বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

ছোটখাট ভুলের জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল না করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ

ছোটখাট ভুলের জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল না করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ

বি নিউজ : কানো প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ছোটখাট ভুল থাকলে তা বাতিল না করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ শনিবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি। পরিপত্রে বলা হয়, ছোট খাট ত্রুটির জন্য কোনো মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে না। যদি বাছাইয়ের সময় এমন কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি নজরে আসে যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন সম্ভব, তা হলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীকে দিয়ে তা সংশোধন করিয়ে নিতে হবে। কোনো প্রার্থীর একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে ওই প্রার্থীর অন্য কোনো বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ শুধুমাত্র একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তার প্রার্থী পদ অটুট থাকবে। এছাড়া যদি কোনো প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তবে বাছাইয়ের সময় একটি মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেলে অন্যগুলো বাছাইয়েরও প্রয়োজন হবে না। মনোনয়নপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত মনোনয়নপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে লিখতে হবে। পরিপত্রে আরও বলা হয়, আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদের দফা (৩) এ বলা হয়েছে, শর্ত অনুসারে ভোটার তালিকার কোনো অন্তর্ভুক্তির শুদ্ধতা বা বৈধতার প্রশ্নে কোনো অনুসন্ধান চালানো যাবে না। একই সঙ্গে হলফনামায় উল্লিখিত কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। আর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ নভেম্বর। ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহন অংশগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় দশ টাকা: আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটার প্রতি গড়ে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন একজন প্রার্থী। তবে একটি আসনে ভোটার সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী ও দলের নির্বাচনী ব্যয়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে; ভোট হবে ২৩ ডিসেম্বর। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয়সীমা ছিল ১৫ লাখ টাকা। সে সময় ৮ কোটি ১০ লাখ ভোটারের বিপরীতে প্রতি আসনে ভোটার প্রতি ব্যয় নির্ধারণ করা হয় গড়ে ৫ টাকা। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয়সীমা বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়। তখন ভোটার ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ। ভোটার পিছু ব্যয় ধরা হয় গড়ে ৮ টাকা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটার হলেও প্রার্থীর মোট ব্যয়সীমা বাড়ানো হয়নি; তবে ভোটার পিছু ব্যয় করার সুযোগ ২ টাকা বেড়ে ১০ টাকা হয়েছে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, ভোটার বাড়লে ব্যয়সীমা বাড়ানো যায়। সেজন্য কমিশন সার্বিক বিবেচনায় ১০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এরপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, দুই থেকে আড়াই লাখ ভোটার রয়েছে এমন আসনই বেশি। সব মিলিয়ে গড় হিসাবে ভোটার প্রতি ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কম-বেশির কারণে কোনো বৈষম্য হবে না। ভোটার যতই হোক, দল থেকে নেওয়া অর্থ মিলিয়েও কোনোভাবে প্রার্থী ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন না। দেশে ৩০০ আসনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। সেই হিসাবে আসন প্রতি গড় ভোটার দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন। এর মধ্যে ঝালকাঠী-১ আসনে সবচেয়ে কম ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন ভোটার। আর সবচেয়ে বেশি ভোটারের আসন ঢাকা-১৯ এ ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন; যা ঝালকাঠি-১ এর চারগুণের বেশি। সে হিসাবে সবচেয়ে কম ভোটারের আসনে প্রার্থীরা ভোটার প্রতি ব্যয় করতে পারবেন প্রায় ১৪ টাকা। আবার সবচেয়ে বেশি ভোটারের এলাকায় প্রার্থী ব্যয় করতে পারবেন প্রার্থী প্রতি মাত্র ৩ টাকা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher