ভিত্তিতে এবং ধারাবাহিকতায় উভয় কাশ্মীরকে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীকার দেয়ায় ব্যবস্থা করা। তা হয়তো তা কখনো হবে না বতমান রাজনীতি, কুটনীতি এবং ধর্মীয় উগ্রবাদিতার আবেশে। কাশ্মীর সংকট কি সংকটই থাকবে না কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে তা ভবিষ্যতই জানে।
হিমালয়ের কোলে ঝিলাম নদী বিধৌত কাশ্মীর উপত্যকা বিধাতার এক অপূর্ব সৃষ্টি। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই সুন্দরী রাজ্যটি কত না সুখ সমৃদ্ধির হতে পারতো। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ভারতবর্ষের এই দেশীয় রাজ্যটি এর বাসিন্দাদের সুখের ও শান্তির আবাস ছিল। ভারত বিভাগ এবং এর পরবর্তী রাজনীতি ও সামরিক শক্তি কাশ্মীর ও উত্তর পূর্ব ভারতের কয়েকটি দেশীয় রাজ্য যেগুলিকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয় তাদের ভাগ্যে অশান্তি নেমে আসে। আসাম, মেঘালয়, অরুনাচল প্রদেশ, মনিপুর, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডে বিদ্রোহ থাকলেও তাদের সংগে ধর্মীয় আদর্শিক সংঘর্ষ নেই এবং অন্য কোন পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রের দৃষ্টি নেই। ভারত সহজে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু কাশ্মীরের ৯৮% অধিবাসী মুসলমান, তারা ভারতে কখনো যোগ দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেনি এবং কখনো চায় না। কিন্তু ভারত ধর্মীয় আধুনিক রাজনীতির কারণে এবং উপমহাদেশের বৃহৎ শক্তি হওয়ায় সমগ্র ভারতকেই হিন্দুদের দেশ বলে বিশ্বাস করে। ভারতের স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক নেতা সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের “এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত” নীতিকেই বর্তমান নেতারা বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী নেতা রাজনীতিকরা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে তৎপর। তাহলে পুরো উপমহাদেশটাই কি সেই স্বপ্নের লক্ষ্য ? বিদেশী এবং সহযোগী দলগুলো সেদিকেই ইংগিত করছে বলে মনে হয়। তাইতো মোদির ভাষণে ৭০ বছর, মানে ১৪ আগস্টের ঘোষণা ৭০ বছর আগে থেকেই লালিত হয়ে আসছিল। নি:সন্দেহে এটি শুধু উপমহাদেশ নয়, পূরো মহাদেশ বা বিশ্বের জন্যও একটি অশনি সংকেত। কিন্তু তা কি সম্ভব ? কাশ্মীর সমস্যা ভারত তাদের আভ্যন্তরীন সমস্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছে, ভাল কথা। কিন্তু যে পদ্ধতিতে ৩৭০ ও ৩৫ ক ধারাদ্বয় বিলুপ্ত করা হল তা সাংবিধানিকভাবে হয়নি। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংশোধনী যেদিন উত্থাপিত সেদিনই পাশ, কোন আলোচনা নেই, গণভোট নেই যা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ছিল এভাবেতো হওয়ার ছিলনা। শক্তি ও ক্ষমতা বলে করা হলেও এর জের হয়তো অনেকদূর গড়াবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্যিক রাজনীতি এবং কুটনীতি কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করে এর জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher