শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

ত্রুটিপূর্ণ ভর্তি পদ্ধতিতে বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা : দায় এড়াতে পারে না কর্তৃপক্ষ

ত্রুটিপূর্ণ ভর্তি পদ্ধতিতে বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা : দায় এড়াতে পারে না কর্তৃপক্ষ

চলতি বছরের শুরুতে ‘মাস্টার অব সোস্যাল সায়েন্সেস ইন প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ’ বিষয়ে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত আবেদনের যোগ্যতা অনুযায়ী, প্রার্থীর কমপক্ষে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি (তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে মাস্টার্স ডিগ্রি), সব পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণী এবং গ্রেডিং পদ্ধতিতে জিপিএ/সিজিপিএ ৪-এর স্কেলে ২ দশমিক ৭৫ অথবা ৫-এর স্কেলে ৩ থাকতে হবে। যথারীতি শর্ত পূরণ করেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন করেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন কেউ কেউ। ক্লাসও করেন কয়েকটি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, কয়েক দিন পরই জানানো হলো, ভর্তির যোগ্যতা নেই তাদের। ফলে বাতিল করা হয় ভর্তি। মূলত ত্রুটিপূর্ণ ভর্তি পদ্ধতির কারণে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে এ ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অদায়িত্বশীলতারই পরিচায়ক।
বলা হচ্ছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডিÑ সব পর্যায়ে ভর্তির জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশী ডিগ্রিধারীদের সমতা নিরূপণ সনদ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এজন্য নাকি একটি উচ্চতর পর্যায়ের কমিটিও আছে। আলোচ্য কমিটির কাজ হলো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাই ও সনদের সমতা নিরূপণ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো বিভাগ এ ক্ষেত্রে কিছু মাত্রায় অবহেলা দেখাচ্ছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে সমতা নিরূপণের বিষয়টি উল্লেখ থাকলে ভর্তিচ্ছু প্রার্থীরা সেভাবেই অগ্রসর হতেন এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের কাজও সহজ হতো। এমন হলে ভর্তি পরীক্ষার আগেই কিছু আবেদনকারী বাদ পড়ে যেতেন। কিন্তু শর্ত পূরণপূর্বক আবেদন করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কারো ভর্তির যোগ্যতা নেই বলা কতটা যৌক্তিক। এটি সাধারণ নৈতিকতারও পরিপন্থী। বলতে গেলে, অস্পষ্ট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতির ভুক্তভোগী হচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এর দায় এড়াতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে ভর্তির কারণে সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি স্পষ্টত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীকে; দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে যা মোটেই কাম্য নয়। কোনো বিভাগের সংশ্লিষ্ট শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষেই কেবল একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো উচিত। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কয়েক দিন ক্লাস করার পর ভর্তির যোগ্য না বলা অনাকাক্সিক্ষত। এটি শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো পদ্ধতি হতে পারে না। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ভর্তি পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে বিভাগ এ ধরনের অসম্পূর্ণ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তারা যথাযথ কাজটি করেনি, আবার যেসব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ভর্তি বাতিলের ঘটনা ঘটেছে, তারা সুবিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে ভর্তিজনিত এ ধরনের বিড়ম্বনার অবসান জরুরি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher