মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্তে নেমেছে এনবিআর

ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্তে নেমেছে এনবিআর

বি নিউজ : সরকার দেশের আবাসন কোম্পানিগুলো থেকে কাক্সিক্ষত হারে ভ্যাট পাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে- বিপুলসংখ্যক আবাসন কোম্পানি দীঘদিন ধরেই হিসাবপত্রে কারসাজির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশাল অংকের ভ্যাট দিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে আবাসন কোম্পানিগুলোর ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটনে বিশেষ তদন্তে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোড (এনবিআর)। আর ইতিমধ্যে ভ্যাট ফাঁকি দেয়া সন্দেহভাজন অর্ধশতাধিক আবাসন কোম্পানির তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট রয়েছে। বর্তমানে ১৬শ’ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাটের বিক্রয়মূল্যের উপর ভ্যাটের হার ২ শতাংশ। আর ১৬শ’ বর্গফুটের বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটের ভ্যাটহার সাড়ে ৪ শতাংশ। আর আকার নির্বিশেষে একই ফ্ল্যাট দ্বিতীয়বার বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট ২ শতাংশ। বর্তমানে আবাসন কোম্পানিগুলোর সংগঠন রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত আবাসন কোম্পানির সংখ্যা ১ হাজার ২শ’। তার মধ্যে প্রায় ৮শ’ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর রিহ্যাবের সদস্য বহির্ভূত আরো প্রায় দেড় হাজার আবাসন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভ্যাট ফাঁকি দিতে অনেকেই প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম নিবন্ধন মূল্য দেখায়। আবাসন খাতের উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের মতে, ভ্যাট ও নিবন্ধন ফি অত্যধিক হওয়ার কারণেই অনেকে এমন পথ বেছে নিচ্ছে। যদিও আবাসন ক্ষেত্রে ভ্যাটহার ও নিবন্ধন ফি সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনার দাবিও দীর্ঘদিনের।
সূত্র জানায়, এনবিআর ইতিমধ্যে ৫টি আবাসন কোম্পানির নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওই অর্থ পরিশোধের জন্য দাবিনামা জারি করা হয়েছে। তবে আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা ওই ধরনের নিরীক্ষাকে হয়রানি বলে মনে করছে। আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব এ বিষয়ে এনবিআরকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে। তবে গত প্রায় দুই মাস আগে প্রথম ধাপে ২০টি আবাসন প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করে এনবিআরের ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা বিভাগ। ওসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনবিআর গঠিত টাস্কফোর্সের অধীনে বিশেষ তদন্ত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৩৫টি আবাসন কোম্পানির তালিকা করে ওসব প্রতিষ্ঠানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে ওসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিগত পাঁচ বছরের আবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ, বিক্রিসহ হিসাব চাওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওই খাতের সব কোম্পানিকে নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে। কোম্পানিগুলোর ভ্যাট পরিশোধের হালনাগাদ তথ্য, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সনদ, অডিট ফার্মের বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন, ২০১১ সাল থেকে হালনাগাদ পর্যন্ত ফ্ল্যাট বিক্রির নিবন্ধনের কপি, দাখিলপত্র, ক্রয়-বিক্রয়ের নথি, আমদানি ও স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের চালান এবং ভ্যাট চালান, বিক্রি বা সরবরাহ হিসাব নথি ও ট্রেজারি চালানের কপিসহ ভ্যাটসংক্রান্ত তথ্য দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে এনবিআরের আওতাধীন ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট আলাদাভাবে আবাসন কোম্পানিগুলোর ভ্যাট ফাঁকি তদন্তে কাজ করছে। ঢাকা দক্ষিণের ভ্যাট কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আবাসন কোম্পানিগুলোর ভ্যাট ইস্যু নিয়ে প্রথম উদ্যোগ এই কমিশনারেট থেকেই নেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে ৫টি আবাসন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নিরীক্ষা করে ৬৫ কোটি টাকার দাবিনামা জারি করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher