শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না: প্রধানমন্ত্রী

কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না: প্রধানমন্ত্রী

বি নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, অন্যায়ে লিপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু কোনো নিরাপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বিষয় সবসময় লক্ষ রাখতে হবে, যারা অন্যায় করবে সে যেই হোক, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে, সাথে সাথে এটাও দেখতে হবে যে, অযথা কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। কোনো আইন প্রয়োগের সময় মানবাধিকারের বিষয়টার প্রতি লক্ষ রেখেই ‘দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন’ এই নীতি অবলম্বন করেই প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে র‌্যাবের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দরবারে র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশে এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনী প্রধান, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশের আইজিপিসহ পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মহাপরিচালক বিজিবি, মহাপরিচালক আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন র‌্যাব ফোর্সেস ইউনিটের সদস্যরাও অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালে র‌্যাব ফোর্সেসের অভিযানিক সাফল্য নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী কুর্মিটোলায় র‌্যাব ফোর্সেসের সদর দপ্তরে পৌঁছালে তাঁকে র‌্যাবের একটি সুসজ্জিত চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আজকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সহজ হয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের একটা রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তবে, এই উন্নয়নের ধারাটা তখনই অব্যাহত থাকবে যথন আমরা দেশে বর্তমানের ন্যায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী অপরাধ প্রবণতা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অবরাধ প্রবণতায় যুক্ত হওয়া প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে র‌্যাবের সদস্যদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধ যারা করবে অর্থাৎ অপরাধীকে গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা সেটাও যেমন আমাদের কাজ তেমনি অপরাধের সাথে কেউ যেন যুক্ত না হয় সেই ব্যবস্থাটাও আমাদের নিতে হবে। আর সেটা করতে হলে একটা সমাজিক সচেতনটা সৃষ্টি করা দরকার। শেখ হাসিনা বলেন, আমি সকলকে এই কথাটা সকলের উদ্দেশে বলব, আপনারা সবাই সেই বিষয়টার প্রতি দৃষ্টি দেবেন যেন কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে কেউ যেন যুক্ত না হয়। র‌্যাবের কার্যক্রমকে আরো গতিশীলকরণে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে, জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যেহেতু সবাই এই দেশের সন্তান তাই দেশের উন্নতি হলে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন হলে এর সুফলটা নিজ নিজ পরিবারের সদস্যরাই পাবে, দেশের মানুষই পাবে। সেই সাথে গ্রামে গঞ্জে যারা বসবাস করেন তাঁদের ভাগ্যের উন্নতি হবে। বাংলাদেশেই সার্বিকভাবে দরিদ্র মুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারবে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশটার উন্নয়ন হলে কেউ গৃহহীন থাকবে না, সকলেই আবাসন সুবিধা, অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসাসহ মৌলিক সুবিধাগুলোগুলো নিয়ে সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ লাভ করবে এবং সমগ্র জাতিই উন্নত সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে উঠবে, যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কয়েক দফায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আবাসন সংকট সমাধান এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে যানবাহনের সুবিধা বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমরা যতটা স্বাবলম্বী হতে পারব ততটাই আমরা সুযোগ-সুবিধা দিতে পারব এবং আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই সুন্দরভাবে যেন তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে সেটাই আমরা চাই। এজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে তাঁদের সেই কাজের সুবিধাটা আমরা করে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, আন্তরিকতা, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক দ্রব্য উদ্ধার, জাল মুদ্রা, জাল পাসপোর্ট প্রস্তুতকারি, অবৈধ ভিওআইপিবিরোধী অভিযান এবং ভেজালবিরোধীসহ নানা অভিযানে র‌্যাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই র‌্যাবের সদস্যগণ দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে অবদান রেখেছে আমি এটুকু বিশ্বাস করি যে, দেশের মানুষেরও একটা আস্থা ও বিশ্বাস র‌্যাবের সদস্যদের প্রতি জন্মেছে এবং তাঁরা র‌্যাব যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখে। সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যুদের দমন করে তাঁদের সাধারণ জীবনে পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের বিশেষ ভূমিকা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের সদস্যদের ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা এই পুরো এলাকাটা দস্যুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার জন্য তাঁর সরকার ২০১২ সালে একটি টাস্কফোর্স করে দেয় এবং যৌথবাহিনী প্রায়ই সেখানে অভিযান পরিচালনা করত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেউ যদি দস্যুতা ছেড়ে দিয়ে সাধারণ জীবনে ফিরে আসে তাহলে তিনি তাঁদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেবেন মর্মে অতীতে প্রদত্ত ঘোষণার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের ৩২টি বাহিনীর প্রায় ৩২৮ জন জলদস্যু এ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের আমরা আর্থিক সহায়তা দিয়ে ঘর-বাড়ি তৈরি এবং তারা যেন তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্র বলেন, দস্যুতা ত্যাগকারীদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে পড়শোনা করছে এবং একটি স্বাভাবিক জীবন যাপন প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে এসেছে। দস্যুর সন্তান হিসেবে কেউ আর অপমাণিত হচ্ছে না। একটা সম্মান জনক জীবন-যাপন করতে পারছে। শেখ হাসিনা বলেন, যারাই নানারকম সমাজবিরোধী কাজে যুক্ত তারা যদি আত্মমসমর্পণ করে তাহলে তাদের পুনর্বাসনে তাঁর সরকার একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। দেশে শান্তি বজায় থাকার পাশাপাশি জনগণ যেন সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ যেন পায় সেটা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিষাক্ত কুফল তুলে ধরে এর কারণে একটি পরিবার ও সমাজ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করে সমাজকে মাদক মুক্ত করার জন্য এ সময় সরকারের জঙ্গিবাদবিরোধী গণসচেতন কার্যক্রমের ন্যায় সবাইকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত কর্মসূচি চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। জঙ্গিবাদকে কেবল বাংলাদেশে নয় একটি বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে বলেন, এটি বিশ্বব্যাপী বিরাজমান একটি সমস্যা হলেও এ ক্ষেত্রে আমরা বেশ কিছুা সফলতা অর্জন করতে পেরেছি। গোয়েন্দা সংস্থা সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণকে একত্র করে এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার কারণে এই সফলতা এসেছে। শেখ হাসিনা বলেন, একদিকে র‌্যার অভিযান এবং অপরদিকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির ফলে জঙ্গিবাদ দমণে আমাদের সফলতা অর্জিত হয়। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে সাফল্য তা আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গি দমনে র‌্যাবের সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, আমরা চাই ভবিষ্যতে আর কখনো এ দেশে যেন জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। জঙ্গিবাদ সৃষ্টির পেছনে অতীতে কতিপয় রাজনৈতিক দলের মদদ থাকার প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, এখানে দুর্ভাগ্য যে, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল মদদ দিয়ে আসছে। যেমন গত নির্বাচনে তারা একটা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, সেখানে র‌্যাবের একটি সফল অভিযানের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দলের অফিস থেকে বিশাল অংকের অর্থ ধরা পড়ে। আর এর পরেই আমরা দেখেছি তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকা- অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এ ধরনের মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher