শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

উচ্চশিক্ষার নিম্নমান

উচ্চশিক্ষার নিম্নমান

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। বলা বাহুল্য, এসবের প্রায় সবই নেতিবাচক। কিন্তু এ সংকটের কারণগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে না বললেই চলে। ফলে উচ্চতর শিক্ষার যে লক্ষ্য থাকে, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। উপযুক্ত শিক্ষকের অভাবে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। অথচ সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠগুলোতে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর জ্ঞান আহরণ ও গবেষণায় নিজেদের সমৃদ্ধ করার কথা। অভিজ্ঞ ও উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংকট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও রয়েছে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। আর হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ ও উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষক নেই বললেই চলে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় চলে ধার করা শিক্ষক দিয়ে। বাকিগুলোতে সেই চর্চাও নেই। উচ্চতর শিক্ষার নামে এগুলোতে মূলত সনদ বাণিজ্য হয়।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এ সময় প্রকৃত উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে চাহিদা অনুযায়ী তেমন যোগ্য তরুণ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদেশি তরুণদের দিয়ে সেই চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। বাংলাদেশে কর্মরত তেমন বিদেশি তরুণের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। এর পরও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে আমাদের এত অনাগ্রহ কেন? অতীতে উচ্চশিক্ষার মানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা হয়েছে বাছবিচার না করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়ে। দেশে এখন শখানেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। জানা যায়, চার-পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিলে বাকিগুলোতে উচ্চশিক্ষার নূন্যতম পরিবেশও নেই। ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। কিন্তু বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন শিক্ষক সংকট রয়েছে, তার চেয়ে বেশি রয়েছে অভিজ্ঞ ও উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকের অভাব। জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭৩ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র একজন রয়েছেন অধ্যাপক। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪১ জন শিক্ষকের মধ্যে একজনও অধ্যাপক নেই।
একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় মনে করা হয়। অথচ বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও নেই। উচ্চশিক্ষার এই মান নিয়ে আমরা কতদূর এগোতে পারব? আমাদের নীতিনির্ধারকদের জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এই মান বজায় রাখতে পারবে না, সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপোশ চাই না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher