রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

রাজশাহী-৪: আ.লীগের শক্ত প্রতিপক্ষ আ.লীগই, একাধিক প্রার্থী থাকলেও ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

রাজশাহী-৪: আ.লীগের শক্ত প্রতিপক্ষ আ.লীগই, একাধিক প্রার্থী থাকলেও ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

বি নিউজ : বাংলাদেশের বহুল আলোচিত জনপদগুলো মধ্যে একটি রাজশাহীর বাগমারা। এই উপজেলাটি রক্তাক্ত অঞ্চল হিসেবেও পরিচিত। ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে রাজশাহী-৪ আসন গঠিত। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে সরকার দলীয় নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন। তারা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, বাগমারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু এবং তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচজন হলেন, সাবেক এমপি আবু হেনা, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল গফুর, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, ড্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. আসফাকুর রহমান শেলী ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থি হলেন দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু তালেব।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর এখানে অভয়ারণ্য ছিল সর্বহারাদের। এরপর তাদের দমনে সেখানে অবস্থান নেয় শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাই। মূলত সেসময় থেকেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। পরে তাদের নেতৃত্বে জন্ম নেয় জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন। চরমপন্থি এবং ধর্মীয় জঙ্গিদের হাতে নিস্পেষিত বাগমারার মানুষ আপাত শান্তিতে বসবাস করলেও তাদের মনে অজানা আশঙ্কা তাড়া করে বেড়ায় সব সময়। তবে এক সময় উগ্রপন্থিদের নৃশংস কর্মকা-ের জন্য পরিচিত রাজশাহীর বাগমারা অঞ্চলে এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোটাই স্বাভাবিক। অবশ্য গত বছর স্থানীয় নির্বাচনের সময় সহিংসতায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাটি আজও রাজনৈতিক অশান্তির আভাস হয়ে আছে। রাজনৈতিক কলহের কারণে মাঝে মাধ্যেই এখানে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে, ক্ষমতাসিন দল আওয়ামী লীগের বিভক্ত নেতাকর্মিদের কারণে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দু’টি পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। এছাড়াও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি-জামায়াত। দীর্ঘদিন তারা সংসদের বাইরে থাকলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে শক্ত কোন্দল বিরাজ করায় সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বিএনপি।
বর্তমানে রাজশাহীর বাগমারায় ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের বিরুদ্ধে বেশীর ভাগই নেতাকর্মি অবস্থান নিয়েছে। বিভক্তি ছড়িয়েছে ওয়ার্ড থেকে উপজেলা কমিটি পর্যন্ত। বর্তমান এমপি এনামুল হককে মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষে দলের বেশীরভাগই নেতৃবৃন্দ একজোট হয়েছে। মনোনয়ন দৌড়ে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক অনেক এগিয়ে থাকলেও স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং লবিং ও দলীয় কোন্দল নিরসন করতে তিনি পড়েছেন উভয় সংকটে। এ সংকট মোকাবেলায় অনেকটা ব্যর্থ হওয়ায় এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নিজ দলের হেবিওয়েট দুই নেতা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিয়ে সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন। তাদের মধ্যে যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে কোন আপত্তি থাকবেনা বলেও অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমান এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সঙ্গে তাদের শুরু হয়েছে তুমুল দ্বন্দ্ব। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ আওয়ামী লীগই।
সূত্র মতে, মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আমজাদ হোসেন। এ সময় তাকে ঘিরে গড়ে উঠে শক্ত একটি রাজনৈতিক বলয়। ফলে দল ত্যাগ করে জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দিয়েও সরদার আমজাদ হোসেন একাধিকবার এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে জাপার প্রার্থী হিসেবে তিনি তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর সাথে সাথে এ আসনে জাতীয় পার্টির মৃত্যু হয় বলে অভিমত দলের স্থানীয় নেতাকর্মিদের। তবে ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে পাশের নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার বিএনপি নেতা এ কে এস কে এম আফজাল হোসেন দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে এখানে সংসদ সদস্য হন বিএনপি নেতা অধ্যাপক আব্দুল গফুর। পরবর্তীতে সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে সাবেক সচিব আবু হেনা বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সংস্কারপন্থি আখ্যা দিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে পরবর্তিতে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আবারো দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষনে আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। প্রায় ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৎকালীন বাগমারা উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুল গফুর পরাজিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন না করায় বিনাভোটে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক।
মূলত তার সময়েই বাগমারায় শক্ত অবস্থান করে নেয় বিএনপি। কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় এই সিট চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে।
বর্তমানে দলীয় বিভেদ থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মনোনয়ন পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক থাকলেও এলাকার অনেক দরিদ্র ও মেধাবি শিক্ষার্থী পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতা করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মতিউর রহমান টুকু বলেন, সালেহা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এমপি এনামুল সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে দাড়িয়েছেন। বিনা খরচে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে গরিবদের সহায়তা দিচ্ছেন। এছাড়াও এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেন। যে কারণেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এদিকে সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এনামুল হকের এমন জনপ্রিয়তা থাকার পরও তার বিপক্ষেই নির্বাচনী মাঠে দলের বেশীর ভাগই স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। যে পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু এবং তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
রাজশাহী বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, ‘২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আসনটি থেকে আমাকে বাগমারার মানুষের সেবা করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এমপি নির্বাচিত হয়ে আমি সবসময়ই বাগমারাবাসীর পাশে আছি। এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদে এখন শান্তির সুবাতাস বইছে। উপজেলার এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যে বিষয়টি এলাকা পরিদর্শন করে দেখে গেছেন রাষ্টপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ দলের অনেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এখন তাঁরা চাইলে আমাকে আবারো মনোনয়ন দিবেন।’
মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, ‘বাগমারায় আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমার অবদানের কথা দলীয় নেতাকর্মিসহ আপামর সাধারণ জনগণই বলবে। যাদের পাশে থেকে আজীবন সেবা করার লক্ষ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি অংশ নিতে চাই। স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মি ও এলাকার জনপ্রিয়তার দিকে থেকে বিবেচনা করলে মনোনয়ন যোগ্যতায় আমার নামই প্রথমে আসবে। তবে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত মেনে পূর্বের ন্যয় আগামীতেও দলীয় নেতাকর্মিদের পাশ থাকবো।’
অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় তৎকালীন জেএমবি ও বাংলাভায়ের লোকজন আমাকে বারবার তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু না থেমে এখন পর্যন্ত দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। রাজনীতিতে আমার ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আশাবাদী।’
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে বিএনপি। এখানে বিএনপির জোরালো সাংগঠনিক কর্মসূচী চোঁখে না পড়লেও এ দলের মধ্যে কোন্দল না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে দলটি। এ আসনের সাবেক এমপি আবু হেনাকে মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে তৃণমূল বিএনপির বেশিরভাগ কর্মী-সমর্থক। এছাড়াও বিগত সময়ে দলীয় নেতাকর্মিদের সাথে নিয়ে বাগমারায় বন্যা দূর্গত এলাকায় ত্রান বিতরণ করে নিজ প্রার্থিতার জানান দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল গফুর। অন্যদিকে প্রতিনিধির মাধ্যমে ত্রান সামগ্রি বিতরণ করে তাদের মাধ্যমে প্রার্থিতার ঘোষনা দিয়েছেন ড্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. আসফাকুর রহমান শেলী। তিনি বাগমারার বাসিন্দা হলেও ঢাকায় তার চিকিৎসা কর্ম চালান। এছাড়া বিএনপি’র মনোনয়ন লাভের জন্য আরো এক ডাক্তার রয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম। আমেরিকার ক্যালির্ফোনিয়া প্রবাসী এই চিকিৎসক কে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলে এলাকায় প্রচার চালান তার অনুসারীরা।
স্থানীয় বিএনপি অনেকেই জানান, এদের মধ্যে সাবেক এমপি আবু হেনা এলাকায় না থাকলেও দুর্দিনে তিনি নেতাকর্মিদের পাশে থাকেন। বর্তমান সরকারের আমলে দায়েরকৃত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মিদের মামলাগুলোর বেশিরভাগই উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন করিয়েছেন। যে কারণে এখানে আবু হেনার বিকল্প নেই। তবে এলাকায় সক্রিয়ভাবে দলীয় নেতাকর্মিদের সার্বিক দেখভাল সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান করেন বলেও অভিমত রয়েছে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক জেলা সদরে সকল কর্মসূচী পালন করছেন। যে কারণে বাগমারাতে সবসময় উপস্থিত না থাকতে পারলেও নেতৃত্ব পর্যায়ে রয়েছে তার শক্ত অবস্থান। আর তার পাশে থেকে সার্বক্ষনিক দেখভাল করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাড. কামরুল মনির। তবে দলীয় কর্মসূচিতে না থাকায় অধ্যাপক আব্দুল গফুর বর্তমান সরকারের আমলেও রয়েছেন নিশ্চিন্তে। আর মুঠোফোন রাজনীতিতে আছেন আমেরিকা প্রবাসী ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম ও ড্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. আসফাকুর রহমান শেলী। তবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশী হলেও এখানে এ দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি অন্তদন্দ্ব।
বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান বলেন, বাগমারা বিএনপির ঘাটি। এই আসনে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত। এমপি নির্বাচন করার মত এখানে বেশ কিছু যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে এলে দল যাকেই ধানের শীষ প্রতীক দিবে বাগমারাবাসী তাকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
এছাড়া বাগমারা আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন লাভের জন্য এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অর্থিক অনুদান প্রদানের মাধ্যমে নিজের প্রার্থীতার বিষয়টি তুলে ধরে কেন্দ্রে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু তালেব। বিগত উপজেলা নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তার ছাতা মার্কা প্রতীক নিয়ে কুড়ি হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। এবার তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য পোষ্টারিং বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড প্রদর্শন শুরু করেছেন। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে নির্বাচন করলে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান আবু তালেব। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে যেসব আসন ছেড়ে দেয়ার কথা চলছে তারমধ্যে বাগমারা রয়েছে। এক্ষেত্রে তাকেই মহাজোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৪ জন এবং নারী ১ লাখ ৩৯ হাজার ২১৪ জন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher