বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

ইঞ্জিন সংকট সামাল দিতে ঈদে বন্ধ থাকবে পণ্যবাহী সব ট্রেন

ইঞ্জিন সংকট সামাল দিতে ঈদে বন্ধ থাকবে পণ্যবাহী সব ট্রেন

বি নিউজ : তীব্র ইঞ্জিন সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদের আগে-পরে ট্রেনে যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। সেজন্য ঈদের আগের ৩ দিন ও পরের ৩ দিন অর্থাৎ এক সপ্তাহ রেলপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি পরিবহন বিশেষ ব্যবস্থায় চালু থাকবে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রেলে চলছে ইঞ্জিন সংকট। বর্তমানে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে দৈনিক ১১২টি ইঞ্জিনের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ১০০-১০৫টি। ঈদ উপলক্ষে দৈনিক ১২০টি ইঞ্জিন সরবরাহের পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা মূল চাহিদার চেয়ে ৩০-৩৫টি কম। এ পরিস্থিতিতে গুডস ট্রেন থেকে ইঞ্জিন সরিয়ে ও পুরনো ইঞ্জিন মেরামত করে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ইঞ্জিন নিশ্চিত না হওয়ায় ঈদে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রেলের পরিবহন বিভাগ সম্প্রতি এক বৈঠকে ঈদের আগে ও পরের ৩ দিন পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বাঞ্চল রেলে যুক্ত থাকা ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে প্রতিদিন পাওয়া ১০০-১০৩টি ইঞ্জিনের মধ্যে মাত্র ৩১ শতাংশ বা ৪৭টি ইঞ্জিন অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালের মধ্যে রয়েছে (২০ বছর)। তাছাড়া ২১-৩০ বছরের মধ্যে ৩৪টি এবং ৩০ বছরের অধিক বয়সী ইঞ্জিন রয়েছে ৬৯টি। অর্থাৎ পূর্বাঞ্চল রেলের মোট ইঞ্জিনের ১০৩টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। তাতে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর শিডিউল কোনো রকমে ঠিক রাখা হলেও লাভজনক মালবাহী ট্রেনগুলো বসিয়ে রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। আর রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ১২৪টি ইঞ্জিন থাকলেও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে ১০০টি। সেগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশ ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারাসহ ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
সূত্র জানায়, ইঞ্জিন সংকটে কয়েকদিন ধরে দিনাজপুরে আটকে আছে ৫ হাজার টন সরকারি চাল। একই কারণে ৯৮২ নম্বর (খালি) ট্রেনটি ২৬ মে থেকে রংপুরে আটকে আছে। ট্রেনটি ফেরত আসতে না পারায় জ্বালানি তেল পরিবহন বিঘিœত হচ্ছে। ইঞ্জিনের অভাবে তেজগাঁও ফুড গ্রেইনবাহী একটি ট্রেন ২২ মে (২টা ৪০ মিনিট থেকে) থেকে পার্বতীপুর স্টেশনে আটকে ছিল ২৬ মে রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তাছাড়া জ্বালানি তেলবাহী ৯৮১ নম্বর ট্রেনটি ২১ মে থেকে (বেলা ২টা) টঙ্গী স্টেশনে গিয়ে বসেছিল ২৫ মে বিকাল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত। দেশে জ্বালানিসহ পণ্য পরিবহনে বর্তমানে ১২টি গুডস ট্রেন চলে। তার মধ্যে বন্দর থেকে কনটেইনারবাহী ৪টি, খাদ্যপণ্যবাহী ৪টি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল পরিবহন করে ৪টি। ইঞ্জিন সংকটের কারণে ঈদে উপলক্ষে সবগুলো পণ্যবাহী ট্রেন বন্ধ রাখা হবে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উড়োজাহাজের জন্য জ্বালানি সরবরাহে বিশেষ ব্যবস্থায় তেলবাহী ট্রেনগুলো চালু রাখা হবে।
সূত্র আরো জানায়, দেশে জ্বালানিসহ পণ্য পরিবহনে প্রতিদিন ১৬টি ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১০-১২টি ইঞ্জিন। ফলে বেশির ভাগ সময় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পণ্য ও জ্বালানি পাঠাতে বিলম্ব হয়। তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে রেলে যাত্রী চাপ সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় যাত্রী পরিবহন নির্বিঘœ করতে ঈদের আগের ও পরের ৩ দিন রেলে পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখা হবে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদ জানান, রেলে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিবারের মতো এবারো পণ্যবাহী ট্রেন সাময়িক বন্ধ রাখা হবে। তবে জ্বালানিবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। মূলত ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘœ করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher