শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসে প্রতিদিন আজ (মঙ্গলবার) ২৫ ডিসেম্বর’২০১৮ (বড়দিন)

ইতিহাসে প্রতিদিন আজ (মঙ্গলবার) ২৫ ডিসেম্বর’২০১৮ (বড়দিন)

২৫ ডিসেম্বর শুভ বড়দিন । সারা বিশ্বের খিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এদিন মানবজাতিকে পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্তির পথ দেখানোর জন্য বেথলেহেম নগরীর এক আস্তাবলে যিশুখিষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপিত হয় । তাদের ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। প্রার্থনা, ভোজ আর শুভেচ্ছা উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে সবাই গায় ক্রিসমান ক্যারল। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে যিনি যিশু, মুসলমানদের কাছে তিনি ঈসা (আঃ)। তিনি আল্লাহর রাসুল। বিবি মরিয়ম বা মা মেরির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন মুক্তিদূত, শান্তির
বার্তাবাহক যিশু। পাপের পঙ্কিল আবর্ত হতে মানবতার পরিত্রাণের জন্য তিনি নিয়ে এসেছিলেন স্বগীয় বার্তা। আর্ত-মানবতার সেবা, ত্যাগ ও শান্তির আদর্শ প্রচারে মহান যিশু যে অবদান রেখে গিয়েছেন, তা বিশ্বমানবের কাছে চির অনুসরণযোগ্য হয়ে রয়েছে। পবিত্র কোরআন এবং খ্রিস্টান সমাজের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে এই মহামানবের জনের অলৌকিকতার বিশদ বিবরণ রয়েছে। তার লোকাতীত ক্ষমতা বা মোজেজার বিবরণও পাওয়া যায় আসমানী কিতাবগুলোতে। মহান ¯্রষ্টা যিশুকে এরূপ মোজেজা দান করেছিলেন, যেমন তার স্পর্শে পীড়িতরা সুস্থ হয়ে উঠতো এবং মৃত ব্যক্তি জীবন ফিরে পেতো। মহান যিশুর হাতের স্পর্শে অন্ধের চোখে নিমিষে ফিরে আসতো চোখের আলো। মরিয়মপুত্র যিশু পাপাচারে লিপ্ত মানুষকে আহবান করেন মহান ¯্রষ্টার নির্দেশিত শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের পথে।
বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী কুমারীমাতার গর্ভে যিশুখ্রিষ্টের জন্ম হয় একটি আস্তাবলে । কথিত আছে, যিশুর জন্মের শুভ সংবাদ নিয়ে এক স্বগীয় দূত রাখালবেশে এসে লোকদের ডেকে বলেছিলো, তোমরা কী জান মানুষের মুক্তিদাতা মেরীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন। আজ সেই মহান মুক্তিদূতের জন্মদিন। বিশ্বের দেশে দেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায় এই দিবসটি পালন করে থাকেন নানা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে। বড়দিনের ধর্মীয় ও সামাজিক-উভয়বিধ আবেদন অতি গভীর। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতি বছর দিবসটি পালন করে থাকেন। দুনিয়ার অন্যত্র দিনটি ক্রিসমাস ডে হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাভাষী খ্রিস্টানদের কাছে তা বড়দিন নামে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে যথারীতি অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা। সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। প্রতিটি খ্রিস্টান পরিবারে বয়ে যায় নির্মল আনন্দের বন্যা। মহামানব যিশুর জীবন, বলা হয়ে থাকে দুইভাগে বিভক্ত। জীবনের প্রথম তিরিশ বছর বয়সে তিনি লোকসমাজে আবির্ভূত হন এক মহান শিক্ষক হিসেবে। যিনি শিক্ষা দেন একত্ববাদের এবং যিনি শিক্ষা দেন সৌভ্রাতৃত্ব ও সহিষ্ণুতার। মহান যিশুর শিক্ষা ঃ কেউ যদি তোমার গ-দেশে একটি চড় মারে তবে তাকে তোমার গ-দেশের অপর দিকটি পেতে দিও। এই বাণীটিকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করবার চেয়ে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অতীব গভীর। এই বাণীর মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে সহিষ্ণুতার উপদেশ দেয়া হয়েছে। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে তিনি ¯্রষ্টার বাণী প্রচারে ব্যাপৃত ছিলেন। জনসমাবেশে এবং ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি ¯্রষ্টার মাহাত্ম্য প্রচার করতেন। লোকসম্মুখে মহৎ-সুন্দর বাণী ও শিক্ষা পেশ করতেন। বিপন্ন মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন পরমাত্মীয়দের ন্যায়। তিনি পথ হতে পথে, জনপদ হতে অন্য জনপদে গিয়ে বলতেন ক্ষমা ও ভালোবাসার কথা। প্রচার করতেন মহান ¯্রষ্টার শক্তি ও মহিমার কথা।

২০০৯ বছর আগে আজকের দিনে অর্থাৎ ২৫ শে ডিসেম্বর আল্লাহর নবী হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) ফিলিস্তিনের বেথেলহামে জন্মগ্রহণ করেন। হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর ইচ্ছায় অলৌকিকভাবে পবিত্র ও কুমারী মাতা হযরত মরিয়ম সালামুল্লাহি আলাইহার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জন্মগ্রহণের পর মায়ের কোলে বসে কথা বলেন এবং সবাইকে নিজের নবুওয়াতের কথা জানিয়ে দেন। এই অলৌকিক ঘটনা পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন : “(স্মরণ করো) সেদিনের কথা যেদিন ফেরেশতাগণ বলেছিলো : হে মরিয়ম, আল্লাহ তাঁর একটি কথার দ্বারা তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন- তার নাম মাসিহ, মরিয়ম পুত্র ঈসা, সে ইহলোক ও পরলোকে সম্মানিত এবং আল্লাহর সান্নিধ্য প্রাপ্তগণের অন্যতম।”হযরত ঈসা (আঃ) অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আল্লাহর প্রেরিত কিতাব ইঞ্জিলের বাণী শুনিয়ে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করতেন। তিনি বনী ইসরাইল জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন : “বিনয়ের মাধ্যমে জ্ঞান প্রস্ফুটিত হয়, অহংকারের মাধ্যমে নয়, ঠিক যেমনটি আপনারা ক্ষেতে ফসল ফলান, পাহাড়ের চূড়ায় নয়।” হযরত ঈসা (আঃ) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকীতে তার অনুসারীদের প্রত্যেককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সাথে কামনা করছি তার অনুসারী বলে দাবিদার খ্রীস্টানরা হযরত ঈসা (আঃ) এর শিক্ষা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবে।

১৬৬৫ খ্রীস্টাব্দের ২৫শে ডিসেম্বর পূর্ব ভারতে বৃটিশ সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ফ্রান্স ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে। তবে বৃটিশ সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি ঐ ঘটনার ৬৬ বছর আগে ব্যবসার ছদ্মাবরণে ভারতের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী স্থাপন করেছিল। বৃটেনের পর ফ্রান্সও একই নামে কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করার পর ভারতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে বৃটিশ ও ফরাসী সেনাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসব যুদ্ধে ফরাসী বাহিনীর পরাজয়ের মাধ্যমে ভারতে বৃটিশ উপনিবেশ পাকাপোক্ত হয়ে যায়।

ফার্সি ১৩৫৭ সালের ৫ই দেই ইরানের ইসলামী বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয়ের কিছুদিন আগে তেহরান পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরান নেজাতুল্লাহি তৎকালীন শাহ সরকারের অনুচর বাহিনীর গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন। ঐদিন শাহ সরকারের দমন পীড়ণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তেহরানের সংস্কৃতি ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছিলেন। এমন সময় শাহ সরকারের অনুগত বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে অধ্যাপক নেজাতুল্লাহি নিহত হন।

১৯৭৯ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ইহুদীবাদী ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ তিন জন শীর্ষস্থানীয় ফিলিস্তিনী নেতাকে হত্যা করে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ফিলিস্তিনী স্বাধীনতাকামী সংস্থা পিএলও’র নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী হাসান সালামাহ’র গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। একই দিন মোসাদ গ্রীসে এক হামলা চালিয়ে পিএলও’র রাজনৈতিক শাখার কর্মকর্তা সামির তুকানকে হত্যা করে। এ দিন ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে তৃতীয় যে ফিলিস্তিনী নেতা নিহত হন, তিনি হচ্ছেন- আলী নাসের ইয়াসিন। আলী নাসের ছিলেন কুয়েতে নিযুক্ত পিএলও’র প্রতিনিধি। ইসরাইলের এসব অপরাধী হামলার ফলে আরেকবার প্রমাণিত হয়, ইহুদীবাদী ইসরাইল বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুপ্ত হত্যা চালিয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

ফার্সি ১৩৮২ সালের ৫ই দেই দক্ষিণ ইরানের বাম শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক আট মাত্রার ঐ ভূমিকম্পে বাম শহর অনেকটা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় এবং এখানকার ৪১ হাজার অধিবাসী প্রাণ হারান। আহত ও শরণার্থীতে পরিণত হন আরো প্রায় অর্ধলক্ষ লোক। ভূমিকম্পের পরপরই ইরানের সরকার ও জনগণ বামের অধিবাসীদের সাহায্যে ছুটে যান। এছাড়া বহির্বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা হতাহতদের সাহায্যের জন্য ইরানে চলে আসে। বাম শহরের ভূমিকম্পের ফলে সেখানে অবস্থিত প্রাচীন দূর্গ যা আর্গে বাম নামে পরিচিত ছিল, সেটি বিধ্বস্ত হয়।

প্রথম রোমক স¤্রাট শার্লমেন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত (৮০০)
মোগল স¤্রাট হিসেবে দ্বিতীয় শাহ আলমের দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন (১৭৭১)
মার্কিন রেডক্রসের প্রতিষ্ঠাতা ক্লারা বার্টনের মৃত্যু (১৮২১)
কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্ম (১৮৭৬)
কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় লাঙল পত্রিকা প্রকাশিত (১৯২৫)
স¤্রাট হিরোহিতোর জাপানের সিংহাসনে আরোহন (১৯২৬)
ঢাকায় টেলিভিশন সেন্টার চালু (১৯৬৪)
দক্ষিণ ভারত ও সিংহলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস। ৭ হাজার লোকের প্রাণহানি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি (১৯৬৪)
তামিলনাড়ুতে ৪৪ জন ক্ষেতমজুরকে পুড়িয়ে হত্যা (১৯৬৮)
ইংরেজ অভিনেতা, পরিচালক চার্লি চ্যাপলিনের মৃত্যু (১৯৭৭)
রুমানিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাই চসেস্কুকে সামরিক আদালত কর্তৃক ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা (১৯৮৯)

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher