সোমবার, ০৬ Jul ২০২০, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন

তিস্তা-ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ বিপৎসীমার উপরে, নীলফামারী-কুড়িগ্রামে বন্যা

তিস্তা-ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ বিপৎসীমার উপরে, নীলফামারী-কুড়িগ্রামে বন্যা

বি নিউজ : কুড়িগ্রামে ধরলা-ব্রহ্মপুত্র ও নীলফামারীর তিস্তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরফলে প্লাবিত হয়েছে কুড়িগ্রামের দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চল এবং নীলফামারীর চরাঞ্চল। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। নিমজ্জিত হয়েছে ফসল ও গ্রামীণ সড়ক।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, অবিরাম বৃষ্টি আর উজান থেকে আসা ঢলে আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদী বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র চার সেন্টিমিটার ওপরদিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে আর ব্রহ্মপুত্র নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে তিনি জানান। প্রকৌশলী বলেন, পানি যে হারে বাড়ছে তাতে সন্ধ্যার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কুড়িগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ সম্প্রতি সংস্কার করায় এবার ধরলার পানি শহরে আসতে পারবে না। তবে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় নিমজ্জিত হয়েছে ফসল ও গ্রামীণ সড়ক। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীতীর ভাঙনের মাত্রা কিছুটা কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ছাড়া কিছু ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোয় বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান।

তিনি বলেন, সেসব এলাকায় তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, সবজি, তিল, আউশ ধান ও কাউনের ক্ষেত। বন্যা মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ভাঙনে পড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, বন্যা মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নীলফামারী: ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানায় নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল শুক্রবার ভোররাতের পর থেকে তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০ মিলিলিটার। টানা দুই দিনের বৃষ্টির ফলে তিস্তাসহ জেলার সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে আমন ধানের বীজতলার পাশাপাশি বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন পুকুরের মাছ বের হওয়ার ফলে মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। তিস্তার বন্যায় বসতঘরে পানি ঢুকছে। চরাঞ্চলে ১০ হাজার পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে গেছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন।

ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তার বন্যায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছচাঁপানী, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই সকল এলাকায় বসবাসকারীদের নিরপদে উঁচু স্থানে সরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার অধিকাংশ নিচু এলাকায় বন্যা দেয়া দিয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher