বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২০, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

দাফনে অংশ নেয়ায় ইমামকে চাকরিচ্যুত: সোনাগাজীর ইউএনও-মেয়রকে নোটিশ

দাফনে অংশ নেয়ায় ইমামকে চাকরিচ্যুত: সোনাগাজীর ইউএনও-মেয়রকে নোটিশ

বি নিউজ : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন কাজে অংশ নেয়ায় ফেনীর সোনাগাজীর বক্স আলী ভূঁইয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. নূর উল্যাহকে চাকুরিচ্যুতির ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পৌরসভার মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ইমেইল এবং এসএমএস মারফত সংশ্লিষ্টদের কাছে এই নোটিশ পাঠান। সোনাগাজীর ইউএনও-মেয়র ছাড়াও এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে। চাকরিচ্যুত ইমামকে স্বপদে বহাল করার দাবি জানিয়ে নোটিশে বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, একটি জাতীয় দৈনিকে ‘করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির দাফন করায় ইমাম চাকুরিচ্যুত’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফেনী জেলার সোনাগাজী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বক্স আলী ভূঁইয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. নূর উল্যাহ করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির দাফন কাজে সহায়তা করায় তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার সাতারবাড়িয়া গ্রামে আছেন। নোটিশে আইনজীবী বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজীর ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী মাওলানা নূর উল্যাহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজী উপজেলার করোনা বা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণকারীদের দাফন কমিটির একজন সদস্য। গত ১৭ জুন মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা জিয়াউল হক করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে নূর উল্যাহ ওই দাফন-কাফনের কাজে অংশ নেন। এর ফলে কমিটির অনুমতি না নিয়ে দাফনে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে তাকে ইমামের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব ও সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ অবগত আছেন। আইনজীবী আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে নিজের আত্মীয়-স্বজনও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এমনকি সন্তান তার মাতা-পিতাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার নজিরও দেখা যায়। অথচ মাওলানা নূর উল্যাহ ইসলামের বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপরন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক গঠনকৃত দাফন কমিটির একজন সদস্য হিসাবে তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি অত্যন্ত মহৎ ও প্রসংশনীয় কাজ। এ কাজে অংশ নিয়ে তিনি দেশের কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। তিনি অশালীন ও অমানবিক কোনো কাজও করেননি। বরং তিনি ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এমতাবস্থায় তাকে সাময়িকভাবে ইমামের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো আইনগত বা নৈতিক কারণ থাকতে পারে না। তাকে অনতিবিলম্বে স্বপদে বহাল করে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তার উপর এই বেআইনি ও অমানবিক শাস্তি আরোপের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো, নোটিশে বলেন আইনজীবী শিশির মনির।
জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার ৪নং ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামের বাসিন্দা ফেনী-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চাচা সোনাপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা জিয়াউল হক গত ১৭ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। যার কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজীর কাফন-দাফন টিম। সে টিমের একজন সদস্য হিসেবে মাওলানা নুরুল্লাহও দাফন কাজে উপস্থিত ছিলেন। যার কারণে মসজিদ কমিটি তাকে ১৯ জুন ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহিত দেয়। তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়। মাওলানা নুরুল্লাহ ২০১৪ সাল থেকে ওই মসজিদে সুনামের সঙ্গে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কমিটি ও মুতাওয়াল্লিদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলাউল বলেন, মাওলানা নুরুল্লাহর বিষয়ে কমিটির অভিযোগ তিনি কমিটির অনুমতি না নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত দুইজন ব্যক্তির দাফন-কাফনে (গোসল ও আনুষঙ্গিক কাজ) অংশগ্রহণ করেন। তাই ইমামের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে ছুটি দেয়া হয়েছে। মসজিদের মুতাওয়াল্লি আলমগীর বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মসজিদে উপস্থিত ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে সব কিছু আমার জানা নেই। সাধারণ মুসল্লিদের জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির দাফন কাজে অংশ নেয়ার কারণে ইমাম সাহেবকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া নির্দয় আচরণ। মুসল্লিদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল্লাহ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় করোনাকালে সারাদেশে ওলামায়ে কেরাম সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে করোনায় আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির দাফন কাজে এগিয়ে এসেছে। যার ধারাবাহিকতায় সোনাগাজী উপজেলাতেও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সোনাগাজী উপজেলা কাফন- দাফন টিমের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনও কাফন-দাফন টিম নিয়ে কাজ করছে। যার একজন সদস্য হিসেবে আমিও সে কাজে অংশগ্রহণ করি। সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অজিদ দেব স্যারের নির্দেশে আমরা সর্বোচ্চ সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করেছি। যদি এ কারণে আমার চাকরি চলে যায় তবে তাতে আমার দুঃখ নেই। মানবতার কল্যাণে আমি নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখবো। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজীর ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর বলেন, মাওলানা নুরুল্লাহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজী উপজেলা করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন কমিটির একজন সদস্য। উনাকে মসজিদে প্রবেশ করতে না দেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব স্যার ও সোনাগাজী পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন সাহেবকে অবগত করেছি। ওঁরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তবে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, বিষয়টি আমি শুনিনি। মসজিদ কমিটি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সোনাগাজীর ফিল্ড সুপারভাইজার ও মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 bnewsbd24.Com
Design & Developed BY Md Taher