বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসের এই দিনে আজ (বুধবার) ১৬ জানুয়ারি’২০১৯ (নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র মৃত্যু)

ইতিহাসের এই দিনে আজ (বুধবার) ১৬ জানুয়ারি’২০১৯ (নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র মৃত্যু)

মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সমাজসেবক নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৯১৫ সালের এ দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন। ১৮৬৬ সালে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে তার জন্ম। নবাব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিনিই প্রথম রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সঙ্গীয় মুসলমান শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পে উন্নতির লক্ষ্যে তার অবদান অনেক ।
বিদেশী শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে তিনি গৃহে শিক্ষা লাভ করেছেন। কর্মজীবনে কিছুদিন ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেটের চাকরি করেছেন। ১৯০১ সালে পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের প্রধান হিসেবে নবাব নিযুক্ত হন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল, কলেজ (পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়- বুয়েট) এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তার আন্দোলনের ফলে সরকার শিক্ষা বিভাগে মুসলমানদের জন্যে সহকারী পরিদর্শক ও বিশেষ সাব ইন্সপেক্টর পদ সৃষ্টি করে। মুসলমানদের অবস্থার উন্নতিকল্পে ব্রিটিশ সরকারের কাছে বঙ্গবিভাগের দাবি উপস্থাপন করেন। বলা হয়ে থাকে তার একক প্রচেষ্টাতেই তদানীন্তন বড়লাট কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী হিন্দু সমাজ ও কংগ্রেসের চাপে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়ে যায়। এতে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন নবাব সলিমুল্লাহ। ওই মানসিক আঘাত তাকে অসুস্থ করে তোলে। নবাব সলিমুল্লাহ’র স্মৃতি রক্ষার্থে রয়েছে সলিমুল্লাহ এতিমখানা, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, সলিমুল্লাহ কলেজ, সলিমুল্লাহ হল ইত্যাদি।

(শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু)
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৩৮ সালের এ দিনে কলকাতা পাক নার্সিং হোমে তিনি শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অসামান্য সংবেদনশীলতা তার উপন্যাসের প্রধান সম্পদ। গার্হস্থ্য ও সামাজিক জীবনের প্রতিচ্ছবি বাস্তবভাবে তিনি যেভাবে দরদ দিয়ে চিত্রিত করেছেন অন্য কারো সাহিত্যে সেরকম নেই। বাঙালি সাহিত্য ও উপন্যাসপ্রেমীদের কাছে এ জন্যেই শরতের বিশেষ জনপ্রিয়তা। তার পরিনীতা, বিরাজ বেী, দেবদাস, বৈকুণ্ঠের উইল, শ্রীকান্ত, গৃহদাহ, শেষ প্রশ্ন
ব্যাপকভাবে পাঠক নন্দিত। তার রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবি’ ১৯২৬ সালে সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে। মহেশ, মামলার ফল, রামের সুমতি, বিন্দুর ছেলে, মেজদিদি ইত্যাদি তার মুখপাঠ্য গল্প। কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় ১৯২৩ সালে শরৎচন্দ্রকে জগত্তারিনী স্বর্ণপদক এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে ডিলিট ডিগ্রি দেয় । শরৎচন্দ্রের জন্ম ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলীর দেবানন্দ গ্রামে ৷ কৈশোর ও যৌবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ভাগলপুরে মাতুলালয়ে। ভাগলপুরের দুর্গাপুর এমই স্কুল থেকে ১৮৮৭ সালে ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে যান হুগলী ব্রাঞ্চ স্কুলে সেখানে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে চলে যান ভাগলপুর টিএন জুবলী স্কুলে। সেখান থেকে ১৮৯৪ সালে এন্ট্রান্স পাস করার পর এফএ তে ভর্তি হন। মাতৃবিয়োগ ও দারিদ্রের কারণে কলেজ ত্যাগ করে চাকরি নেন সেটেলমেন্ট অফিসের কেরানী পদে। কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে যোগ দেন সন্ন্যাসী দলে। নাটক, সঙ্গীত গেয়ে জীবনধারণ করেন। ১৯০৩ সালে পিতৃবিয়োগের পর আবার ভাগ্যান্বেষণে বের হন। হাইকোর্টের অনুবাদক, রেলওয়ের কেরানীসহ বিভিন্ন ছোটখাটো চাকরি করেন। বিয়ের দু’বছর পর স্ত্রী শান্তিদেবী প্লেগ রোগে মারা যাওয়ার পর বিয়ে করেন হিরন্ময়ী দেবীকে । ১৯০৭ সালের দিকে তার সাহিত্য প্রতিভা ছড়াতে থাকে। ১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সাহিত্য প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯২১ সালে যোগ দেন অসহযোগ আন্দোলনে। হাওয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতিও
ছিলেন কিছুদিন ।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মেক্সিকোর মধ্যে যুদ্ধের সূচনা
১৮৪৬ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মেক্সিকো আক্রমণের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়। এই যুদ্ধ দুই বছর স্থায়ী হয়েছিলো। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত শরণার্থীদের অত্যাচার করা হচ্ছে এই অজুহাত তুলে যুক্তরাস্ট্র কর্তৃক মেক্সিকোর বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছিলো। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর কিছু অংশ অর্থাৎ টেক্সাসকে দখল করার জন্য এই হামলা করেছিলো। এই অসম যুদ্ধের পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্র টেক্সাস, ক্যালিফোর্ণিয়া, নেভাদা. ইউটা, অ্যারিজোয়ানা এবং নিউ মেক্সিকো দখল করে নেয়।

আর্তোর তুসকানি পরলোকগমন
১৯৫৭ সালের এ দিনে ইতালির খ্যাতনামা সঙ্গীতজ্ঞ আর্তোর তুসকানি পরলোকগমন করেছিলেন। ১৮৬৭ সালের ২৫ শে মার্চ তার জন্ম হয়েছিলো এবং কিশোর বয়স থেকেই তিনি সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট হন। উনিশ এবং বিশ শতকের অন্যতম সেরা সঙ্গীতজ্ঞ তুসকানির স্মরণশক্তি ছিলো প্রবাদ তুল্য একই সাথে সঙ্গীতের খুটিনাটি জিনিসের প্রতি নিখুত ভাবে মনসংযোগ করতে পারতেন এবং অতি সামান্য ত্রুটিও তার কান এড়িয়ে যেতে পারত না। তা ছাড়া তিনি সব সময় আরো ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। অর্কেস্টার কন্ডাক্টর হিসেবে তার সূচনাটি ছিলো নাটকীয়। ব্রাজিলে তার দল অর্কেস্টা পরিবেশনের সময় দর্শকদের ধিক্কারের মুখে অর্কেস্টার কন্ডাক্টরকে মঞ্চ ত্যাগ করতে হয়। সে সময় এক রকম বাধ্য হয়েই তুসকানি কন্ডাক্টরের ছড়ি নিজ হাতে তুলে নেন। তিনি এর আগে কখনো অর্কেষ্টা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন নি। কিন্তু নিজের অসাধারণ স্মৃতিশক্তির গুণে এ কাজটি নিখুঁতভাবে শেষ করেন। আর এ ভাবে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তুসকানি কন্ডাক্টরের দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন।

প্রথম পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ সূচনা
১৯৯১ সালের এ দিনে প্রথম পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সূচনা হয়। দখলদার ইরাকি বাহিনীকে কুয়েত ত্যাগ করার যে সময় সীমা জাতিসংঘ বেঁধে দিয়েছিলো মধ্যরাতে তা শেষ হয় এবং সউদি আরবের ঘাটি থেকে মার্কিন এবং বৃটিশ বিমানগুলো ইরাকে হামলা করার জন্য উড্ডয়ন করে। আর এ ভাবেই অপারেশন ডের্জাট স্টর্ম নামে ইরাকের বিরুদ্ধে সেনাঅভিযান শুরু হয়। ইরাকের বিরুদ্ধে এই অভিযানে ৩২ দেশের বাহিনী যোগ দিয়েছিলো। তবে এই সম্মিলিত হামলার বিরুদ্ধে ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী কিছু স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেনি। অপারেশন ডের্জাট স্টর্মের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ায় ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা হয়।

হিটলার ও স্ত্রী ইভা ব্রাউনের আত্মহত্যা
১৯৪৫ সালের এ দিনে এডলফ হিটলার ভূগর্ভস্থ বাংকারে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এর পর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বাকি ১০৫ দিনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি তার এই আশ্রয় কেন্দ্রে অতিবাহিত করেছিলেন। বার্লিনে হিটলারের সদর দফতরের ৪৮ ফুট নিচে এই বাংকার তৈরি করা হয়েছিলো। এতে ১৮টি ছোট ছোট স্বয়ং সর্ম্পূন্ন কক্ষ ছিলো। প্রতি কক্ষের নিজস্ব পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ছিলো। বাংকারে থাকার সময় হিটলারের সাথে নাৎসী শীর্ষ স্থানীয় নেতা হারম্যান গোয়েরিং, হেনরিক হিমলার এবং ভন রিবেনট্রপ কেবল সাক্ষাৎ করতে পারতেন। এই বাংকারেই হিটলার দীর্ঘ দিনের সাথী ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করেন। অগ্রসরমান রাশিয়ার সৈন্যবাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হিটলারের সুহৃদরা তাকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু হিটলার পলায়ন না করে বিবাহের মাত্র কয়েক ঘন্টা পর ইভা ব্রাউন সহ আত্মহত্যা করেন।

তৃতীয় আবদুর রহমান কর্ডোভার প্রথম খলিফা পদে অধিষ্ঠিত (৯২৯)
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফ্রান্স ও হল্যান্ডের যুদ্ধ ঘোষণা (১৬৬৬)
কলকাতায় প্রথম ঘৌড়দৌড় শুরু (১৭৬৮)
সংবিধান বাতিলের জন্য ডেনমার্ককে অস্ট্রিয়া ও প্রশিয়ার চরমপত্র (১৮৬৪)
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (১৯০৬)
লীগ অব নেশন্সের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত (১৯২০)
কুমিল্লায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গ্রেফতার (১৯২২)
নাইজেরিয়ায় সামরিক শাসক জেনারেল আগুইয়ি’র ক্ষমতা গ্রহণ (১৯৬৬)
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ ভিয়েতনামের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা (১৯৭৩)
আন্দোলনের মুখে ইরান থেকে রেজা শাহ পাহলভীর পলায়ন (১৯৭৯)
সিয়েরা লিওনে অভ্যুত্থান। সামরিক শাসক ক্যাপ্টেন ভ্যালেইন্টন অপসারিত – (১৯৯৬)
রিকার্ডো লাগোস চিলির প্রথম সমাজবাদী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত (২০০০)

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher