সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনী সহিংসতায় ১৫ জনের মৃত্যু

নির্বাচনী সহিংসতায় ১৫ জনের মৃত্যু

বি নিউজ : নির্বাচনী সহিংসতায় দেশের ১০ জেলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোটার যেমন আছেন, তেমনি আছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামি ছাত্রসেনার কর্মীও। লালমনিরহাটে একজন, রাজশাহীতে দুজন, চট্টগ্রামে তিনজন, কুমিল্লায় দুজন এবং কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙামাটি, নরসিংদী, বগুড়া, গাজীপুর ও সিলেটে একজন করে নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
লালমনিরহাট: লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত তোজাম্মেল হক (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছেন। আজ রোববার দুপুরে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আহত হন তিনি। পরে বিকেলে তার মৃত্যু হয়। নিহত তোজাম্মেল হক ওই ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক। তিনি ওই এলাকার খলাইঘাট গ্রামের বাসিন্দা।
রাজশাহী: রাজশাহীতে নির্বাচনী সহিংসতায় আজ রোববার দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজশাহীতে ভোট গ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন আসনে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২২ জন আহত হয়েছেন। তাঁরা সবাই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মোহনপুরের পাকুড়িয়া হাইস্কুল কেন্দ্রের সামনে মেরাজউদ্দিন (২২) নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে বিএনপির কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, মোহনপুরে বিএনপির কর্মীরা আওয়ামী লীগের ওই কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। এদিকে, রাজশাহী-১ আসনে মোহাম্মদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে বিএনপির কর্মীদের লাঠির আঘাতে মোদাচ্ছের আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মোদাচ্ছেরের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ভোট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন মোদাচ্ছের। এ সময় মোহাম্মদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা শুরু হয়। বিএনপির কর্মীদের লাঠির বাড়িতে মাথায় আঘাত পান মোদাচ্ছের। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। রাজশাহী জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুর্গাপুরের (রাজশাহী-৫) বখতিয়ারপুর গ্রামে ভোট দিতে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় একই পরিবারের ছয়জন আহত হন। তাঁরা হলেন বখতিয়ারপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান (২৯), তাঁর বাবা আফসার আলী (৫৫), মা মনোয়ারা বেগম (৪৭), ভাই আরিফুজ্জামান (২২), বোন জেসমিন নাহার (৩২) ও মামি রুনুফা বেগম (৩৫)। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আফসার আলী ছাড়া বাকি পাঁচজনকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁরা সবাই বখতিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের (রাজশাহী-২) অন্নদাসুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিএনপি কর্মীরা ভোটারদের স্লিপ দিচ্ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁদের কয়েকজনের মাথায় চেয়ার দিয়ে আঘাত করে। এতে পাঁচ-ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বেলাল উদ্দিন ও মাসওয়ার আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে নওহাটার (রাজশাহী-৩) পূর্বপাড়ার পুঠিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে দুর্বৃত্তদের ককটেল হামলার শিকার হন হাবিব মিয়া (৪৫)। তিনি পেশায় স্বর্ণকার। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পটিয়া ও বাঁশখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। এরমধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে গত শনিবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওই সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। নিহত আহমদ কবির (৪৫) কাথারিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ বলছে, জামায়াত ইসলামীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করতে গেলে জাতীয় পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাঁধে। পরে পুলিশসহ ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ হলেও ভোটগ্রহণ ঠিক সময়ে চলছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ওই এলাকাটি জামায়াত অধ্যুষিত। রাত আড়াইটার দিকে তারা কেন্দ্র দখলের জন্য গেলে জাতীয় পার্টির সমর্থকরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহমদ কবির নিহত হন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা টুটুল।
এছাড়া, চট্টগ্রামের পটিয়ায় কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় হামলা চালিয়ে যুবলীগের এক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপিকর্মীদের হামলায় সরকার সমর্থক ওই যুবক নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের নাম দ্বীন মোহাম্মদ (৩৫)। তিনি কুসুমপুরা ইউনিয়নের গুরনখাইন এলাকায় তার বাড়ি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আজ রোববার সারাদেশে ভোটগ্রহণ হয়। তার আগে গত শনিবার রাতে পটিয়ায় এই হত্যাকা- ঘটল। পটিয়া থানার ওসি নিয়ামত উল্লাহ বলেন, গুরনখাইন এলাকায় রাত ১০টার দিকে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে যুবলীগকর্মী দ্বীন মোহাম্মদকে হত্যা করে। ইটের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়। দ্বীন মোহাম্মদকে মৃত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তার ভাতিজা সাইফুর রহমান মামুন হাসপাতালে বলেন, ভোটের আগের রাতে আমাদের একটি বৈঠক ছিল। বৈঠক থেকে ফেরার পথে ফকিরা মসজিদ বাজার এলাকায় পেছন দিক থেকে বিএনপিকর্মীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা ধারাল অস্ত্র দিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে। স্থানীয় বিএনপিকর্মী রফিক, আরিফ ও আনিসের নেতৃত্বে এই হামলা হয় বলে মামুনের অভিযোগ। এই বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী এনাম কিংবা বিএনপি নেতাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পটিয়ায় আরও একজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে পটিয়ার পশ্চিম মালিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন আবু সাদেক (১৮)। তিনি দক্ষিণ মালিয়ারা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আবু সাদেক বিএনপির সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পটিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক নিহত হন। সংঘর্ষের কারণে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। পরে আবার শুরু হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। আবু সাদেক কিভাবে মারা গেছেন তা জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন খান। তবে চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিও ছোঁড়া হয়েছে।
কুমিল্লা: চান্দিনা ও নাঙ্গলকোটে দুজন নিহত হয়েছেন। চান্দিনায় পুলিশের গুলিতে মজিবুর রহমান (৩৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আর নাঙ্গলকোটে ভোট দিতে যাওয়ার সময় হেলমেট পরিহিত লোকজনের হকিস্টিকের আঘাতে বাচ্চু মিয়া (৫৫) নামের বিএনপির এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম বেলাস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে মজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ সময় মিজানুর রহমান নামের আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজিবুর রহমানের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার লাজুর গ্রামে। তিনি চান্দিয়ায় পোলট্রি ফিডের গোডাউনের শ্রমিক ছিলেন। মজিবুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আকতার বলেন, আমরা চান্দিয়ায় ভাড়া থাকি। এখানকার ভোটার। সকালে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। এ সময় অতর্কিতভাবে একদল সন্ত্রাসী এসে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে যায়। বাইরে ব্যালটবাক্স ভাঙচুর করে। এ সময় ধানের শীষ ও নৌকা প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের ১২টি গুলি ছোড়ে। এ সময় মজিবুর রহমান ও মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের দ্রুত চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজিবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। মিজানুরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রদীপ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, অতর্কিতভাবে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও ককটেল এনে কেন্দ্রে হামলা চালায়। বিদ্যালয়ের ভাঙচুর চালায়। দুটি ব্যালট বাক্স মাঠের মধ্যে ভেঙে ফেলে। চারটি নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিজিবি, পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া বলেন, এ কেন্দ্রে ২ হাজার ৯৭২ ভোট রয়েছে। এর মধ্যে সংঘর্ষের আগ পর্যন্ত ৬২৪টি ভোট গ্রহণ করা হয়। এখন কেন্দ্রের মধ্যে একটি অতিরিক্ত ব্যালট বাক্স ছাড়া আর কোনো বাক্স নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম জাকারিয়া আপাতত ভোট গ্রহণ স্থগিত করার নির্দেশ দেন। এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার মুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় হেলমেটধারী লোকজনের হকিস্টিকের আঘাতে বাচ্চু মিয়া নিহত হন। তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলায় দোলখার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সহসভাপতি। বিএনপির কর্মীরা অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির নেতা-কর্মীর ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাতে হকিস্টিক ও মাথায় হেলমেট পরা একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়। তখন বাচ্চু মিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। বাচ্চু মিয়ার মাথায় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আনোয়ার হোসেনের পিঠে ও বুকে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে। দ্রুত তাঁদের পার্শ্ববর্তী মনোহরগঞ্জ উপজেলার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাচ্চু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার জন্য বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সৈয়দ সায়না ফেরদৌস আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামে সকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইসরাইল মিয়া (২০) নামের একজন মারা গেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। এ সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ ইসরাইলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ইসরাইল মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর পিঠে গুলির চিহ্ন আছে।
কক্সবাজার: জেলার পেকুয়ার রাজাখালী উলুদিয়া এলাকায় মো. আবদুল্লাহ নামের এক নৌকার সমর্থক ভোট দিতে গিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মারা গেছেন। মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, আবদুল্লাহকে দ্রুত পেকুয়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আবদুল্লাহকে মৃত অবস্থাতেই আনা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাত তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতজনের মধ্যে চারজন ধানের শীষ এবং তিনজন নৌকা প্রতীকের সমর্থক।
রাঙামাটি: কাউখালী উপজেলার ঘাগড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাসেরউদ্দিন (৩৬) নিহত হয়েছেন। সকাল সাতটার দিকে ঘাগড়া ইউনিয়নের কাসখালী এলাকায় দুই দলের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। হামলায় গুরুতর আহত বাসের উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ হামলায় ১৫ জন আহত হন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, ঘাগড়ায় সকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা মারা গেছেন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত।
নরসিংদী: জেলার শিবপুরের কুন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট মিলন মিয়া (৫৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, ওই আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল হক ভূঁইয়া বেলা ১১টার দিকে কুন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যান। তিনি তাঁর কর্মীদের ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে বলেন। এ সময় ওই আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ওই কেন্দ্র যান। তখন দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। দুই পক্ষ চলে যাওয়ার পরপরই এজেন্ট নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
বগুড়া: বগুড়ার কাহালুতে একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে সংঘর্ষে আজিজুল নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি পায়কর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি। আজিজুলের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। বেলা ১১টার দিকে কাহালুর বাগুইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় যুবলীগ নেতা আজিজুলকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় গুরুতর আহত যুবলীগের আরেক নেতা নাজমুল হুদা জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজিজুলের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন কাহালু থানার ওসি শওকত কবীর।
গাজীপুর: গাজীপুরে লিয়াকত হোসেন নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি কাজী আজিমুদ্দীন কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি ছিলেন। দুপুরের দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হারিনাল এলাকায় হারিনাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। লিয়াকতের ছোট ভাই গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা এরশাদ দাবি করেন, তাঁর ভাই ভোটের স্লিপ দিচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাঁর ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর ভাই মারা যান। গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকা- হতে পারে। এ ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।
সিলেট: সিলেট-৩ আসনে বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সোহেল (২৬) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে বিএনপি ও ছাত্রদল দাবি করেছে। বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির অভিযোগ, সায়েমের বুকের ডান পাশে গুলি লাগে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের সময় সায়েমের গায়ে গুলি লাগে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher