বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০৪:১১ অপরাহ্ন

মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ

মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ

বি নিউজ : জাতীয় কর্মসূচীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটির রির্পোটের ভিত্তিতে এবার ফেঁসে যেতে পারেন নদী বেষ্টিত জেলার মুলাদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল হাসান মিঠু খান। ইতোমধ্যে মিঠু খানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিনে তদন্ত করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহীদুজ্জামান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুলাদী উপজেলার চিহ্নিত রাজাকার আবদুল লতিফের নাতী তরিকুল হাসান মিঠু খানের বিরুদ্ধে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও অভিযোগের শেষ নেই। ক্ষমতার দাপটে ও নিজস্ব পেটোয়া বাহিনীর দিয়ে মিঠু খান নিয়ন্ত্রন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। মিঠু খান ও তার বাহিনীর হাত থেকে দলের দুর্দীনের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ সরকারী কর্মকর্তাও রেহাই পায়নি। তার বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় চলতি বছরেও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ওই কর্মসূচিতে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠু খান ও তার সহযোগীরা চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করা হয়। ওই রির্পোটের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ঘটনার দোষিদের চিহ্নিত ও বিচারের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণ করে বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। সে অনুযায়ী চেয়ারম্যান মিঠু খানের বিরুদ্ধে গত ২৯ মে বিভাগীয় কমিশনার সরেজমিনে তদন্ত করেছেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, শুধু সরকারী কর্মকর্তা-ই নয় ক্ষমতাসীন দলের দুর্দীনের ত্যাগী নেতাদের মিঠু খান ও তার পেটোয়া বাহিনীর নির্যাতনের চিত্র আরও ভয়াবহ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর উপজেলা চেয়াম্যান নির্বাচিত হয়েই মিঠু খান বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার ক্ষমতার দাপটে অসহায় হয়ে পরেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই মিঠু খানের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাদের হেনেস্তা করা হয়। এমনকি সম্প্রতি সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সামনে বসেই হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে মিঠু বাহিনীর ক্যাডাররা।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, মুলাদীর সর্বজন স্বীকৃত রাজাকার লতিফ প্যাদার নাতী ও উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মান্নান খানের পুত্র তরিকুল হাসান মিঠু খান কৌশলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নিয়ে উপজেলা চেয়াম্যান হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। মিঠু খানের এক চাচাতো ভাই আবদুস ছাত্তার খান উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও অপর চাচাতো ভাই হারুন খান জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অর্থদাতা। এমনকি তার (মিঠু খান) শ্বশুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শুক্কুর খান ও ভায়রা যুবদলের সভাপতি।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ হাবিবুর রহমান আরও জানান, বিএনপি পরিবারের সন্তান হয়েও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর মিঠু খান ত্যাগী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগ নেতাদের দমন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। পুরো উপজেলায় অনিয়মকে তিনি নিয়মে পরিনত করেছেন। উপজেলা পর্যায়ে সরকারী সকল প্রকার বরাদ্ধ মিঠু খান তার বাবার অনুসারি ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে ভাগবাটোয়া করে দিচ্ছেন। বিএনপির অনেক শীর্ষ ক্যাডাররা এখন তার হাত ধরে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপর্কম করে আসছে।
এমনকি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী নিয়োগেও কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠু খানের বিরুদ্ধে। বিএনপি নেতা হয়েও মেয়ে জামাতার ক্ষমতার বলে নানাধরনের অনিয়ম করে যাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শুক্কুর খান। নিজের বাড়ি নির্মান করতে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে মিঠু খানের শ্বশুর শুক্কুর খানের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান অভিযুক্ত তরিকুল হাসান মিঠু খান বলেন, আমার বাবার বিষয়টি সত্য, তবে শ্বশুর আগে বিএনপির রাজনীতি করতো বর্তমানে করেন না। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো বলেও তিনি স্বীকার করেন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018-20
Design & Developed BY Md Taher