বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যু

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যু

জ্ঞানতাপস, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের এই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মেদেনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে জনুগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান। পিতার নাম ঠাকুর দাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গ্রাম্য পাঠশালায় এবং পরে কলকাতা সংস্কৃত কলেজে শিক্ষা অর্জন করেন। ১২ বছর কাব্য, ব্যাকরণ, অলঙ্কার, বেদান্ত, স্মৃতি, ন্যায় ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে অসাধারণ পা-িত্য অর্জন করেন। ১৮৩৯ সালে এসব বিষয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ করেন। ১৮৪১ সালে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের হেড প-িতের পদ লাভ করেন । তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। বিদ্যাসাগর স্কুল বিভাগের শিক্ষার জন্য বহুবিধ গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। যেমন- বোধোদয়, বর্ণপরিচয়, কথামালা, চরিতাবলী প্রভৃতি। তিনি বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস প্রভৃতি অনুবাদ গ্রন্থও রচনা করেন। তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সমাজ সংস্কারেও । তিনি বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন এবং আইন পাসের জন্য ইংরেজ সরকারের প্রতি আবেদন জানান। ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। ঈশ্বরচন্দ্র স্ত্রী শিক্ষার ব্যবস্থা করেন এবং বহু বিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে কয়েকটি পুস্তিকা রচনা করেন। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কোনো কারণেই আপস না করা ছিলো বিদ্যাসাগরের কঠোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। নিজ হাতে অনেক ছোট কাজ করেছেন তিনি। তার সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, আমি যে দরিদ্র বাঙালি ব্রাহ্মণকে শ্রদ্ধা করি, তিনি হলেন বিদ্যাসাগর । তিনি একজন লেখক, সমাজসংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও দাতা হিসেবে খ্যাতি ও সম্মান অর্জন করেন।

১৭৯৭ সালের এই দিনে ইতালীর খ্যাতনামা কবি ও সাহিত্যিক যিয়াকোমো লিওপার্ডি জন্ম গ্রহণ করেন। রোমান্টিক কবি হিসাবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। যিয়াকোমো লিওপার্ডি আরবী, ফরাসী, ইংরেজি ও স্পেনিশ ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। ‘ছন্দময় কবিতা’ তার অন্যতম একটি বই। তিনি মাত্র ৩৯ বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।

১৮৫৬ সালের এই দিনে জার্মানীর খ্যাতনামা সঙ্গীতজ্ঞ রবার্ট শুমান ৪৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। স্ত্রী সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ হওয়ায় রবর্ট শুমান এ বিষয়ে বেশী আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি ১৮৪০ সাল থেকে গানের সুর তৈরীর দিকে মনোনিবেশ করেন এবং খুব দ্রুত খ্যাতি অর্জন করেন। শেষ বয়সে তিনি স্মৃতি শক্তি হারান এবং অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন ।

১৯৪১ সালের এই দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মানীর মিত্র জাপান ভারত ও চীন দখলের জন্য এই দেশগুলোর দক্ষিণ উপকূলে সৈন্য সমাবেশ করে। এর আগে জাপান চীনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের এক বিরাট অংশ দখল করে নিয়েছিল। এছাড়া জাপান ১৯৪১ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত সময়ে বৃটেন, ফ্রান্স ও হল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও বার্মা দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত জাপান তার দখলীকৃত ভুখন্ড থেকে ধীরে ধীরে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় এবং এমনকি নিজের কয়েকটি দ্বীপও হাত ছাড়া করে। এরপর ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাপানে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করলে জাপান আত্মসমর্পন করে ।

১৯৫৭ সালের এই দিনে জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আই.এ.ই.এ. গঠিত হয়। বিশ্বের যেসব দেশ শান্তিপুর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় তাদের পরমাণু কেন্দ্র নজরদারী করা এই সংস্থার লক্ষ্য। এছাড়া কোন দেশ যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরীর চেষ্টা না করে সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখাও আই.এ.ই.এর অন্যতম দায়িত্ব। ভিয়েনায় এই সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত। বিশ্বের দেশগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা এই সংস্থার দায়িত্ব হলেও বৃহৎ শক্তিগুলোর স্বেচ্ছাচারী নীতির কারণে আই.এ.ই.এর সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারছে না এবং এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের পরমাণু কেন্দ্র আই.এ.ই.এর নজরদারির বাইরে রয়েছে। এছাড়া অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলেও আই.এ.ই.এ. তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিতে পারছে না ।

১৯৭৯ সালের এই দিনে খ্যাতনামা জার্মান চিন্তাবিদ হার্ভার্ট মারকুযে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৯৮ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং নাৎসীবাদীরা জার্মানীর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। মারকুযে নিজে মার্ক্সবাদী হলেও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মার্কক্সবাদকে উগ্র বলে মনে করতেন এবং এ জন্য তিনি বহু মার্ক্সবাদীকে সমালোচনা করেছেন। ‘বিপ্লব ও সংস্কার’ তার অন্যতম একটি গ্রন্থ ।

ফার্সী ১৩৮৬ সালের এই দিনে ইরানের খ্যাতনামা আলেম আয়াতুল্লাহ আলী আকবর ফেইজ পরলোক গমন করেন। তিনি আয়াতুল্লাহ মিশকিনি নামে বেশী পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৩০০ সালে উত্তর পশ্চিম ইরানের মিশকিন শহরের উপকণ্ঠে জন্ম গ্রহণ করেন। আয়াতুল্লাহ মিশকিনি তার পিতার কাছে ধর্মীয় বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞানার্জন শুরু করেন। এরপর তিনি আরো পড়াশোনা করার জন্য ইরানের ধর্মতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র পবিত্র কোম শহরে যান। তিনি আয়াতুল্লাহিল উজমা বুরুজার্দি ও ইসলামী ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী (র:) এর মত আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে ইসলামের উচ্চতর বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হন। ইমাম খোমেনী(র:) স্বৈরাচারী শাহ সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে যখন আন্দোলনের ডাক দিলেন তখন তিনিও তাতে শরীক হন এবং এ জন্য বহুবার তাকে নির্বাসন ও কারাভোগ করতে হয়েছে। ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর আয়াতুল্লা মিশকিনি দেশ ও বিপ্লব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ‘ইসলামে বিয়ে’ তার অন্যতম একটি মূল্যবান গ্রন্থ।

ইতিহাসের এই দিনে আরো যেসব ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বাংলাদেশে গত বছরের এই দিনে প্রথম বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ট্রেন কলকাতা পৌঁছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে বিভাগের ৩৫ কর্মকর্তাকে নিয়ে পরীক্ষামূলক এ ট্রেনটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন ছেড়ে যায়। এছাড়া ১৯৯৮ সালের এই দিনে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলোম্বতে দশম সার্ক সম্মেলন শুরু হয় ।

আমীর মুয়াবিয়া (রা:) কর্তৃক ডাক ব্যবস্থা চালু হয় (৬৬৭)
দাসপ্রথা বিরোধী প্রচারক উইলিয়াম উইলবারদোসের মৃত্যু (১৮৩৩)
বিশ্বখ্যাত ওলন্দাজ চিত্রশিল্পী ভ্যানগগের মৃত্যু (১৮৯০)
হেগে স্থায়ী সালিশি আদালত প্রতিষ্ঠা (১৮৯৯)
ইতালির রাজা উমবের্তো (প্রথম) নিহত (১৯০০)
তেনজিং ও হিলারির প্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহন (১৯৫৩)
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা প্রতিষ্ঠা (১৯৫৭)
নাইজেরিয়ায় সামরিক অভ্যুত্থান (১৯৭৫)
ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়নার বিয়ে সম্পন্ন (১৯৮১)
ভারত-শ্রীলঙ্কা শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর (১৯৮৭)

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher